Disney যেভাবে একটি মিডিয়া এম্পায়ার হয়ে যাচ্ছে

Chapter 1

ডিজনিকে আমরা প্রায় সবাই মোটামুটি চিনি। ডিজনি একটা হাউজহোল্ড নেইম। ❤️ 😂 😮 😢

তবে ডিজনি গত ৫০ বছরে যে কত ভয়াবহ ধরনের বড়লোক একটা কোম্পানি হয়ে গিয়েছে এই বিষয়ে আমরা অনেকেই আসলে জানি। আমরা সবাই ডিজনির ফাউন্ডারকে চিনি, ওয়ার্ল্ড ডিজনি, নিজের নামে কোম্পানির নাম রেখেছে, ভালো মানুষ, স্মার্ট কাজ করেছে। ❤️ 😂 😮 😢

তবে ফাউন্ডারকে চিনলেও ডিজনি আসলে কী কী করে এই বিষয়ে আমাদের ধারণা কিন্তু বেশ কম। আমি যদি আপনাকে এখন জিজ্ঞেস করি ডিজনি আসলে করে কী? আপনি বলেন তো? আপনি হয়তো বলবেন ডিজনি সিনেমা বানায়, কথা সত্যি। আপনি হয়তো বলবেন ডিজনি কার্টুন বানায়, কথা সত্যি। আপনি বলবেন ডিজনি অ্যানিমেশন বানায়, সত্যি কথা। আপনি বলবেন ডিজনি থিম পার্ক বানায়, ডিজনিল্যান্ড, ডিজনি ওয়ার্ল্ড টাইপ জিনিসপত্র, এটাও সত্যি কথা। আপনি আরেকটু স্মার্ট হলে আপনি বলবেন যে, ডিজনির কিন্তু মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করে, ডিজনি স্পাইডারম্যান টাইপ জিনিসপত্র বেচে, ওই পুতুল টুতুল ওগুলা বিক্রি করে ওরা আয় রোজগার করে। এটাও সত্যি কথা। ❤️ 😂 😮 😢

বাট এটা জাস্ট একটু সারফেস। ডিজনির আসলে এত কোম্পানি এবং এত জায়গা থেকে ডিজনির আয় রোজগার হয়, ডিজনি কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিডিয়া কোম্পানি এই মুহূর্তে এবং এর এত জায়গা শাখা প্রশাখা থেকে আয় রোজগার হয় যেটা জানলে আপনি… ❤️ 😂 😮 😢

কাহিনীটা একটু বড়, ডিজনির গল্পটা বেশ ইন্টারেস্টিং সো আই হোপ আপনি আমাদের সাথে থাকবেন। ওয়েলকাম আজকের দ্য হোয়াইট শার্ট শো-তে। ❤️ 😂 😮 😢

অনেক আগের কথা, ১৯২৩ সালের দিকে, ওয়ার্ল্ড ডিজনি আর ওর ভাই রয় ডিজনি, দুইজন ঠিক করে যে ওরা একটা অ্যানিমেশন স্টুডিও টাইপ বানাবে, কার্টুন আঁকবে। দুইজনেরই আঁকাঝোঁকা পছন্দ ছিল অনেক এবং প্রথম দিকে যখন দুই ভাই মিলে এই কোম্পানি দাঁড় করানোর কথা ভাবছে, দুইজনেরই প্ল্যান কিন্তু ছিল খুব সহজ, বিভিন্ন কোম্পানির জন্য ওরা কার্টুন এঁকে দিবে এবং আস্তে আস্তে হয়তো ওরা এক পর্যায়ে যেয়ে কিছু কিছু কোম্পানির জন্য অ্যানিমেশন বানাবে। এই, এর থেকে বেশি কোনো জটিল প্ল্যান ছিল না, জাস্ট কার্টুন আঁকবো, মাঝে মধ্যে যেয়ে হয়তো আমরা, যদি সুযোগ টুজোগ পাই তাহলে আমরা যেয়ে অ্যানিমেশন বানাবো। বাট এতটুকুই। ❤️ 😂 😮 😢

তো দুই ভাই মিলে কাজ শুরু করলো এবং ওদের ছোট একটা অফিস ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং আপনারা জানেন লস অ্যাঞ্জেলেস কই যারা তিন গোয়েন্দা পড়েছেন তারা। তো ওরা লস অ্যাঞ্জেলেসের ছোট একটা অফিস নিয়ে কাজকর্ম করা শুরু করলো এবং মোটামুটিভাবে কাজ পাওয়া শুরুও করে ফেললো, কারণ দুই ভাই, দুই ভাইয়ের আঁকার হাত বেশ ভালো। দুইজনই খুব সুন্দর আঁকে। যদিও তখন ওরা অ্যানিমেশনের দুনিয়ায় অত যায় নাই বাট এমনিতে ড্রয়িং ট্রয়িং এর দিক থেকে ওরা বেশ ভালো এবং এই কারণে আস্তে আস্তে ওরা প্রজেক্ট পাওয়া শুরু করলো। ❤️ 😂 😮 😢

