সীরাহ মুহাম্মদ সাঃ, পর্ব ১

Chapter 1

"ومن آياته أنك ترى الأرض خاشعة فإذا أنزلنا عليها الماء اهتزت وربت إن الذي أحياها لمحيي الموتى إنه على كل شيء قدير" ❤️ 😂 😮 😢

আর এটিও আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি যে, তোমরা দেখতে পাও ভূমি শুষ্ক, শস্যহীন পড়ে আছে। অতঃপর আমি যেইমাত্র সেখানে পানি বর্ষণ করি, অকস্মাৎ তা অঙ্কুরোদগমে সুসজ্জিত হয়ে ওঠে। যে আল্লাহ এই মৃত ভূমিকে জীবন্ত করে তোলেন, নিশ্চিতভাবেই তিনি মৃতদেরকেও জীবন দান করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু করতে সক্ষম। ❤️ 😂 😮 😢

'সীরাহ'। এই গল্পে আলোচিত হবে পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠতম মানুষ, রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন কথা। ইনশাআল্লাহ এই সীরাতে ইসলাম পূর্ববর্তী আরবের অবস্থা থেকে শুরু করে আলোচনা করা হবে রাসূলুল্লাহর জন্ম, তার নবুওয়াত, দাওয়াহ, হিজরাহ এবং জিহাদের কাহিনী। এই সুদীর্ঘ সময় প্রবাহের কাহিনীগুলোই শুধু নয়, বরং এর সাথে জড়িত মানুষগুলো, তাদের আবেগ, অনুভূতি আর শিক্ষাগুলোও এই সীরাতে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই ❤️ 😂 😮 😢

"نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له اللهم صل وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين أما بعد" ❤️ 😂 😮 😢

সীরাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমরা কথা বলব সেই মানুষটিকে নিয়ে যাকে আল্লাহ বলেছেন, 'রাহমাতাল্লিল আলামিন'। যিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত। তিনি হলেন সেই মানুষ যাকে আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, যাকে আল্লাহ তায়ালার বান্দারা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। আসমান, জমিনে, অতীত আর ভবিষ্যতে, দুনিয়া আর আখিরাতে সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত, মহিমান্বিত মানুষটি হলেন আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ❤️ 😂 😮 😢

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম এই মানুষকে জানার জন্য, তাঁকে ভালোবাসার জন্য, এবং তাঁর সাথে জান্নাতে থাকার প্রয়াস হিসেবে আমাদের এই গল্পের সিরিজ, 'সীরাহ'। আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা দোয়া করি যেন আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই কাজে তার রহমত বর্ষণ করেন। আমরা যা শিখব তা থেকে যেন আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উপকৃত হওয়ার তৌফিক দেন, যেন আমাদেরকে কল্যাণকর জ্ঞান দান করেন। যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করেছে এবং ভালোবেসেছে, আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তৌফিক দান করেন, এবং তাঁর সাথে জান্নাতে থাকার সুযোগ করে দেন। আমিন। ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, "ইন্নাদ্দীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম"। নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দীন একমাত্র ইসলাম। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯)। ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, "লাকাদ কানা লাকুম ফি রাসূলিল্লাহি উসওয়াতুন হাসানাতুল লিমান কানা ইয়ারজুল্লাহ... ইয়ারজুল্লাহ ওয়াল ইয়াওমাল আখিরা ওয়া যাকারাল্লাহা কাসিরা"। তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলের অনুসরণের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সূরা আহযাব, আয়াত ২১)। ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য যে জীবন ব্যবস্থা নির্ধারণ করেছেন তা হলো ইসলাম। ইসলাম হলো আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দীন। মুসলিমরা কখনোই সফল হতে পারবে না যদি না তারা ইসলামকে আঁকড়ে ধরে, ইসলামকে তাদের জীবন ব্যবস্থার মূল সূত্র হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমান সময়ে মুসলিমদের অপমান আর লাঞ্ছনার একটাই কারণ, তা হলো ইসলাম থেকে আমাদের দূরে সরে আসা। ❤️ 😂 😮 😢

মুসলিমরা যদি আবার তাদের গৌরব আর মর্যাদার সময় ফিরে পেতে চায়, তাহলে বিজ্ঞান বা গণতন্ত্র নয়, জাতীয়তাবাদ কিংবা সেক্যুলারিজম নয়, তাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে ইসলামে। আর ইসলামে পুনর্জাগরণ কখনোই সম্ভব নয় যদি না আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সম্পর্কে জানি এবং তার আদর্শের অনুসরণ করি। আল্লাহ তায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন "সিরাজাম মুনিরা", এক আলোকদীপ্ত প্রদীপ। মানবজাতির বেঁচে থাকার জন্য যেমন সূর্যের আলো চাই, তেমনি তাদের সঠিক পথে পরিচালিত হতে চাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াতের আলো। তিনিই হলেন উসওয়াতুন হাসানা, মানবজাতির জন্য উত্তম আদর্শ। ❤️ 😂 😮 😢

