পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যেই যুদ্ধটা হয়েছিল সেই যুদ্ধটার নাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাম শুনেই আপনারা বুঝতে পারছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেও সম্ভবত একটা বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল যেটার নাম ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। বাট প্রথমটা দ্বিতীয়টার কাছে কিছুই ছিল না। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারকে বলা হয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্করতম যুদ্ধ যেখানে অনেক মানুষ মারা গিয়েছে, পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটা দেশ হয় ডিরেক্টলি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে বা ইনডিরেক্টলি এই যুদ্ধে ইন্ধন দিয়েছে। এবং সব মিলায়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো একটা ইভেন্ট আর কখনো পৃথিবীর ইতিহাসে আসবে বলে মনে হয় না। ❤️ 😂 😮 😢
আজকের এই গল্পে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস বোঝার চেষ্টা করব। আমরা বোঝার চেষ্টা করব এই যুদ্ধ কীভাবে শুরু হইল, কেন হইল, কারা এই যুদ্ধ করেছিল এবং ফাইনালি যুদ্ধের রেজাল্ট কী হয়েছিল। চলেন শুরু করা যাক। ❤️ 😂 😮 😢
১৯১৯ সালে, যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়, তখন জার্মানিকে একটা ট্রিটিতে সাইন করতে হয়। দ্যা ট্রিটি অফ ভার্সাই। এই ট্রিটি জার্মানদের জন্য খুব একটা পজিটিভ ট্রিটি ছিল না। এই ডিলটায় জার্মানদের উপরে অনেকগুলো নিষেধাজ্ঞা আরোপিত করা হয়েছিল। যেমন বলা হয়েছিল জার্মানদের এক লাখের বেশি আর্মি থাকতে পারবে না, জার্মানদের কোনো নেভি থাকতে পারবে না, জার্মানদের কোনো সাবমেরিন থাকতে পারবে না এরকম অন্যান্য অনেকগুলো রেস্ট্রিকশন দেওয়া হয়েছিল জার্মানি দেশটার উপরে। শুধু তাই না, বলা হয়েছিল ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ারে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে, পৃথিবীর যেই কয়টা দেশ জার্মানির দ্বারা ক্ষতিসাধিত হইছে এই প্রত্যেকটা দেশকে জার্মানির এখন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং জার্মানি কিন্তু এই ট্রিটিতে সাইন করছিল। ❤️ 😂 😮 😢
আপনার ওই সময়ের অবস্থাটা বুঝতে হবে। ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ার শেষ হয়েছে, পুরা পৃথিবীর ইকোনমি বেশ বাজে অবস্থা, জার্মানিরও অনেক বাজে অবস্থা, জার্মানির নিজের দেশের মানুষই ঠিকঠাকমতো খাইতে পারতেছে না, চলতে পারতেছে না। এইরকম এক সময়ে ওই দেশের মানুষ যখন জানতে পারল যে হ্যাঁ, এখন আমাদের পৃথিবীর বাকি দেশদেরকে টাকা দিতে হবে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ারে যা হয়েছিল ওই জন্য, আমরা আমাদের নিজেদের আর্মির উপরে খরচ করতে পারব না, আমরা নিজেদের সাবমেরিন... জার্মানিদের উপরে, যারা জার্মান মানুষ, তাদের উপরে এই ব্যাপারটা খুব স্ট্রংলি আঘাত করে, যে আমরা মনে হয় পুরা দুনিয়ার দ্বারা একটু অপরেসড। ❤️ 😂 😮 😢