তো প্রজেক্ট পেতে পেতে এক পর্যায়ে একটা প্রডিউসারের সাথে ওদের কথা হলো এবং সেই প্রডিউসার ওদের বললো যে, আমি তোমাদের একটা ছয় পার্টের অ্যানিমেশন বানাইতে দিব। তো ওরা খুব এক্সাইটেড হয়ে গেল যে ছয় পার্টের অ্যানিমেশন, এটা ওদের সেকেন্ড না থার্ড অ্যানিমেশন, ফার্স্টের যে অ্যানিমেশনগুলো ওরা বানিয়েছে ওগুলা ছিল খুব ছোট ছোট লাইক ওই যে বিয়েতে ভিডিওগ্রাফি করা টাইপ কাজকর্ম, খুব একটা হাইলাইটেড হয় নাই বা ম্যাস মিডিয়া জানেও না ওগুলার কথা। তো যেই প্রডিউসারটা বললো যে আমি তোমাদের ছয় পার্টের একটা অ্যানিমেশন বানাইতে দিব, ওরা খুব আগ্রহী হয়ে গেল যে ছয় পার্টের অ্যানিমেশন আমরা অবশ্যই করবো। এবং পরে ওরা বলেছে যে ওরা ফ্রিতেও করে দিত, যেহেতু ওরা চাচ্ছে যে আমরা অ্যানিমেশনের কাজকর্ম করি। প্রডিউসারের টাকায় করতে পারলে নিজেদের টাকাও খরচ হচ্ছে না ডাবল লাভ। বাট ওটা ওরা অবশ্যই প্রডিউসারকে বলে নাই। ❤️ 😂 😮 😢

তো ওরা অ্যানিমেশনটার কাজ পেয়ে গেল এবং এই যেই অ্যানিমেশনটার ওরা কাজ পেল সেই অ্যানিমেশনটার কথা কিন্তু আমরা অনেকেই জানি। সেই অ্যানিমেশনটার নাম হলো অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড এবং তখন এই অ্যানিমেশনটার নাম ছিল অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড এবং পরবর্তীতে নাম চেঞ্জ করে ওয়ান্ডারল্যান্ড করা হয়েছে। ❤️ 😂 😮 😢

তো এটা ছিল ওদের প্রথম বিগ ব্রেক যদি আপনি বলেন। এবং ব্রেকটা মোটামুটি ভালোই গিয়েছে, মানুষ অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড বেশ পছন্দ করেছে। আমি জানি না আপনারা দেখেছেন নাকি, আমি সম্ভবত দেখি নাই, আমার চাইল্ডহুড বেশ ট্রমাটাইজড ছিল, আমার অত কার্টুন দেখা হয় নাই। তো অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড বা অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড যেটাই আপনি বলেন মানুষ বেশ পছন্দ করলো এবং মানুষ পছন্দ করার থেকে বড় ব্যাপার হলো এটা ওদের একটা এস্টাবলিশমেন্ট দিল অ্যানিমেশনের দুনিয়ায়। যেহেতু এটা ওদের প্রথম দিককার অ্যানিমেশনের কাজ ছিল। এইটা দেখে অন্যান্য মানুষজন বুঝলো যে হ্যাঁ অ্যানিমেশনের জন্য যদি আমাদের কোনো অ্যানিমেশন দরকার হয় তাইলে আমরা ওই ডিজনি টাইপ কোম্পানি যেটা আছে দুই ভাইয়ের ওইটাকে সিলেক্ট করতে পারি, ওরা মনে হয় অ্যানিমেশনের কাজকর্ম ভালো করে। এবং আপনার বুঝতে হবে এটা অনেক আগের কথা, ১৯২৩ সালের কথা, আজকে যেমন আপনি ফেসবুকে যেয়ে স্ট্যাটাস দিলে কয়েকটা অ্যানিমেশনের কাজ করে কাজ জানে এরকম লোকজন পেয়ে যাবেন, ১৯২৩ সালে ফটোশপ ছিল না, ১৯২৩ সালে অ্যানিমেশন বেশ ভয়াবহ ধরনের কম্পিউটারই ছিল না বেশিরভাগ মানুষের কাছে। বেশিরভাগ মানুষের কাছেই কারো কাছেই মোটামুটি কম্পিউটার ছিল না। সো তখন অ্যানিমেশন আর এখন অ্যানিমেশনের মধ্যে বিস্তর ফারাক সো তখন যারা অ্যানিমেশনের কাজ পারতো তাদেরকে এমনিতেই হাইলি রিগার্ড করে দেখা হতো এবং তার উপর যদি ওই অ্যানিমেশনের কাজ ভালো হয় সেক্ষেত্রে তো আর কথাই নেই। ❤️ 😂 😮 😢

প্রবলেম যেটা হচ্ছিল সেটা হলো অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড বা অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড, আমি সরি এটাই লাস্ট এরপরে আমি আর অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড ভার্সেস অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড বলবো না। বেসিক্যালি ওরা যখন অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড বানালো বেশ জনপ্রিয় হইলো, প্রবলেম যেটা হইলো সেটা হলো মানুষ অ্যালিস ইন কার্টুনল্যান্ড চিনে, কিন্তু মানুষ ডিজনি চিনে না। ❤️ 😂 😮 😢