সীরাতের মূল কাহিনীতে প্রবেশ করার আগে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বিশেষত্ব সম্পর্কে কিছু না জানলেই নয়। আমরা সবাই জানি আল্লাহর রাসূল ছিলেন সকল নবী ও রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাঁর মর্যাদা এতটাই উপরে যে আমরা যতই তার প্রশংসা করি না কেন, কখনো আমরা তার যথাযথ কদর করতে পারব না। তাই আমরা একটি হাদিস শুনব যা শুনলে আমরা অন্তত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানিত অবস্থান সম্পর্কে অন্তত ধারণা করতে পারি। ❤️ 😂 😮 😢

কিয়ামত দিবসের কথা। মুসলিম, কাফির নির্বিশেষে সকলে অনুধাবন করবে ইসলাম ছিল সত্য। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় হাশরের ময়দানে দাঁড়িয়ে থেকে মানুষ অধৈর্য হয়ে পড়বে। তাই তারা আদি পিতা আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বলবে, "হে আদম, আপনি আমাদের পিতা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার রুহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছিলেন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আপনার সন্তানদের কী অবস্থা?" অর্থাৎ মানুষ আদম আলাইহিস সালামের কাছে গিয়ে আল্লাহর কাছে বিচার শুরু করার অনুরোধ জানাতে বলবে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলবে। কিন্তু আদম আলাইহিস সালাম বলবেন, "আমি এমন একটা গুনাহ করেছি যা করা আমার উচিত হয়নি। তাই আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তিত।" তিনি বলবেন, "ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি", অর্থাৎ আমার কী হবে, আমার কী হবে? তখন সব মানুষ যাবে নূহ আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের কাছে। কিন্তু তিনিও বলবেন, "আল্লাহ আমাকে কারো জন্য সুপারিশ করতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি আমার পুত্রের জন্য সুপারিশ করে তার অবাধ্যতা করে ফেলেছি।" অর্থাৎ নূহ আলাইহিস সালাম নিজেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকবেন। তিনিও বলতে থাকবেন, "ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি"। এরপর তারা যাবে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের কাছে। তারা তাকে অনুরোধ করবে যেন তিনি তাদের হয়ে আল্লাহর কাছে অনুরোধ করেন বিচার দিবসের ফায়সালা শুরু করতে। কিন্তু ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বলবেন, "আমি তিনবার মিথ্যা বলেছি।" যদিও প্রকৃতপক্ষে তিনি মিথ্যা বলেননি, কিন্তু তারপরেও দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ❤️ 😂 😮 😢

প্রথম মিথ্যাটি হলো, সেই রাতে যেদিন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জাতি উৎসব উদযাপনে বেরিয়েছিল, কিন্তু ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাদের সাথে যেতে চাননি। তাই অজুহাত হিসেবে বলেছিলেন, "আমি অসুস্থ।" তারা ভাবল ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম শারীরিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি তাদের অর্থহীন শিরকি কার্যকলাপে মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলেন। ❤️ 😂 😮 😢

দ্বিতীয় মিথ্যাটি ছিল তখন, যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সব মূর্তি ভেঙে সবচেয়ে বড় মূর্তিটির কাঁধে কুড়াল ঝুলিয়ে রাখলেন। লোকজন ফিরে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করায় ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উত্তর দিয়েছিলেন, "সবচেয়ে বড় মূর্তিটা এটা করেছে।" তাদের সামনে মূর্তিপূজার অসারতা তুলে ধরতে তিনি এভাবে কথাটি বলেছিলেন। ❤️ 😂 😮 😢

আর সর্বশেষটি ছিল যখন তিনি তার স্ত্রীকে রাজার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য বোন হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ❤️ 😂 😮 😢

বোন বলতে তিনি দীনের বোন হিসেবে বুঝিয়েছেন। যাইহোক, এরপর সবাই ছুটে যাবে মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের কাছে। কিন্তু তিনি তাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দেবেন এই কথা বলে, "আমি রাগের মাথায় একজনকে খুন করেছিলাম।" এরপর যখন মানুষ ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের কাছে যাবে, তিনি বলবেন তিনি এর যোগ্য নন। কেননা তার লোকেরা ত্রিত্ববাদের অনুসরণ করেছে। এরপর সকলে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাবে, তার কাছে গিয়ে অনুরোধ করবেন যেন তিনি সকলের মধ্যস্থতাকারী হন। মানবজাতির প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে গিয়ে অনুরোধ করবেন যেন কিয়ামত শুরু করা হয়। ❤️ 😂 😮 😢

কিয়ামতের দিন হবে খুব কঠিন। সূর্য থাকবে মানুষের মাথার কাছে। মুসলিম, কাফির নির্বিশেষে সবাই মরিয়া হয়ে যেকোনো মূল্যে এই দীর্ঘ অপেক্ষমাণ সময়ের অবসান চাইবে। শেষ পর্যন্ত তারা ছুটে যাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে। আর তিনি তাদের অনুরোধ রাখবেন, বলবেন, "আনা লাহা, আনা লাহা", অর্থাৎ আমি পারব, আমি পারব। ❤️ 😂 😮 😢