এইরকম যখন অবস্থা জার্মানির, তখন জার্মানিতে একজন রাজনীতিবিদ ছিল, যিনি জার্মান মানুষদের বলে, তোমরা যদি আমাকে ইলেক্ট করো, তোমরা যদি আমাকে তোমাদের প্রধান বানাও, তাইলে আমি কয়েকটা জিনিস করব। এক নাম্বার জিনিস আমি ট্রিটি ফ্রিটির ধার ধারব না, ট্রিটিতে কী আছে না আছে আমার কিছু যায় আসে না, জার্মানি পৃথিবীর অন্যান্য দেশকে টাকা দিবে না। সেকেন্ড, জার্মানির মানুষ শুধুমাত্র জার্মানির ব্যাপারে কেয়ার করবে, অন্যান্য কোনো দেশ পুরা পৃথিবীতে কী হচ্ছে তাতে আমাদের কিছু যায় আসবে না। থার্ড, জার্মানি শুধু যে নিজেদের উপরে কেয়ার করবে তা না, আমরা পুরা পৃথিবীতে জার্মানিকে বড় করব। আশপাশের যেসব দেশ আছে, সেগুলাকেও আমরা নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব, জার্মানি হবে পৃথিবীর এক নাম্বার দেশ এবং এটাই আমার স্বপ্ন। যদি তোমরা এই স্বপ্নতে একমত হও, তাহলে তোমরা আমাকে ভোট দাও। ❤️ 😂 😮 😢
এই রাজনীতিবিদ বিশাল জনপ্রিয়তা পায় এইসব কথাবার্তা বলে এবং ১৯৩৩ সালে মানুষজন একে ভোট দিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর বানায় এবং এই রাজনীতিবিদের নাম আপনারা সবাই জানেন, ইনার নাম অ্যাডলফ হিটলার। ❤️ 😂 😮 😢
সে সরকার প্রধান হয়ে যায় হিটলার এবং উনার যে বাহিনী, বা তখন অ্যাকচুয়ালি একটা রাজনৈতিক দল, নাৎসি বাহিনী, যেটা আমরা এখন বাহিনী বলি বাট তখন আসলে রাজনৈতিক দল ছিল, এই নাৎসি পার্টিটা হয়ে যায় জার্মানির প্রধান রাজনৈতিক পার্টি। এখন মজার ব্যাপার দেখেন, হিটলার যখন জার্মানির চ্যান্সেলর হয়, তখন কিন্তু এমন না যে শুধুমাত্র জার্মানি একটা দেশ ওইখানে একটা ফার রাইট উদ্ভব হচ্ছে, বাকি পুরা দুনিয়া নরমাল আছে, এরকম কিন্তু না সিচুয়েশনটা। আপনারা অনেকেই মুসোলিনির নাম শুনছেন হয়তো। মুসোলিনি লোকটা ওই একই সময়ে মোটামুটি একই টাইপ উইন্ডোতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী হয় এবং ইতালির রাজধানী আপনারা জানেন, রোম। রোম ছিল একসময় পুরা পৃথিবীর শাসক। ইনফ্যাক্ট, রোম এতো পাওয়ারফুল ছিল একসময় আপনারা হয়তো জুলিয়াস সিজার ইত্যাদি ইত্যাদি গল্প পড়েছেন। রোম এতো পাওয়ারফুল ছিল রোম কিন্তু ইংল্যান্ডকেও শাসন করছে। আপনারা যারা আমার ইংল্যান্ডের ভিডিওটা দেখেছেন তারা দেখেছেন যে আমি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গা দেখিয়েছি যেসব জায়গায় রোমানরা বানিয়েছিল। কারণ ওইসব জায়গায় রোমানরা ঐযে ফাইট টাইট করাইতো গ্ল্যাডিয়েটরদের দিয়ে। তো যাহোক, মুসোলিনি যখন ইতালির প্রধানমন্ত্রী হয়, তখন মুসোলিনি বলে শুধুমাত্র জার্মানি হিটলার ওরা পুরা পৃথিবী দখল করবে তা না, রোমানরাও একসময় পুরা পৃথিবী শাসন করতো আমরা আবার ইতালির পুরা পৃথিবীর মেইন দেশ বানাবো, আমরা আবার পুরা পৃথিবী শাসন করতে চাই, আমরা রোমান এম্পায়ার ফেরত নিয়ে আসতে চাই। ❤️ 😂 😮 😢