যেটা হয় আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে, প্রডিউসার যে, অ্যাক্টর যে, তাদের সবাই চিনে। কিন্তু ওই সিনেমার ভিতরে অ্যানিমেশন কে দিছে, ওইটা কয়জন জানে? ওইটা নিয়ে কয়জন ঘাটাঘাটি করে? খুব বেশি মানুষ ঘাটাঘাটি করে না। সো কার্টুন অনেক ফেমাস হইলো, কার্টুনের ভিতরের ক্যারেক্টার অনেক ফেমাস হইলো, কিন্তু ওই অ্যানিমেশন যে ডিজনি বানাইছে এটা তেমন কেউ জানলোই না। কিছু মানুষ ইন্ডাস্ট্রির জানলো বাট ম্যাস মানুষজন জানলো না, ডিজনি তখনো জনপ্রিয় হয় নাই। ❤️ 😂 😮 😢

তো ডিজনি ভাবলো যে আচ্ছা, এটা থেকে ওরা একটা আইডিয়া পেল যে, অন্য মানুষের জন্য যদি কাজ করি তাইলে অন্য মানুষ জনপ্রিয় হয়। আমরা টাকা পাই আমাদের লস হয় তা না, কিন্তু আমরা নিজেরা আসলে জনপ্রিয় হই না। আমরা নিজেরাই কি কিছু করতে পারি না সরাসরি মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য, যাতে করে মানুষ সরাসরি আমাদের চিনবে? ❤️ 😂 😮 😢

তো ১৯২৭ সালের দিকে ডিজনি ভাবলো যে আচ্ছা, আমরা একটা কাজ করি, আমরা নিজেরাই আস্তে আস্তে একটা সিনেমা বানানোর চিন্তা করি। তাড়াহুড়ার কিছু নেই নিজেদের প্রজেক্ট, নিজেদের প্রজেক্টের সুবিধা হলো নিজেদের প্রজেক্টে কোনো ডেডলাইন থাকে না। এই বছর শেষ করলে করলাম, পরের বছর শেষ করলে পরের বছর শেষ করলাম, কে আইসা বলবে নিজেদেরই তো জিনিস। তো যেটা আমাদের ওয়েবসাইট বানানোর সময় অনেক হয়। নিজেদের কাজ খুব একটা ফাস্ট আগায় না। তো ক্লায়েন্টের কাজ অনেক ডেডলাইন থাকে এজন্য ক্লায়েন্টের কাজ অনেক তাড়াতাড়ি আগায়। তো ডিজনি ১৯২৭ সালে ঠিক করলো যে ঠিক আছে আমরা নিজেরা আস্তে আস্তে একটা অ্যানিমেশন বানানোর চিন্তা করি এবং এই অ্যানিমেশন দিয়ে আমরা পুরা দুনিয়াকে বোঝাবো যে না ডিজনি নামেও একটা জিনিস আছে। ❤️ 😂 😮 😢

এক বছর পরে ১৯২৮ সালে যেয়ে এই প্রজেক্ট শেষ হয়। এই প্রজেক্ট যেটা ডিজনি বানায় সেই প্রজেক্টের নাম ছিল অসওয়াল্ড দ্যা লাকি র‍্যাবিট। গল্পটা মেইনলি একটা খরগোশকে নিয়ে, তবে এই খরগোশের গল্পে একটা সাইড ক্যারেক্টার ছিল। সেই সাইড ক্যারেক্টারটা পরে এত জনপ্রিয় হয় যে সেই সাইড ক্যারেক্টারটা মোটামুটিভাবে পুরা দুনিয়াকেই বদলায় দেয় এবং ডিজনিকে পুরা ম্যাপে বসায় দেয়, পুরা পৃথিবীর সবাই ডিজনিকে চিনে ফেলে। যেই সাইড ক্যারেক্টারটার নাম আপনারা ধরতেই পেরেছেন, সেই সাইড ক্যারেক্টারটার নাম হলো মিকি মাউস। ❤️ 😂 😮 😢

আচ্ছা মজার কথা, প্রথম যেই দুইটা অ্যানিমেশনে মিকি মাউস ছিল, ওই দুইটা অ্যানিমেশনের নাম ভূমিকায় কিন্তু মিকি মাউস ছিল না, মিকি মাউস ছিল সাইড ক্যারেক্টার এবং ওই দুইটা অ্যানিমেশনই ছিল শব্দহীন। সাউন্ডহীন অ্যানিমেশন ছিল, সো সাউন্ড ছিল না। তখনকার টেকনোলজি এখনকার মতো না। সাদা কালো তো ছিলই এবং সাউন্ডও ছিল না। তিন নাম্বার অ্যানিমেশনে যেয়ে ডিজনি সাউন্ড কিভাবে দিতে হয় অ্যানিমেশনের ভিতরে এটা বাইর করে এবং তারপরে তিন নাম্বার অ্যানিমেশন থেকে ডিজনি একচুয়ালি মিউজিক, অ্যানিমেশন যখন বানায় তখন সাউন্ডও দেওয়া শুরু করে অ্যানিমেশনের ভেতরে। ❤️ 😂 😮 😢