"আসা আই ইয়াবআসাকা রাব্বুকা মাকামাম মাহমুদা"। আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন মাকাম আল মাহমুদে। (সূরা ইসরা, আয়াত ৭৯)। ❤️ 😂 😮 😢

আল মাকাম আল মাহমুদ হলো একটি স্টেশন। যেই স্টেশনে থাকবেন কেবল মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটি হলো এক সম্মানিত ও প্রশংসিত স্থান, আর কেউ এই সম্মান ও প্রশংসার ভাগীদার হবে না। এরপর তিনি সমগ্র মানবজাতির হয়ে মধ্যস্থতা করবেন, যেন তাদের ওপর থেকে বিচার দিবসের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়। সমগ্র মানবজাতি তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা করবে। এই দুনিয়াতে যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করেছে, তাকে ঘৃণা করেছে, মিথ্যাচার করেছে, তারাও সেদিন আল্লাহর রাসূলের প্রশংসা করবে। ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহর রাসূল হলেন শেষ নবী। তারপরে আর কোনো নবী আসবেন না। তিনি হলেন একমাত্র নবী যাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি ছাড়া আর যত নবী বা রাসূল এসেছেন, তারা এসেছেন নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য, নির্দিষ্ট একটি জাতির জন্য। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থান, কাল, পাত্রের সীমা ছাড়িয়ে সকল যুগের, সকল প্রজন্মের জন্য এসেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাহ হচ্ছে সংখ্যার দিক থেকে সর্ববৃহৎ উম্মাহ এবং গুণে-মানে সেরা উম্মাহ। আল ইসরা ওয়াল মিরাজের রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার উম্মাহর আকার দেখানো হয়েছিল। সেই উম্মাহ ছিল বিশাল, পুরো দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত। তাকে দেয়া হয়েছে সবচেয়ে সেরা মুজিযা, সেটা হলো কুরআন। অন্য নবীদের ক্ষেত্রে যে মুজিযা দেয়া হয়েছিল, সেগুলো আমরা কুরআনে জেনেছি, কিন্তু সেগুলো আমরা নিজের চোখে দেখতে পাই না। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন একটি মুজিযা দেয়া হয়েছে যেটি আমরা নিজের চোখে দেখতে পাই। আর কোনো নবীর ক্ষেত্রে এমনটি হয়নি। ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সেই নবী যিনি সাত আসমানের ওপরে আরোহণ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এই মর্যাদা অন্য কোনো নবীকে দেয়া হয়নি। মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন সত্য, কিন্তু সেটি ছিল দুনিয়ার বুকে কথোপকথন। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল ইসরা ওয়াল মিরাজে তিনি নবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তার ইমামতিতে অন্য নবীরা সকলে সালাত আদায় করেছেন। তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন। জান্নাত ও জাহান্নাম তাকে দেখানো হয়েছিল। এই অনন্য মর্যাদা কেবল আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যই। ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবকিছুতেই প্রথম স্থানে থাকবেন। তিনি হবেন সবার নেতা। "আনা সায়্যিদুন নাসি ইয়াওমাল কিয়ামাহ"। কিয়ামত দিবসে আমি হব মানবজাতির নেতা। কিয়ামতের দিন সবার আগে যাকে উত্থিত করা হবে তিনি হলেন আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর তারপরেই মানবজাতির পুনরুত্থান শুরু হবে। যে কারণে তার একটি নাম হলো 'আল হাশির' বা জড়োকারী। সবার আগে যিনি মানুষের হয়ে মধ্যস্থতা করবেন তিনি হলেন আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তার শাফায়াত ছাড়া কোনো মুমিন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না। তিনি মানুষের জন্য এত বেশি শাফায়াত করবেন যার সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। কিয়ামত দিবসে যিনি সবার আগে পুলসিরাত পার হবেন তিনি হলেন আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জান্নাতের দরজাগুলো যার নামে খুলে যাবে, জান্নাতে সর্বপ্রথম যার প্রবেশ ঘটবে, তিনি হলেন আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এমনকি তার উম্মতি অন্য সব উম্মতের আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার জন্য রেখেছেন এক বিশেষ নদী, যার নাম আল কাউসার। "নিশ্চয়ই আমি আপনাকে আল কাউসার দান করেছি।" (সূরা আল কাউসার, আয়াত ১)। সেই নদীর তীর হবে স্বর্ণের। আর সেই নদীর বিছানা হবে মুক্তা আর চুন্নি পাথরের। সেই নদীর পানি হবে দুধের চাইতেও সাদা, মধুর চাইতেও মিষ্টি। ঘ্রাণ হবে মেশকের চাইতেও সুবাসিত। জান্নাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থান হবে সর্বোচ্চের সর্বোচ্চ, আল ওয়াসিলা। তার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব হবে পুরো সৃষ্টিজগতের সবকিছুর ওপরে, আল ফাদিলা। আল ফিরদাউস হলো জান্নাতের সর্বোচ্চ পর্যায়। আর ফিরদাউসের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো আল ওয়াসিলা। জান্নাতকে তুলনা করা যেতে পারে পিরামিডের সাথে। জান্নাতের ওপরে যত ওঠা যায়… ❤️ 😂 😮 😢

চলবে…………. ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8