এটা একটা খুব অদ্ভুত সময় ছিল, কারণ এই সময় ইভেন এমন দেশ যেসব দেশকে আপনি ভাবেন যে এই দেশ কখনো ঝামেলায় জড়াবে না এটা শান্তিপূর্ণ একটা দেশ এইরকম দেশও এই সময় ঝামেলায় জড়াইতো। আমি এক্সাম্পল দেই, জাপান। জাপান এই সময় প্ল্যান করতেছিল যে কীভাবে ওরা চায়নার একাংশ দখল করে ফেলবে এবং সাউথ ইস্ট এশিয়ারও একাংশ দখল করে কীভাবে ওরা জাপান দেশটাকে বড় করবে। ❤️ 😂 😮 😢
যাহোক মানুষজন ভয়ঙ্কর রকম পছন্দ করে হিটলারকে জার্মানিতে। নাৎসি পার্টি ছিল ওই সময় সবচেয়ে জনপ্রিয় পার্টি এবং প্রত্যেক হাউজহোল্ড থেকে, এটা ইতিহাসে কখনো হয় নাই জার্মানির এর আগে, প্রত্যেক বাসার থেকে হিটলার ভোট পায়, যেটা আগে কখনো হয় নাই। এবং নাৎসি পার্টি ক্ষমতায় চলে আসে। ক্ষমতায় আসার পরে হিটলার প্রথমেই একটা ইন্টারেস্টিং কাজ করে। ও যা প্রমিস করছিল তাই করে, কোনো প্রমিসের ব্যত্যয় নেই। ১৯৩৬ সালে ওর ডি-মিলিটারাইজড একটা জোন ছিল যেটা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ারের পরে বলা হয়েছিল যে এইখানে এখন আর কোনো আর্মি যাইতে পারবে না যেটা আমরা এখন সাউথ কোরিয়া এবং নর্থ কোরিয়ার মাঝখানে দেখি ডি-মিলিটারাইজড জোন আছে। তো ওই ডি-মিলিটারাইজড জোনে হিটলার জার্মান আর্মি পাঠায়ে দখল করে ফেলে। তো সবাই ভাবে তেমন কোনো রিটালিয়েশন আসে না তেমন কোনো প্রতিবাদ আসে না কোথাও থেকে। সবাই ভাবে যে হ্যাঁ নতুন একটা ফার রাইট উইং এরকম একজন প্রধানমন্ত্রী আসছে জার্মানির একটা বড় দেশ ঠিক আছে উনি মনে হয় থেমে যাবে। হিটলার থামে না, তার দুই বছর পরে ও আর্মি পাঠায়ে অস্ট্রিয়া দখল করে ফেলে। ❤️ 😂 😮 😢
পুরা ইউরোপ একদম নড়েচড়ে বসে যে কী হইল! জার্মানির মতো একটা পাওয়ারফুল দেশের সাথে তো পুরা ইউরোপ মারামারি করতে পারবে না এবং এভাবে যদি একটা জার্মান দেশ পুরা ইউরোপ আস্তে আস্তে এভাবে অ্যাটাক করা শুরু করে, পুরা ইউরোপে ইনসটেবিলিটি চলে আসবে তখন তো আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফিনিয়ন ছিল না। সো সব দেশই একটু শঙ্কায় পড়ে যায় যে এখন কী হবে। তো সব দেশ মিলে হিটলারকে ডাকে। মিউনিখে জার্মানির। ওইখানে একটা মিটিং হয় এবং মিটিং-এ হিটলারকে বলে যে, আমরা চাই না ইউরোপ ছোট্ট একটা কন্টিনেন্ট আমরা চাই সবাই মিলে একদম শান্তিতে থাকব। তুমি যেভাবে একের পর এক দেশ অ্যাটাক করতেছো এটা খুব একটা ভালো হচ্ছে না আমরা প্রতিবাদ করতেছি, তুমি থামো। কী হলে তুমি থামবা বলো। ❤️ 😂 😮 😢