তো মানুষ তো মিকি মাউসের জন্য পাগল হয়ে যায়। ডিজনিও মিকি মাউস যখন দেখলো যে মানুষ পাগল হয়ে যাচ্ছে তখন মিকি মাউসকে মেইন ক্যারেক্টার বানায় বিভিন্ন ধরনের অ্যানিমেশন রিলিজ করা শুরু করে। মিকি মাউস মেইন ক্যারেক্টার তবে আস্তে আস্তে মিকি মাউসের সাথে আরো অনেক সাইড ক্যারেক্টার আনা শুরু হয়। যেমন ধরেন সাইড ক্যারেক্টারের মধ্যে ছিল ডোনাল্ড ডাক, যেটাকে আমরা চিনি যেটা এখন অনেক জনপ্রিয়। সাইড ক্যারেক্টারের মধ্যে ছিল প্লুটো, গুফি এরকম অনেকগুলো ক্যারেক্টার। এরা মিকি মাউসের সাথে সাইড ক্যারেক্টার হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় এবং তারপরে ওরা আস্তে আস্তে নিজেদের শো পায়। আপনি যখন অ্যানিমেশন বানাচ্ছেন আপনার একটা সুবিধা আছে যেই সুবিধাটা আপনি অন্যের সময় পান না। ধরেন আপনি অ্যাভেঞ্জার্স বানাচ্ছেন, অ্যাভেঞ্জার্স বানানোর সময় আপনার দেখতে হবে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের টাইম আছে নাকি। অন্যান্য যত অ্যাক্টর-ট্যাক্টর আছে ও স্পাইডারম্যান যে প্লে করে তার টাইম আছে নাকি, অমুকের টাইম আছে নাকি তমুকের টাইম আছে নাকি। আপনি যখন অ্যানিমেশন বানাচ্ছেন সবার টাইম আছে। মিকি মাউসের কোনো সমস্যা নেই মিকি মাউস যেকোনো সময় শিডিউল দিতে পারবে। মিকি মাউসকে যদি আপনি মেইন ক্যারেক্টার না বানায়া সাইড ক্যারেক্টার বানান বা ডোনাল্ড ডাককে যদি আপনি একটা মেইন ক্যারেক্টার বানায় দেন হঠাৎ করে যে তার নাম মিকি মাউস যেই নাটকের নাম মিকি মাউস কেউ আইসা কমপ্লেইন করবে না কার্টুনদের ইগো থাকে না। সো এই অ্যাডভান্টেজটা কিন্তু শুরুর দিকেই পেয়ে গেল ডিজনি এবং এই অ্যাডভান্টেজটা নিয়ে ওরা পাগলের মতো অ্যানিমেশন বানানো শুরু করে দিলো। ❤️ 😂 😮 😢

আচ্ছা গল্প ছোট করে নিয়ে আসি বেশ বড় হয়ে যাচ্ছে গল্প। আমি জানি না আপনারা বিরক্ত হচ্ছেন নাকি বিরক্ত হলে আমাকে কমেন্টে জানাবেন আমি এর পরের থেকে গল্প ছোট করার চেষ্টা করবো। তো ওরা তো এখন অ্যানিমেশন বানাচ্ছে ক্লায়েন্টের কাজ বেশ কমায় দিছে। ক্লায়েন্টের কাজ এখন আর ডিজনি করেই না কারণ নিজেদের অ্যানিমেশনই এত বিক্রি হয় নিজেদের অ্যানিমেশনই এত মানুষ দেখতে আসে যে ক্লায়েন্টের কাজ করার ওরা সময়ও পায় না ইচ্ছাও করে না ওদের ক্লায়েন্টের কাজ করতে। কিছু কিছু বড় বড় ক্লায়েন্টের কাজ ওরা তখনো করছিল স্পেশালি হলিউডের সাথে বাট খুব বড়সড় ভাবে ওরা ক্লায়েন্ট প্রজেক্টে আর আগ্রহী ছিল না কারণ নিজেদের কাজেই যখন এনাফ টাকা আসতেছে কেন করবো ক্লায়েন্টের কাজ। ❤️ 😂 😮 😢

এই সময়ে এসে ডিজনি ভাবলো যে এটা হলো আমি ১৯৫৫ সালের কথা বলছি যদি আমি ভুল না করে থাকি, এসে ডিজনি ভাবলো যে আচ্ছা আরেকটু ডাইভারসিফাই করলে কেমন হয় আমাদের আয় রোজগার। একটা কাজ করি আমাদের কার্টুন ক্যারেক্টার মানুষ পছন্দ করে যেহেতু আমরা একটা থিম পার্ক বানাইলে কেমন হয়। একটা থিম পার্ক বানায় দেখি যে থিম পার্কের ভিতর কিছু রাইড টাইড রাখবো এবং আমাদের ক্যারেক্টার গুলার কস্টিউম পরায় কিছু মানুষকে হাটাহাটি করাবো থিম পার্কের ভিতরে। দেখি যদি মানুষ খুব বেশি টাকা খরচ করবো না যদি মানুষ এনজয় করে তাইলে আস্তে আস্তে বড় করার চেষ্টা করবো বাট শুরুর দিকে আমরা খুব বেশি টাকা খরচ করবো না। দেখি আমরা শুরু একটু চেষ্টা করে যে মানুষ আসলে নেয় নাকি জিনিসটা। ❤️ 😂 😮 😢

