অন্ধকারের অন্তর্ঘাত

Chapter 1

সিটি হসপিটালের করিডোরটা কৃত্রিম আলোয় ভেসে আছে—নির্দয়, সাদা, নির্বিকার। সেই আলো চিরে টলমলে পায়ে এগিয়ে আসছিল একজন ৩২ বছর বয়সী পুরুষ। প্রতিটি পা ফেলতেই যেন মেঝেতে লেগে থাকছিল তার যন্ত্রণার ছাপ। র*ক্তে ভেজা শরীর, ছেঁড়া পোশাক, আর বুকের মাঝখান থেকে গড়িয়ে পড়া উষ্ণ লাল স্রোত—সব মিলিয়ে সে যেন মানুষ নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উঠে আসা এক জীবন্ত ধ্বংসস্তূপ। ❤️ 😂 😮 😢

করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো প্রথমে থমকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে সরে যেতে লাগল। কেউ এগিয়ে এলো না। ❤️ 😂 😮 😢

মানুষ সত্যিই স্বার্থপর—একজন আহত মানুষকে সাহায্য করার বদলে তারা দূরে সরে যায়, হয়তো ভয় পেয়ে, নয়তো ঝামেলায় জড়াতে না চেয়ে। ❤️ 😂 😮 😢

সেই করিডোর দিয়েই এগিয়ে আসছিল ২৬ বছর বয়সী ডা. আরশী রহমান অরা, সাথে তার সিনিয়র সহকর্মী ডা. সাফিন। মাত্র কয়েক মাস হলো হাসপাতালে জয়েন করেছে সে, কিন্তু অল্প সময়েই নিজের দক্ষতায় সুনাম কুড়িয়েছে। ❤️ 😂 😮 😢

হঠাৎ অরার চোখ পড়ে আহত লোকটার দিকে। সে কিছু বলতে চাইছিল, কিন্তু তার আগেই অরার উপর লুটিয়ে পড়ে। ক্ষীণ কণ্ঠে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"আমার গু*লি লেগেছে…" ❤️ 😂 😮 😢

ডা. সাফিন দ্রুত তাকে সামলে নিলেন। ওয়ার্ড বয়রা স্ট্রেচার নিয়ে এসে তাকে শুইয়ে দিল। অরা দ্রুত পালস চেক করে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"ওনার গু*লি লেগেছে। প্রচুর ব্লাড লস হয়েছে। তাড়াতাড়ি ব্লাডের ব্যবস্থা করতে হবে, আর অপারেশন প্রস্তুত করুন।" ❤️ 😂 😮 😢

সাফিনের মুখ শক্ত হয়ে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

"উনি কে, কী পরিচয়—কিছু না জেনে অপারেশন? এটা পুলিশ কেস। পুলিশ আসার আগে কোনো চিকিৎসা হবে না।" ❤️ 😂 😮 😢

অরার চোখে তীব্রতা— ❤️ 😂 😮 😢

"এইসব জানতে জানতে যদি উনি মারা যান?" ❤️ 😂 😮 😢

"ওটা আমাদের দায়িত্ব না।" ❤️ 😂 😮 😢

অরা এবার দৃঢ় গলায় বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"এটাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা শপথ নিয়েছি—মানুষকে মানুষ হিসেবে চিকিৎসা করব, তার পরিচয় দেখে নয়।" ❤️ 😂 😮 😢

সাফিন ঠান্ডা কণ্ঠে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"বিল দেবে কে?" ❤️ 😂 😮 😢

অরা মৃদু হেসে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"শেষমেশ আসল কথায় এলেন। যদি টাকাই সমস্যা হয়, পুরো খরচ আমি দেব।" ❤️ 😂 😮 😢

তখনই একজন সিনিয়র ডাক্তার ছুটে এসে চমকে উঠলেন— ❤️ 😂 😮 😢

"আরে! উনি তো SP আহিল শেখ!" ❤️ 😂 😮 😢

চারপাশে হুলস্থুল পড়ে গেল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত, ব্লাডের ব্যবস্থা, খবর পৌঁছে গেল পরিবার ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারে। ❤️ 😂 😮 😢

অরা সব দেখছিল—আর ভাবছিল, কিছুক্ষণ আগেও যিনি চিকিৎসা আটকাচ্ছিলেন, এখন তিনিই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। ❤️ 😂 😮 😢

হয়তো এটাই নাম আর ক্ষমতার প্রভাব। ❤️ 😂 😮 😢

চার ঘণ্টার অপারেশনের পর জ্ঞান ফেরে আহিল শেখের। দুই দিন ঘুমের মধ্যেই কেটে যায়। আজ সকালে চোখ খুলতেই দেখতে পায়—তার চারপাশে পরিচিত মুখ। ❤️ 😂 😮 😢