হিটলার এমন খারাপ, ও বলে যে ঠিক আছে আমি আর কোনো যুদ্ধ টুদ্ধ করব না তোমাদের জাস্ট একটা কাজ করতে হবে, ওই যে ওইখানে একটা দেশ আছে চেকোস্লোভাকিয়া, এই দেশটা যদি তুমি জার্মানিকে দিয়ে দাও, তাইলে আমি আর আপাতত যুদ্ধ টুদ্ধ করব না। মজার ব্যাপার হইল অ্যাকচুয়ালি এই ট্রিটিটা হয়, এটাকে মিউনিখ ট্রিটি বলে। এবং হিটলারকে চেকোস্লোভাকিয়া দিয়ে দেওয়া হয় উইথ অ্যা হোপ, এই হোপে যে ও আর জার্মানিকে এক্সপ্যান্ড করার চেষ্টা করবে না। কারণ ততদিনে অলরেডি অস্ট্রিয়া জার্মানির ভিতরে চলে আসছে। ততদিন এখন চেকোস্লোভাকিয়া জার্মানির ভিতরে চলে আসছে এবং এগুলা তো বড় বড় দেশ। আশপাশে অনেক গেঞ্জামওয়ালা দেশ ছিল যে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ারের পরে ঠিকমতো ছাড়ে নাই ইউকে, এই টাইপ সবকিছু ওর মধ্যে কিন্তু জার্মানি দখল করে ফেলছে। ❤️ 😂 😮 😢
এখন আপনি মজার ব্যাপারটা দেখেন। একটু আগে মনে আছে আমি মুসোলিনির কথা বলতেছিলাম যে রোমান সাম্রাজ্য বানাবে এরকম পরিকল্পনা করছে। সো মুসোলিনি ওইখানে হিটলারকে দেখে, যে হ্যাঁ হিটলার তো একের পর এক দেশ দখল করে ফেলতেছে, আমরা তো পিছায়ে পড়তেছি রোমান সাম্রাজ্য বানানোর কী হবে? কথা নাই বার্তা নাই ইতালি হুট করে যেয়ে ইথিওপিয়া দখল করে ফেলে। ওইখানে একটা যুদ্ধ হয়, খুব বেশি দিনের যুদ্ধ এরকম না। ইতালি তখন অনেক পাওয়ারফুল, ইথিওপিয়ার কোনো পাওয়ার তখনো ছিল না, এখনো হয়তো সেরকম কোনো পাওয়ার নাই। ইথিওপিয়া হয়ে যায় ইতালি। পুরা দুনিয়ায় একটা ভয়ঙ্কর অস্থিরতা চলে আসে, কোনো দেশই সেফ না, সব দেশই আতঙ্কে যে আমাকে মনে হয় জার্মানি অ্যাটাক করবে, আমাকে মনে হয় ইতালি অ্যাটাক করবে, আমাকে মনে হয় কেউ না কেউ নিয়ে যাবে, আমি যে আমার দেশ হয়ে আছি কতদিন থাকতে পারব আমি জানি না। এবং তাই হয়, তার ঠিক কয়েকদিন পরে ওই যে ট্রিটি হয়েছিল, মিউনিখ ট্রিটি, যেখানে হিটলার বলছিল যে না আমি আর কোনো দেশ অ্যাটাক করব না আপাতত, ওই ট্রিটি হিটলার ভেঙে ফেলে এবং ও পোল্যান্ড অ্যাটাক করে বসে। ❤️ 😂 😮 😢
পোল্যান্ডকে যখন অ্যাটাক করা হয়, তখন বড় দুইটা দেশ ইউরোপের ভিতরে সবচেয়ে বড় দুইটা দেশ, গ্রেট ব্রিটেন যেটা ইউনাইটেড কিংডম এবং ফ্রান্স, এই দুইটা দেশ নড়েচড়ে বসে। কারণ ওরা ভাবে যে জার্মানি যদি পোল্যান্ড পর্যন্ত চলে আসে জার্মানি যদি এভাবে পোল্যান্ড নিয়ে ফেলে, তাহলে হোয়াট স্টপস জার্মানি যে ওরা ইউকেও নিয়ে নিতে চাবে না? হোয়াট স্টপস জার্মানি যে ওরা ফ্রান্সও নিয়ে নিতে চাবে না? সো ইউকে এবং ফ্রান্স এই দুই দেশ একত্রিত হয় এবং বলে যে আমরা জার্মানিকে আর আগাইতে দিব না আমরা হিটলারকে আর আগাইতে দিব না আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করতেছি। ১৯৩৯ সালে ইউকে এবং ফ্রান্স মিলে এই ঘোষণাটা দেয় যে আমরা যুদ্ধ শুরু করতেছি আমরা প্রতিবাদ শুরু করতেছি প্রতিরোধ শুরু করতেছি। যেহেতু ১৯৩৯ সালে এই ঘোষণা আসে এই কারণে সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম বছর ধরা হয় ১৯৩৯ সালকে। হাউএভার যুদ্ধ কিন্তু আরো আগে থেকেই চলতেছে, জার্মানি দখল টখল আরো আগে থেকেই শুরু করে দিছিল। যুদ্ধ শুরু হয়। ❤️ 😂 😮 😢