তো যেই কথা সেই কাজ ১৯৫৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়াতে ডিজনি লঞ্চ করে প্রথম ডিজনিল্যান্ড যেটা। ❤️ 😂 😮 😢

বানানোর সাথে সাথে দেখা গেল মানুষ পাগল হয়ে গেল। দেখেন আপনি যখন বাচ্চাদের জন্য কিছু মার্কেট করবেন তখন খুব সুবিধা আপনার। কারণ বাচ্চাদেরকে কনভিন্স করা সহজ, বাচ্চাদেরকে যদি আপনি কনভিন্স করতে পারেন বাচ্চারা বাচ্চাদের বাবা-মাকে কনভিন্স করার কাজটা ভালো পারে। সো আপনার ডাইরেক্টলি বাচ্চাদের বাবা-মাকে কনভিন্স করতে হবে না আপনার শুধু বাচ্চাকে কনভিন্স করতে হবে এবং বাচ্চাকে কনভিন্স করা সহজ। যেহেতু আপনার বাচ্চাকে কনভিন্স করলেই কাজ হয়ে যাচ্ছে এই কারণে ডিজনি ওটা করা শুরু করলো এবং বাচ্চারা পাগল হয়ে গেল যে ডিজনিল্যান্ডে যদি আমি যাই তাহলে আমি প্লুটোকে দেখতে পারবো। ডিজনিল্যান্ডে যদি আমি যাই তাহলে আমি ডোনাল্ড ডাকের সাথে ছবি তুলতে পারবো। এই রাইড আছে ওই রাইড আছে। এম্নিতেও ডিজনিল্যান্ড ভালো এমন না যে খালি মানে মার্কেটিং দিয়েই নিয়ে আসছে এবং আসার পরে মানুষ দেখছে ডিজনিল্যান্ডের ভালো না ডিজনিল্যান্ডের সার্ভিস ভালো না। এরকম কিছু না। অসাধারণ সার্ভিস এবং বলা হয় যে ওয়ার্ল্ড ডিজনি নিজে নিজে প্রত্যেকদিন ডিজনিল্যান্ডে ঘুরে ঘুরে প্রবলেম খুঁজে বের করার চেষ্টা করতো এবং এত এত কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্সের দিকে বা কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দিকে যেটাকে বলে কিউসি কন্ট্রোল ওই জিনিসে ফোকাস করার কারণেই ডিজনিল্যান্ড খুব তাড়াতাড়ি জাস্ট লঞ্চ করার এক দুই বছরের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে ফেমাস থিম পার্ক গুলার একটা হয়ে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

এটা ছিল জাস্ট শুরু। এটা ছিল ডিজনির প্রথম থিম পার্ক ১৯৫৫ সালে। তার ঠিক ১০ বছর পরে ১৯৬৫ সালে ডিজনি ভাবলো যে আচ্ছা প্রথমটা বেশ সফল হইছে আমরা আরেকটু এক স্টেপ বড় করি। কি করা যায় এক স্টেপ বড় করার আইডিয়াটা হলো আগে মানুষ শুধু আসতো ঘুরতো ঘাড়তো শিশু পার্কের মতো দিন শেষে চলে যাইতো। এইবারেরটায় আমরা একটা রিসোর্ট বানাই, মানুষ থাকুক। মানুষকে যদি একদিন রাখা যায় তাহলে আপনি চিন্তা করেন সুবিধা কি। মানুষকে যদি রাখি মানুষের তো রাত্রে খাইতে হবে, মানুষের সকালে খাইতে হবে। ফুডের বিজনেসটা দাঁড়ায় গেল। মানুষ যদি এক রাত বেশি থাকে তাহলে অবশ্যই যত বেশি থাকবে তত মানুষ আমাদের রাইড টাইডে বেশি চড়বে বা আমাদের এন্টারটেইনমেন্ট গুলা বেশি এনজয় করবে। সুবিধা। মানুষ যদি রাতে থাকে রাতে আমরা সিনেমা টাইপ একটা নাইট করতে পারি মুভি নাইট এবং মুভি নাইট যদি করা যায় তাহলে ওই মুভির টিকিট বেচা যাবে যারা থাকতেছে তাদেরকে। আরো সুবিধা। ❤️ 😂 😮 😢

