অরুপ হংসশাবক

Chapter 1

সেদিন ছিল খুব সুন্দর একটা গ্রীষ্মের দুপুর। মা হাঁস ডিম পাড়ার জন্য পুকুরের ধারে গাছের নিচে খুব সুন্দর একটা জায়গা খুঁজে পেল। সে পাঁচটা ডিম পাড়ল। ❤️ 😂 😮 😢

হঠাৎই সে দেখতে পেল একটা ডিম বাকি ডিমগুলোর থেকে আলাদা। তার খুব চিন্তা হলো। তাই ডিমগুলো ফোটার অপেক্ষা করতে লাগল। ❤️ 😂 😮 😢

অবশেষে একটা সুন্দর মিষ্টি সকালে একটার পর একটা ডিম ফাটতে শুরু করল। ❤️ 😂 😮 😢

পিপ পিপ করে তারা আওয়াজ করছিল। সবকটা ডিম ফুটেই বাচ্চা বেরোল। আর বাচ্চাগুলো ডিম ফুটে বেরিয়ে এই বিশাল দুনিয়াতে চোখ মেলল। সবকটাই ভাঙল শুধু একটা ছাড়া। ❤️ 😂 😮 😢

মা হাস: ওহো কী সুন্দর বাচ্চা হয়েছে আমার! আমি কত ভাগ্যবতী! ❤️ 😂 😮 😢

কিন্তু পাঁচ নম্বরটা ফুটল না কেন? হাঁসটি খুব চিন্তায় পড়ে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

এই শেষ ডিমটা তো অনেকক্ষণ সময় নিচ্ছে। ❤️ 😂 😮 😢

সে ডিমটার উপর বসে যতটা সম্ভব তা দেওয়ার চেষ্টা করল যাতে ডিমটা ফোটে। ❤️ 😂 😮 😢

সবার মতে এটাই সুন্দর হাঁস ছানা হবে। সেজন্যই হয়তো এটা ফুটতে এত সময় নিচ্ছে। ❤️ 😂 😮 😢

একদিন সুন্দর সকালে যখন ডিমটা ফাটল, একটা বিচ্ছিরি দেখতে ধূসর রঙের হাঁস ছানা বেরিয়ে আসল। ❤️ 😂 😮 😢

এই হাঁস ছানাটা ওর ভাই-বোনেদের থেকে আলাদা ছিল। সেটা ছিল বেশ বড়ো কিন্তু বেশ বিচ্ছিরি। ❤️ 😂 😮 😢

পিপ পিপ করে আওজ করছিলো ❤️ 😂 😮 😢

মা হাঁস: আমার একটা ছানাও তো এরকম দেখতে নয়! এটা মনে হচ্ছে কেমন একটা বিদঘুটে! ❤️ 😂 😮 😢

মা হাঁস ওকে দেখে আশ্চর্য হলো আর তার মন খারাপ হয়ে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

মা ভাবল একদিন না একদিন ঠিক ওটা অন্য বাচ্চাদের মতোই হয়ে যাবে। ❤️ 😂 😮 😢

কিন্তু দিন পেরিয়ে যেতে লাগল আর ছানাটা ওরকম বিদঘুটেই থেকে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

ওর সব ভাই-বোনেরা ওই হাঁস ছানাকে নিয়ে মজা করত আর ওরা ওর সাথে খেলতও না। ছানাটা মনে মনে খুব কষ্ট পেত। ❤️ 😂 😮 😢

তুই একটা বিদঘুটে! ❤️ 😂 😮 😢

তুই দুনিয়ার মধ্যে একটা বিচ্ছিরি জিনিস! ❤️ 😂 😮 😢

হ্যাঁ, ভাগ এখান থেকে! তোকে বাজে দেখতে! আমরা তোর সাথে খেলব না! তুই একটা বিচ্ছিরি দৈত্য! ❤️ 😂 😮 😢