এখন আপনি দেখেন ব্যাপারটা কী হচ্ছে। জার্মানি ফাইট করতেছে ইউকে এবং ফ্রান্সের মিত্রবাহিনীর সাথে। দুইজন একসাথে মিলে এক বাহিনী হইছে এই কারণে এটাকে বলে মিত্রবাহিনী, বাংলায় আমরা মিত্রবাহিনী বলি এমনিতে অ্যালাই ফোর্স বলে। তো মিত্রবাহিনীর সাথে জার্মানি যুদ্ধ করতেছে জাস্ট নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য কারণ এরা রেগুলারলি জার্মানিকে অ্যাটাক করতেছে থামানোর জন্য। আবার অন্যদিকে জার্মানি অনেকগুলো দেশ তো অলরেডি দখল করে ফেলছে, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। ওইসব দেশ এখন দখল করে আর্মি সরায়ে নিয়ে আরেক জায়গায় চলে যাওয়া যায় না। ওইসব দেশে গেরিলা অ্যাটাক ট্যাটাক হচ্ছে সো ওইসব দেশে জার্মানির আর্মির থাকতে হচ্ছে ওইসব দেশকে দখলে রাখার জন্য। ওই জিনিস চলতেছে। অনেকে ভাবে যে জার্মানি এতগুলা যুদ্ধ কীভাবে করবে, এইবার মনে হয় হিটলার থামবে। কারণ এত জিনিস একসাথে ম্যানেজ করা তো সম্ভব না। এত বড় বড় দুইটা দেশের সাথে মারামারি চলতেছে আবার অনেকগুলা দেশ দখল করছে ওগুলা ম্যানেজ করতে হচ্ছে মনে হয় আর বাড়া সম্ভব না। এইরকম যখন সবাই ভাবতেছে, তখন জাস্ট এক সপ্তাহের মধ্যে ডেনমার্ক এবং নরওয়েও জার্মানির কাছে চলে যায়। ❤️ 😂 😮 😢
কেউ এক্সপেক্টই করে নাই যে এত ঝামেলার মধ্যেও হিটলার নতুন দেশ অ্যাটাক করার সাহস পাবে। হিটলার ঠিক এই কাজটাই করে। নতুন দুইটা দেশ জার্মানির ভিতরে ঢুকে পড়ে। তার কিছুদিন পরে আপনারা বুঝতে পারতেছেন কাহিনী কোনদিকে যাচ্ছে। বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডও জার্মানির কাছে চলে যায়। সেম পদ্ধতি, জার্মান আগ্রাসন বাড়তেই থাকে। সিস্টেমটা এমন ছিল যে একটা দেশ দখল করতেছি, ওই দেশে কিছু জার্মান আর্মি বসাচ্ছি তারপরে বর্ডার পার হয়ে তার পরের দেশে চলে যাচ্ছি এবং ইউরোপ আপনারা যারা ম্যাপে দেখবেন আপনারা দেখবেন যে একের পর এক দেশ। পাশাপাশি দেশ, সেনজেন ভিসা, এক ভিসায় ২৮ টা দেশ। ওই ব্যাপারটা। সো একের পর এক দেশ এবং জার্মান আর্মি একের পর এক দেশ দখল করতে করতে আগায় যাচ্ছে। ❤️ 😂 😮 😢
এবং ভয়ঙ্কর ব্যাপার কী দেখেন। ১৯৪০ সালে ফ্রান্স যে ইংল্যান্ডের সাথে বলছিল যে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স আমরা মিত্রপক্ষ আমরা দুইজন মিলে জার্মানিকে আটকাবো। এই ফ্রান্স জার্মানি দখল করে ফেলে। হিটলারের হাতে অলমোস্ট পুরা ইউরোপ চলে আসে। হিটলারকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে পাওয়ারফুল মানুষ কারণ পুরা একটা মহাদেশ পুরা এতগুলা দেশ একটা মানুষের কাছে। অন্য কেউ হলে হয়তো থামতো। বাট হিটলার তো হিটলার। ও বলে যে থামবো কেন? এতদূর পর্যন্ত