বাবা আফজাল শেখ, মা আমিনা শেখ, ছোট বোন অহনা, আর তার দুই বন্ধু রাফিন ও তুষার। পুরো কেবিন যেন হাসপাতাল না, ছোটখাটো কোনো মিলনমেলা। ❤️ 😂 😮 😢

কিছুক্ষণ পরই আহিল উঠে বসে বলে— ❤️ 😂 😮 😢

"আমি আর শুয়ে থাকতে পারছি না। অনেক কাজ বাকি।" ❤️ 😂 😮 😢

তুষার মুচকি হেসে বলে— ❤️ 😂 😮 😢

"এইজন্যই আঙ্কেল-আন্টিকে বাড়ি পাঠালি?" ❤️ 😂 😮 😢

রাফিন কড়া গলায় বলে— ❤️ 😂 😮 😢

"তোর হার্টের কাছে গু*লি লেগেছে। শরীরের অবস্থা দেখেছিস? তোর রেস্ট দরকার।" ❤️ 😂 😮 😢

আহিল শান্তভাবে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"এখন রেস্ট নেওয়ার সময় নেই। আমি Devil King-কে প্রায় ধরে ফেলেছিলাম।" ❤️ 😂 😮 😢

ঠিক তখনই কেবিনে ঢোকে অরা। ❤️ 😂 😮 😢

ঘরে ঢুকেই সে দৃশ্য দেখে থমকে যায়— ❤️ 😂 😮 😢

পেশেন্ট দাঁড়িয়ে, আর অন্য কেউ তার বেডে শুয়ে! ❤️ 😂 😮 😢

গলা শক্ত করে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"এখানে কী হচ্ছে?" ❤️ 😂 😮 😢

তুষার কাঁপা গলায়— ❤️ 😂 😮 😢

"আমি… ওই…" ❤️ 😂 😮 😢

"বেড থেকে নামুন।" ❤️ 😂 😮 😢

ধপ করে নেমে গেল তুষার। ❤️ 😂 😮 😢

অরা এবার আহিলের দিকে তাকাল— ❤️ 😂 😮 😢

"আপনি বেডে কেন নেই? আর এই পোশাক?" ❤️ 😂 😮 😢

"আমার ডিউটিতে ফিরতে হবে।" ❤️ 😂 😮 😢

অরা ঠান্ডা গলায় বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"আপনি প্রধানমন্ত্রী হলেও এখানে আপনার একটাই পরিচয়—আপনি পেশেন্ট, আর আমি আপনার ডাক্তার। আমি রিলিজ না দেওয়া পর্যন্ত আপনি কোথাও যাবেন না।" ❤️ 😂 😮 😢

এক মুহূর্ত চুপ থেকে আহিল বেডে শুয়ে পড়ল। ❤️ 😂 😮 😢

সবাই অবাক। ❤️ 😂 😮 😢

যে মানুষটাকে সবাই ভয় পায়, সে আজ এক ডাক্তারের ধমকে চুপচাপ! ❤️ 😂 😮 😢

অরা ক্ষত ড্রেসিং করতে করতে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"এখনো ব্যথায় ‘ওফ’ করেন, অথচ পালানোর প্ল্যান করেন!" ❤️ 😂 😮 😢

আহিল হালকা হাসল— ❤️ 😂 😮 😢

"আমি পালাই?" ❤️ 😂 😮 😢

"নিশ্চয়ই।" ❤️ 😂 😮 😢

পাশ থেকে তুষার ফিসফিস করে— ❤️ 😂 😮 😢

"রাফিন, যা ভাবছি তুইও কি তাই ভাবছিস?" ❤️ 😂 😮 😢

"হ্যাঁ ভাই… এদের জুটি একদম পারফেক্ট!" ❤️ 😂 😮 😢

অহনা মুচকি হেসে বলে— ❤️ 😂 😮 😢

"আমার ভাবি হিসেবে দারুণ লাগবে।" ❤️ 😂 😮 😢

ড্রেসিং শেষ হলে অরা বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"দুই দিনের মধ্যে রিলিজ পাবেন। ততক্ষণ শান্ত থাকবেন।" ❤️ 😂 😮 😢

আহিল ধীরে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"ঠিক আছে… আর… ধন্যবাদ।" ❤️ 😂 😮 😢

"কিসের জন্য?" ❤️ 😂 😮 😢

"সেদিন আমার জন্য লড়ার জন্য।" ❤️ 😂 😮 😢

অরা একটু থেমে বলল— ❤️ 😂 😮 😢

"আপনার জায়গায় অন্য কেউ হলেও আমি একই কাজ করতাম।" ❤️ 😂 😮 😢

আহিল মৃদু হাসল— ❤️ 😂 😮 😢

"তবুও… আজ আপনি আমার জন্য করেছেন।" ❤️ 😂 😮 😢

ঠিক তখনই কেবিনে ঢোকেন DIG আকরাম রহমান। ❤️ 😂 😮 😢

অরা এগিয়ে গিয়ে বলে— ❤️ 😂 😮 😢

"পাপা…" ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8