এরকম বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল ট্যাঙ্গেল নিয়ে চিন্তা করে ওরা সেকেন্ড যেই ডিজনিল্যান্ড লঞ্চ করলো ওই ডিজনিল্যান্ডটা হলো একটা রেসিডেন্স ডিজনিল্যান্ড ওখানে আপনি চাইলে যেয়ে থাকতে পারবেন কয়েকদিন ওখানে সুন্দর হাউজ টাউজ বানাইলো ওরা। আনফরচুনেট ব্যাপার হলো ওয়ার্ল্ড ডিজনি তার আগেই মারা যায় ওয়ার্ল্ড ডিজনি সেকেন্ড ডিজনিল্যান্ডটা দেখে যেতে পারে না যেটা একচুয়ালি বলা হয় যে সবচেয়ে সুন্দর ডিজনিল্যান্ডগুলার একটা। ওটা ওয়ার্ল্ড ডিজনি দেখে যেতে পারে না। ওয়ার্ল্ড ডিজনি ১৯৫৫ সালের প্রথমটা দেখে বাট সেকেন্ডটা ওর আর দেখা হয় না। আনফরচুনেট ব্যাপার বাট উদ্যোক্তাদের জীবনে আনফরচুনেট ব্যাপার হইতেই পারে। ❤️ 😂 😮 😢

ওয়ার্ল্ড ডিজনির কথা আমি এই গল্পে আর খুব একটা বলবো না ওয়ার্ল্ড ডিজনির গল্প এখানেই শেষ। বাট ডিজনির গল্প বাকি আছে বাট ওয়ার্ল্ড ডিজনি মেইন যে ফাউন্ডার তার গল্পটা এখানেই শেষ। বাট একটা কথা জাস্ট বলে রাখি ওয়ার্ল্ড ডিজনি কিন্তু খুব একটা বড়লোকি জীবন কাটায় নাই। বেশ মানে গরিবী জীবন কাটিয়েছে এমন না বাট আমি একটা বাড়ি কিনলাম আমার বাড়িতে সুইমিং পুল থাকবে আমার একটা প্লেন থাকবে ওরকম মানুষ ও ছিল না। ওর অনেক টাকা ছিল কিন্তু ওর সব টাকা ও যখনই ইনকাম করেছে সব টাকা ও আবার ব্যবসায় খরচ করে ফেলেছে। এবং ওর একটা কথাই ছিল যে আমি মুভি এইজন্য বানাই না যে আমি টাকা আয় করবো বরং আমি টাকা আয় এইজন্য করি যেন আমি মুভি বানাতে পারি। সো ও মুভি বানানো অ্যানিমেশন বানানো ওই যে যে ছোট্টবেলায় শুরু করেছিল দুই ভাই মিলে যে আর্ট করবে ওরা কার্টুনিস্ট হবে ওরা অ্যানিমেশন বানাবে ওই ব্যাপারটা মৃত্যু পর্যন্ত ও একই রকম ছিল, পরিবর্তন হয় নাই এবং ও যত আয় করেছে সব ও সাথে সাথে ব্যবসায় দিয়ে দিয়েছে। তো এটাই ওয়ার্ল্ড ডিজনির পার্টটা ওয়ার্ল্ড ডিজনির ব্যাপারটা আপাতত থাক আমি আপনাদের ডিজনির গল্প বলি। ❤️ 😂 😮 😢

তো ডিজনি মোটামুটি ভাবে খুব সহজেই বুঝে গেলো যে সলিউশনটা কী আসলে অনেক টাকা আয় করার। আমাদের অনেক অ্যানিমেশন বানাইতে হবে, আমাদের অনেক সিনেমা টিনামা বানাইতে হবে এবং আমাদের অনেক থিম পার্ক বানাইতে হবে পাগলের মতো। যেখানেই চান্স পাই ওখানেই একটা থিম পার্ক বানাইতে হবে। তো আমেরিকায় তো ওরা থিম পার্ক বানাচ্ছে থিম পার্ক বানাইতে বানাইতে ওরা ভাবলো আমেরিকার বাইরে গেলেও কেমন হয় আমেরিকার বাইরে যেয়ে কিছু থিম পার্ক বানাই। সো ১৯৯২ সালে ওরা প্রথম আমেরিকার বাইরে থিম পার্ক বানালো এবং আমেরিকার বাইরে ওরা যে জায়গায় থিম পার্ক বানালো সেটা হলো প্যারিসে সম্ভবত এবং প্যারিসে যখন থিম পার্ক বানালো প্রথম বছরেই ১১ মিলিয়ন মানুষ গেল ওই থিম পার্ক দেখতে। কারণ শুধু আমেরিকায় ক্যারেক্টারগুলা জনপ্রিয় না, ক্যারেক্টারগুলা এতদিনে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে কারণ তার আগের ৫০ বছর অ্যানিমেশন দেখেছে মানুষ, সিনেমা দেখেছে মানুষ, ক্যারেক্টারগুলা হাউজহোল্ড নেম হয়ে গিয়েছে। এরকম বিভিন্ন কারণে ডিজনি তখন মোটামুটি একটা গোল্ডেন ডাস্ট টাইপ কোম্পানি ওরা যাই করে যাই শুরু করে সবই ওরা সফল করে ফেলে। ❤️ 😂 😮 😢