আসছি এতগুলা দেশ দখল করছি আমরা আরেকটু আগাই আমরা রাশিয়াও দখল করে ফেলার চেষ্টা করি। মস্কো শহরটা অনেক সুন্দর মস্কো শহরটা আমার অনেক ভালো লাগে, আমি আমার আর্নিকে বলবো তোমরা আরেকটু আগাও আরও কিছুদিন মনোবল রাখো যদি তোমরা মনোবল রাখতে পারো তাহলে আমরা মস্কোও দখল করে ফেলতে পারব। অপারেশন বারবারোসা বলা হয় এই ব্যাপারটাকে। প্রায় ৩০ লাখ আর্মি নিয়ে ৩০ লাখ আর্মি নিয়ে জার্মান সৈন্যরা রাশিয়ায় প্রবেশ করে উদ্দেশ্য পুরা রাশিয়াকে দখল করে জার্মানি বানায় ফেলা। ইনিশিয়ালি মনে হচ্ছিল জার্মানি জিতবে এই যুদ্ধে। হাউএভার রাশিয়ান আর্মি খুবই স্ট্রং প্রতিরোধ শুরু করে। এর মধ্যে রাশিয়ায় শীতকালও চলে আসে যেটা খুব বড় একটা রোল প্লে করেছে। জার্মান আর্মি রাশিয়ান শীতে কাঁপতে থাকুক আমরা একটু পৃথিবীর অন্য প্রান্তে আসি। ❤️ 😂 😮 😢
মনে আছে আমি একটু আগে আপনাদের বলতেছিলাম যে পৃথিবীর অনেক দেশ যেসব দেশ আসলে বেশ শান্তিপূর্ণ কোনো ঝামেলা নাই এরকম দেশগুলো এই সময় পাগল পাগল আচরণ করতেছিল। সো ইউরোপে যখন এরকম ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলতেছে ঐরকম সময় জাপান কোনো কথা নাই বার্তা নাই হঠাৎ করে হাইতি দখল করার চেষ্টা করে। আপনারা এই যুদ্ধের নাম জানেন এই যুদ্ধটাকে বলা হয় পার্ল হারবারের যুদ্ধ। পার্ল হারবার ওয়ার এবং জাপান মূলত আমেরিকার একটা বেইজ ছিল হাইতিতে সেই বেইজটা অ্যাটাক করে উদ্দেশ্য ছিল বেইজটা ধ্বংস করে ফেলবে এবং পুরা হাইতি আমরা জাপানের ম্যাপের ভিতরে নিয়ে আসব। ❤️ 😂 😮 😢
এই প্রথম এর আগে কখনো মনে হয় নাই হিটলারকে থামানো যাবে বাট এই প্রথম রাশিয়ায় অ্যাটাক করতে যেয়ে যখন হিটলার ফার্স্ট একটা রোড ব্লক পাইলো তখন পুরা পৃথিবীর মনে হইলো যে না হিটলারকে মনে হয় থামানো সম্ভব। ❤️ 😂 😮 😢
তার ঠিক কিছুদিন পরে আমি কাহিনী অনেক বড় বাট একটু ছোট করে বলতেছি একটা ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হয় এই যুদ্ধটাকে বলে স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ। রাশিয়ান আর্মি তিন দিক থেকে জার্মান আর্মিকে অ্যাটাক করে এবং ২০ লাখ মানুষ মারা যায় মাত্র তিন চার দিনের ব্যবধানে ওই যুদ্ধে। জার্মান আর্মি রাশিয়ার কাছে সারেন্ডার করে এবং বলে আমরা রাশিয়া দখল করতে পারতেছি না আমরা সারেন্ডার করতেছি। ❤️ 😂 😮 😢
ঐদিকে আমেরিকা কিন্তু জাপানকে অ্যাটাক করেই যাচ্ছে। জাপানের একের পর এক এয়ারক্রাফট বাহী জাহাজ টাহাজ ডুবায় দিয়েই যাচ্ছে আমেরিকা প্রত্যেকদিনই নিউজ আসতেছে যে আমেরিকা আজকে বম্বিং করে জাপানের এই ডুবায় দিছে ওই ডুবায় দিছে মোটামুটি পার্ল হারবার ধ্বংসস্তূপ হয়ে গেছে। ❤️ 😂 😮 😢