ওরা সবাই ওকে দেখে হাসত। তাই দেখে হাঁস ছানাটা খুব কষ্ট পেত। ❤️ 😂 😮 😢

বিচ্ছিরি হাঁস ছানাটা একদিন পুকুরের কাছে গেল আর জলে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেল। ❤️ 😂 😮 😢

কেউ আমাকে পছন্দ করে না, আমাকে খুব বাজে দেখতে। ❤️ 😂 😮 😢

ছানাটা ভাবল তার পরিবারকে ছেড়ে দিয়ে ও আরো গভীর জঙ্গলে কোথাও চলে যাবে। ❤️ 😂 😮 😢

তাই সে একাই গভীর জঙ্গলের দিকে হাঁটতে শুরু করল। ❤️ 😂 😮 😢

একসময় যখন শীত নেমে আসল, চারপাশ বরফে ঢেকে গেল। সে মনে মনে খুব দুঃখ পেল আর ঠান্ডায় সে কাঁপতে লাগল। কিন্তু কোথাও কোনো খাবার পেল না, এবং শীতে থাকবার মতো কোনো জায়গা। ❤️ 😂 😮 😢

সে অন্য একটা হাঁস পরিবারের কাছে গেল কিন্তু ওরাও তাকে ফিরিয়ে দিল। ❤️ 😂 😮 😢

তুই একটা বিচ্ছিরি ছানা! ❤️ 😂 😮 😢

এই বিচ্ছিরি বাচ্চাটা আবার কে? ❤️ 😂 😮 😢

এরপর সে মুরগির বাসায় গেল থাকতে। সেখানেও ওরা ঠোঁট দিয়ে ওকে এমন খোঁচালো যে বেচারা ওখান থেকে পালিয়ে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

রাস্তায় তার একটা কুকুরের সঙ্গে দেখা হলো। ❤️ 😂 😮 😢

কুকুরটা ওকে দেখল আর চলে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

বিচ্ছিরি হাঁস ছানা নিজের মনে ভাবল, আমাকে এত বাজে দেখতে যে কুকুরটাও আমাকে খেতে চাইল না! ❤️ 😂 😮 😢

বিচ্ছিরি হাঁস ছানাটা তখন মনের দুঃখে আবার জঙ্গলে হাঁটা দিল। ❤️ 😂 😮 😢

রাস্তায় এক চাষি তাকে নিজের বাড়িতে বউ আর বাচ্চার কাছে নিয়ে এলো। ❤️ 😂 😮 😢

কিন্তু সেখানেও বাড়ির একটা বিড়াল তাকে বিরক্ত করতে লাগল। তাই সে চাষির বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

এরপর এলো বসন্তকাল। চারিদিক আবার ফুলে ফুলে ঢেকে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

হাঁটতে হাঁটতে সে একটা নদী দেখতে পেল। আবার জল দেখতে পেয়ে তার মন খুশিতে ভরে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

নদীর একেবারে কাছে যেতেই সে দেখল, সুন্দর একটা রাজহাঁস সাঁতার কাটছে। রাজহাঁসটিকে তার খুব ভালো লেগে গেল। কিন্তু ছানাটা নিজের প্রতি লজ্জায় নিজের মাথা নামিয়ে নিল। ❤️ 😂 😮 😢

যখন ও মাথা নামিয়েছিল, তখন জলে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে ও প্রচন্ড অবাক হয়ে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

আরে! ও তো আর বিচ্ছিরি নেই! এখন ও একটা সুন্দর তরুণ রাজহাঁস হয়ে গিয়েছিল! ❤️ 😂 😮 😢

এতক্ষণে সে বুঝতে পারল কেন ও অন্য বাচ্চাদের থেকে আলাদা ছিল। কারণ ও ছিল রাজহাঁস আর ওরা পাতিহাঁস। ❤️ 😂 😮 😢

যাকে ওর ভালো লেগেছিল, সেই সুন্দরী রাজহাঁসকে বিয়ে করে ও সুখে শান্তিতে ওখানেই থাকতে লাগল। ❤️ 😂 😮 😢

........ ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8