এই পর্যায়ে এসে ডিজনির সব ক্যারেক্টার বাচ্চাদের কাছে ভয়াবহ জনপ্রিয় হয়ে গেছে। ডিজনিল্যান্ডের সার্ভিস সবার পছন্দ। ডিজনি প্রতি বছরই মোটামুটি আগের বছর থেকে বেশি আয় করে। কিন্তু যদি আপনি চিন্তা করেন ডিজনি কিন্তু এই সময়ে এসেও পাগলের মতো অন্য কোম্পানি টোম্পানি কেনা শুরু করে নাই। সেটা হয়েছে আরেকটু পরে। আরেকটা কথা আমি বলতে ভুলে গিয়েছি ১৯৮০-র দশকে এসে ডিজনি কিন্তু অ্যানিমেশন এবং কার্টুন বানানোর পাশাপাশি সিনেমা বানানোও শুরু করে। এটা আমার হয়তো আরেকটু আগে বলা উচিত ছিল ব্যাপার না। তো প্রথম যে সিনেমাটা ওরা বানায় সেই সিনেমাটার নাম ছিল দ্য ব্ল্যাক হোল। এগেইন ওদের টার্গেট অডিয়েন্স ছিল বাচ্চাকাচ্চা ওদের জন্য ওরা দ্য ব্ল্যাক হোল বানিয়েছিল ১৯৭৯ সালে এই মুভিটা রিলিজ পায় মুভিটা সেরকম জনপ্রিয় হয় নাই তবে সিনেমাটা যে অনেক খারাপ চলেছে তাও না বাট ডিজনি লেভেলের জনপ্রিয়তা পায় নাই খুব বেশি মানুষ চিনেও না সো আমি যদি আপনাকে বলি দ্যা ব্ল্যাক হোল দেখছেন আপনি বলবেন দেখেন নাই আমিও দেখি নি দেখার জরুরি না। ❤️ 😂 😮 😢

তো এই পর্যায়ে এসে ডিজনি সিনেমা বানাচ্ছে, কার্টুন বানাচ্ছে, অ্যানিমেশন বানাচ্ছে, যেখানে পারতেছে ডিজনিল্যান্ড ওপেন করছে এবং বাচ্চাদের কাছে ক্যারেক্টার গুলার মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করতেছে। সবকিছু ভালোই চলছে কিন্তু ডিজনি আরো বড় হতে চায়। আরো বড় এখন কিভাবে হওয়া যায়? ১৯৮৩ সালে ডিজনি ঠিক করলো ওরা নিজেদের একটা টিভি চ্যানেল লঞ্চ করবে। প্রথম দিকে যখন ওরা ঠিক করে যে ওরা টিভি চ্যানেল লঞ্চ করবে ওদের ২৪ ঘণ্টার কন্টেন্ট ছিল না। ২৪ ঘণ্টার কন্টেন্ট বানানো তো বেশ ঝামেলার ব্যাপার এবং ডিজনি যেহেতু ওদের কোয়ালিটির ব্যাপারে খুব সচেতন ওরা ২৪ ঘণ্টা ফিলাপ করার জন্য আজাইরা টাইপ কন্টেন্টও দিতে চায় নাই। সো প্রথম দিকে সিস্টেম ছিল যে ওরা ১৬ ঘণ্টা চ্যানেল চালাবে বাকি যে দিনের যতক্ষণ আছে ততক্ষণ চ্যানেল বন্ধ থাকবে। ❤️ 😂 😮 😢

এই চ্যানেল তারপরে আস্তে আস্তে ২৪ ঘণ্টার চ্যানেলে পরিণত হয় এবং এই চ্যানেল সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি শোগুলার কিছু বাচ্চাদের জন্য স্পেশালি লঞ্চ করে তার পরবর্তী সময়ে। তার মধ্যে আছে হানা মনটানা, তার মধ্যে আছে হাই স্কুল মিউজিক্যাল, তার মধ্যে আছে আরো অনেক অনেক টিভি শো যেগুলো খুব তাড়াতাড়ি লঞ্চ করার দুই বছরের মধ্যে এটা পৃথিবীর এক নাম্বার টিভি চ্যানেল হয়ে যায় কিডস অ্যান্ড ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্টের জন্য। আরেকটা সফলতা। ❤️ 😂 😮 😢

তো মজার ব্যাপার হইলো ডিজনির এই পর্যায়ে এসে ও যা করতেছে তাই সফল হচ্ছে। সো পাগলের মতো হয়ে গেল ডিজনি কোম্পানিটা। বোর্ড যে ডিজনির যে বোর্ড মেম্বাররা তারা মোটামুটি এখন যে যে আইডিয়া নিয়ে যায় ওরা সবই গ্রিন লাইট করে দেয় কারণ মোটামুটিভাবে দেখা যাচ্ছে যে ডিজনি যেখানেই টাকা ঢালে ওটাই সফল হয়। ব্যর্থ যে হওয়া যায় এই ব্যাপারটাই ডিজনি ভুলে যায়। তো ১৯৯৮ সালে এসে ডিজনি ঠিক করে ওরা একটা জাহাজ বানাবে। তো জাহাজ বানাবে কি আইডিয়াটা কি আমরা একটা ক্রুজ শিপ বানাবো বড় ক্রুজ শিপে মানুষ ঘুরবে সাতদিন ধরে এবং এই ক্রুজ শিপের ভিতরে আমাদের ক্যারেক্টাররা থাকবে ক্রুজ শিপের ভিতরে এন্টারটেইনমেন্ট থাকবে ওই সেম জিনিস বেসিক্যালি ডিজনিল্যান্ড কিন্তু সাগরের উপর নড়তেছে। ওই সেম কনসেপ্ট এবং ওরা ওটা লঞ্চ করেও ফেলে এবং লঞ্চ করার পর দেখা যায় ওই ক্রুজ শিপও বিশাল সফলতা পায় মানুষ পাগলের মতো লাইন ধরে টিকিট কাটতেছে মানুষ ক্রুজে করে ডিজনিতে ঘুরতেছে। আপনি চিন্তা করেন একটা বাচ্চার জন্য যদি আপনি ভাবেন জাহাজে যাচ্ছেন পুরা আটলান্টিকে ঘুরতেছেন আবার ভিতরে এত এন্টারটেইনমেন্ট না করার কোনো কারণ নেই এবং ওই ক্রুজ শিপ থেকেও ডিজনির ভয়াবহ ধরনের আয় রোজগার হওয়া শুরু হয়। ❤️ 😂 😮 😢