এখন আপনি দেখেন জার্মানি কিন্তু একসাথে অনেকগুলা যুদ্ধ করতেছিল। সো রাশিয়ার ওইখানে ওরা সারেন্ডার করছে বাট পুরা ইউরোপে কিন্তু ওরা সারেন্ডার করে নাই। সারেন্ডার তো করেই নাই হিটলারের মনে হইছে যে আচ্ছা আমি রাশিয়া দখল করতে চাইছিলাম আমি রাশিয়া দখল করতে পারি নাই বাট ঠিক আছে ইউরোপের ভিতরে তো অনেকগুলো দেশ আমি দখল করছি ইউরোপের ভিতরেই দুই একটা বড় বড় দেশ আছে যেগুলো আমি দখল করতে পারি নাই ওইটা অ্যাটাক করার চেষ্টা করি। একদিকে মুসোলিনি চেষ্টা করতেছিল রোমান এম্পায়ার বড় করার জন্য অন্যদিকে হিটলার চেষ্টা করতেছে জার্মান এম্পায়ার বড় করার জন্য এই দুইটার মধ্যে এখন যুদ্ধ লাগে এবং জার্মানি ইতালিকে অ্যাটাক করে। ইতালি হেরে যায় আমি কাহিনী এত বড় করব না ইতালি শেষ পর্যন্ত হেরে যায় এবং জার্মানি ইতালিকে দখল করে ফেলে। হাউএভার এই যুদ্ধে জিততে যেয়ে রোমান এম্পায়ার দখল করতে যেয়ে জার্মানির এত ক্ষতি হয় যে অনেকেই মনে করে যে হ্যাঁ জার্মানি যদিও এই যুদ্ধে জিতছে বাট এই যুদ্ধে জিতাটা হয়তো ওদের জন্য খুব বড় ধরনের একটা ভুল কারণ এত ক্ষতি হয়েছে এত মানুষ মারা গিয়েছে যে জার্মানি এত বড় রিজিওন ইউরোপ তো একটা বিশাল রিজিওন এত বড় রিজিওন মনে হয় আর কন্ট্রোলে রাখতে পারবে না। ❤️ 😂 😮 😢
এর মাঝখানে আমেরিকা বলে যে আমরা ফ্রান্স এবং ইউকে ইউকে এবং আমেরিকা হইলো তখন বেস্ট ফ্রেন্ড একদম। বলে যে আমরা ফ্রান্স এবং ইউকের সাথে জয়েন করতেছি আমরা মিত্রবাহিনীতে জয়েন করছি এবং তারপরেই হয় নরম্যান্ডির ডি ডে। ১৯৪৪ সালের জুন মাসের ৬ তারিখে আকাশ থেকে এক লাখ ছাপ্পান্ন হাজার আর্মি নামে ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে এবং এই কারণেই এটাকে বলা হয় নরম্যান্ডির ডি ডে। ডি ডে মানে হইলো ডিসিশন ডে এই দিনেই ডিসিশন হবে যে ওয়ার্ল্ড ওয়ারের পরিণতি কী হবে। সো এই যে মিত্রবাহিনী নামলো মিত্রবাহিনী নেমেই চারিদিকে অ্যাটাক করা শুরু করে জার্মান আর্মিকে। জার্মান আর্মির অবস্থা আসলে তখন বেশ করুণ জার্মান আর্মি একটা স্ট্র্যাটেজিকাল মিসটেক করে ফেলছে ওরা একই সাথে অনেকগুলো যুদ্ধ করতে যেয়ে প্রত্যেকটা যুদ্ধেই ওদের ক্ষতি হইছে ইভেন যেই যুদ্ধগুলো ওরা জিতছে সো রাশিয়ান যুদ্ধ তো ওরা হারছে বাট যেসব যুদ্ধ ওরা জিতছে ইতালির সাথে ফর এক্সাম্পল জিতেও ওদের এত ক্ষতি হইছে যে ওরা এত বড় অঞ্চল আসলে কন্ট্রোলে রাখতে পারতেছিল না। এর মধ্যে যখন দেড় লাখ আর্মি আকাশ থেকে নেমে আসছে দেড় লাখ আর্মি নরম্যান্ডিতে যখন নেমে আস্তে আস্তে পুরা ইউরোপে ছড়ায়ে যাওয়া শুরু করছে তখন জার্মান আর্মি পিছনে হটা শুরু করে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্যারিস স্বাধীন হয়ে যায়। ❤️ 😂 😮 😢
হিটলার যখন জানতে পারে যে আমি তো পুরা পৃথিবীকে জার্মানি বানাইতে পারলামই না উল্টা আমার যে রাজধানী বার্লিন জার্মানির রাজধানী সেই বার্লিনই এখন রাশিয়া দখল করে ফেলছে হিটলার ওই ব্যাপারটা নিতে পারে না। ১৯৪৫ সালের এপ্রিলের ৩০ তারিখ হিটলার সুইসাইড করে। তার জাস্ট সাত দিন পরে পুরা জার্মানি একই সাথে সব কয়টা যুদ্ধে একসাথে সারেন্ডার বা আত্মসমর্পণ করে। ❤️ 😂 😮 😢