তো এরকম করতে করতে মজা করতে করতে ২০০০ সাল চলে আসলো। ২০০০ সালটা খুব ইম্পর্টেন্ট এই জন্য না কারণ এটা মিলেনিয়াম, তার কারণ হলো ২০০০ সালে ডিজনি নতুন একটা প্রেসিডেন্ট পায় ওদের কোম্পানির যেই প্রেসিডেন্টের নাম বব আইগার। বব আইগারের একটা বইও আছে আমি আপনাদের রেকমেন্ড করবো খুঁজে বের করে পড়তে। তো তার আগে বব আইগার সিইও ছিল কিন্তু ডিজনির কোম্পানিটার প্রেসিডেন্টের পাওয়ার সিইও-র থেকে অনেক বেশি এবং প্রেসিডেন্ট খুব ইম্পর্টেন্ট ব্যাপারগুলায় ডিসিশন নেয় যেগুলো হলো স্পেশালি হলো কোন কোম্পানি কিনবো কোন কোম্পানি বেচবো এই ধরনের ব্যাপার স্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডিসিশন নিতে পারে এই ধরনের ব্যাপার স্যাপারে সিইও-রা ডিসিশন নেয় না। ❤️ 😂 😮 😢

তো বব আইগার যখন প্রেসিডেন্ট হয়ে গেল ডিজনির তখন থেকে এটা ২০০০ সাল আমি আরেকবার বলি আপনাদের তখন থেকে ডিজনি অন্য কোম্পানি কেনার জন্য পাগল হয়ে গেল। এর পরের ২০ বছর ডিজনি মোটামুটি ঈদ শপিং চালাইছে। ২০২০ সাল পর্যন্ত এসেও এই ভিডিওটা যখন আমি রেকর্ড করতেছি এই গত ২০ বছর ডিজনির জন্য ঈদ ছিল পাগলের মতো কেনাকাটা করছে ডিজনি। ❤️ 😂 😮 😢

এই লিস্টের প্রথম টার্গেট ছিল আসলে পিক্সার। ডিজনি পিক্সার স্টুডিওটা কিনে ২০০৬ সালে। পিক্সারের মালিক ছিল স্টিভ জবস সেই সময়ে এবং প্রায় সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলার দেয় ডিজনি পিক্সারকে কিনতে। এর ঠিক তিন বছর পরে ২০০৯ সালে ডিজনি কিনে নেয় মার্ভেলকে এবং মার্ভেলকে কেনার জন্য ডিজনি মাত্র চার বিলিয়ন ডলার দেয় আপনারা এখানে মার্ভেলের একটা গ্লাভ দেখতে পারবেন আজকে আমি গ্লাভটা জ্বালাই নাই যদিও। তো মার্ভেল তো ওরা কিনে নিলো। মার্ভেল কেনার পাঁচ বছর পরে ডিজনি কিনে নেয় 20th Century Fox Network. ফক্স নেটওয়ার্কের দাম অনেক সো ডিজনির প্রায় ৭১ বিলিয়ন ডলারের মতো খরচ হয় ফক্স নেটওয়ার্ক কিনতে কিন্তু ফক্স নেটওয়ার্ক কেনার একটা সুবিধা আছে। ফক্স নেটওয়ার্কের ভিতরে আবার অন্য অনেক কোম্পানি ছিল সো ডিজনি পুরা প্যাকেজ পেয়ে যায় ফক্স নেটওয়ার্কের ভিতরে ফক্স টিভি ছিল ফক্স নেটওয়ার্কের ভিতরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ছিল ইএসপিএন ছিল স্টার নেটওয়ার্ক ছিল স্টার নেটওয়ার্কের ভিতরে আবার স্টার ইন্ডিয়া স্টার স্পোর্টস স্টার সিনেমা এরকম অনেকগুলো চ্যানেল আছে সো ফক্স নেটওয়ার্ক যখন ডিজনি কিনে ডিজনি হঠাৎ করে একটা মিডিয়া জগতের জায়ান্ট হয়ে যায়। তার পর আর তাদের কে পিছনে তাকাতে হয় নাই। ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8