এই আত্মসমর্পন দিয়ে ইউরোপের যুদ্ধ থামে বাট আপনি দেখেন ইউরোপের যুদ্ধ থেমেছে বাট ইউরোপের অবস্থা কিন্তু একদম ভ্যাবাচ্যাকা ওয়ালা। অনেকগুলা অঞ্চল রাশিয়া দখল করছে জার্মানির কাছ থেকে সো জার্মানি ধরেন একবার পোল্যান্ড দখল করছিল ওইটা এখন আবার রাশিয়া নিয়ে নিছে সো ইউরোপের ম্যাপের অবস্থা খুবই বাজে জার্মানির অবস্থা খুবই বাজে জার্মানিতে আবার বার্লিন দেয়াল নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হইছে ইস্ট বার্লিন ওয়েস্ট বার্লিন ইত্যাদি পুরা ইউরোপের অবস্থা বাজে কাহিনী আর অনেক বড় করব না যেহেতু ভিডিওটা অনেক বড় হয়ে গিয়েছে হাউএভার এই যুদ্ধ আমেরিকা এবং জাপানের যুদ্ধ আরো তিন মাস চলে। ❤️ 😂 😮 😢
ইউরোপের যুদ্ধ থামার তিন মাস পরে যেয়ে আমেরিকা যখন বোঝে যে আর কোনো আসলে উপায় নেই এবং এখন একটা বড় কিছু ঘটাইতে হবে যুদ্ধ থামানোর জন্য তখন আমেরিকা কী করে আপনারা সবাই জানেন আমেরিকা দুইটা বোম ফেলে পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র দুইটা অ্যাটম বোম যেটা মানুষের উপরে ফেলা হইছে একটা ফেলা হয় হিরোশিমায় এবং আরেকটা ফেলা হয় নাগাসাকিতে। দুই লাখ মানুষ মারা যায় এবং সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে এসে জাপান ফাইনালি আমেরিকার কাছে সারেন্ডার করে। ❤️ 😂 😮 😢
ফাইনালি একটা সিচুয়েশন আসে যখন পৃথিবীর কোনো দেশ কোনো দেশের সাথে আর যুদ্ধ করতেছে না সব যুদ্ধ থেমেছে এবং এটা ১৯৪৫ সাল। যুদ্ধ সব শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে এই যে যে ছয় বছরের উইন্ডো ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ এই ছয় বছরের উইন্ডোকে এজন্য ধরা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উইন্ডো। ❤️ 😂 😮 😢
ওয়ার্ল্ড ওয়ার দুনিয়ার সবকিছু বদলায়ে দেয় একদম সবকিছু। আপনি কোথা থেকে দুধ কিনবেন থেকে শুরু করে আপনার ইকোনমি কেমন হবে থেকে শুরু করে পৃথিবীর ম্যাপ থেকে শুরু করে পৃথিবীর জিওগ্রাফি থেকে শুরু করে কোন দেশের পাওয়ার কিরকম হবে থেকে শুরু করে এমন কিছু নাই যেইটা ওয়ার্ল্ড ওয়ারটা বদলায়ে দেয় নাই। বাট এগুলা নিয়ে যদি আমরা আলাপ করতে চাই এগুলা হয়ে যাবে আরো অনেক বড় আলাপ যেই আলাপগুলা আজকের গল্পের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। ❤️ 😂 😮 😢
এইতো, এই ছিল সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারের হিস্ট্রি। আপনাদের যদি এই গল্প ভালো লাগে আমাকে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ওয়ার্ল্ড ওয়ার বা এরকম কমপ্লিকেটেড জিনিস এক্সপ্লেইন করাটা একটু কঠিন বাট আমি চেষ্টা করেছি আমি যতটুকু পারি আপনাদেরকে ওয়ার্ল্ড ওয়ারের ব্যাপারটা বোঝানোর জন্য। ❤️ 😂 😮 😢
…….. ❤️ 😂 😮 😢