বিয়ে পাগলের গল্প ( বৈধ ভালোবাসা )

বিয়ে পাগলের গল্প, পর্ব ২৬

বিয়ে_পাগলের_গল্প : ❤️ 😂 😮 😢

বৈধ_ভালবাসা ❤️ 😂 😮 😢

পর্ব : ২৬ ❤️ 😂 😮 😢

গল্পকার : গল্প_বুড়ি_তিলোত্তমা ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

বিয়ের দিন সবাই জামাইকে ভাল করে খেয়াল করে । এরপর কি পড়লো না পড়লো কার কোন মাথা ব্যাথা নাই। ❤️ 😂 😮 😢

উঁকি মেরে দেখার ও কোন ব্যবস্থা নেই । ❤️ 😂 😮 😢

কাউকে জিজ্ঞেস ও করতে পারতেছি না । ❤️ 😂 😮 😢

এখন করি কি উপায় ,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢

মামী আমার কাছে আমার ফোন এনে দিলো। আর বলছে বারবার কিসের যেন ম্যাসেজ আসতেছে । আমার ফোন লক করা এজন্য মামী বুঝতে পারেনি । ফোন হাতে নিয়ে দেখি সাহিলের ২২ টা ম্যাসেজ ৩৮ টা কল । ❤️ 😂 😮 😢

আমি এক সাইডে গিয়ে সাহিলকে ফোন দিলাম । কারণ এখন ম্যাসেজ পড়ার সময় আমার নেই । এজন্য ফোন দিলাম "" ❤️ 😂 😮 😢

ফোন রিসিভ করে সাহিল লম্বা একটা সালাম দিলো ""''' ❤️ 😂 😮 😢

মনে মনে বলি, এত লম্বা সালাম দিলে উত্তর দেয়ার জন্য তো কোন শব্দ বাকি থাকলো না । কারণ হাদীসে এসেছে সালাম প্রদান করলে তার চেয়ে উত্তমরূপে সালামের জবাব প্রদান করতে হয়। ❤️ 😂 😮 😢

তার মানে যদি কেউ আসসালামু আলাইকুম বলে, জবাবে বলতে হবে ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লহ ❤️ 😂 😮 😢

আর এর তার চেয়ে বাড়িয়ে বললে বাড়িয়ে উত্তর দিতে হবে । ❤️ 😂 😮 😢

কিন্তু আমার বরতো বিয়ের খুশির ঠ্যালায় যা যা শব্দ ছিল সবটুকু দিয়ে সালাম দিয়েছে । এখন আমিও ঐটুকু শব্দ দিয়ে ওর সালামের জবাব দিলাম ❤️ 😂 😮 😢

----আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারক্বাতুহ ওয়া মাগফিরাতুহ ওয়া জান্নাতুহ্। ❤️ 😂 😮 😢

----- ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারক্বাতুহ ওয়া মাগফিরাতুহ ওয়া জান্নাতুহ্। ❤️ 😂 😮 😢

------ বউ কেমন আছেন আপনি ? ❤️ 😂 😮 😢

------ আলহামদুলিল্লাহ । আপনি কেমন আছেন ? ❤️ 😂 😮 😢

------ আমিও আলহামদুলিল্লাহ । এই খুব বিজি নাকি ? ❤️ 😂 😮 😢

------ হুম । আজকে আমার বিয়ের অনুষ্ঠান তো এজন্য আমি একটু ব্যস্ত। ❤️ 😂 😮 😢

------ ওহ হো হো ! আমি তো ভুলেই গিয়েছি । আজ আপনার বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে । তা বরের খবর না নিয়ে । বিয়ে নিয়ে তো খুব মজায় আছেন । ❤️ 😂 😮 😢

----- বরের খবর কি নিবো । বরের খবর নেয়ার কত মানুষ । এখন তো আমার খবর নেয়ার কেউ নেই । ❤️ 😂 😮 😢

----- আহারে তাই বুঝি । আমি তো আছি গো বউ। আচ্ছা বউ তোমার চাঁদ বদনখানা চেহারার একখানা ছবি সেন্ট করতো । তোমাকে একটু দেখি । ❤️ 😂 😮 😢

------ না আগে তোমার ছবি পাঠাও । কারণ আমার তো কোন আনকমন লুক না । আট দশটা বউয়ের মত লুক আমার । এরচেয়ে আগে নিজের আলোড়ন সৃষ্টি করা লুকটা একবার দেখে চোখ দুটোকে স্বার্থক করি । ❤️ 😂 😮 😢

------ শুধু দেখলে হবে । খরচা আছে । আগে তোমার ছবি তারপর আমার । ❤️ 😂 😮 😢

এভাবে দুজন পাল্টাপাল্টি করতে করতে ফোন রেখে দিলাম । আল্লহ আজ আমার বরের কত ভাব । শুধু ছোটবেলায় শুনছি, বিয়ের দিন নাকি ছেলেরা খুব ভাব নেয়। আজ আমার বরকে দেখে তার প্রমান পেলাম । ❤️ 😂 😮 😢

তরী, তনু,আর নিপা ওরা নাকি সাহিলের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে । আমিও লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে ওদের বললাম, ফোনে যেন ওরা সাহিলের ছবি তুলে নিয়ে আসে। সাহিল যেন না জানে । ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহ গো ! একথা বলতেই আমার বান্ধবীগুলো আমারে পুরা ক্ষ্যাপাইতে ক্ষ্যাপাইতে পাগল করে ফেলছে । ❤️ 😂 😮 😢

নিপা বলতেছে এতদিন জানতান বরেরা বউ দেখার জন্য অস্থির থাকে । আজ দেখছি তার পুরা উল্টো কাহিনী । ❤️ 😂 😮 😢

তরী বলতেছে, ❤️ 😂 😮 😢

সবি কলি কাল, কলি কাল ❤️ 😂 😮 😢

বরকে দেখার জন্য বউ কি বেসামাল """ ❤️ 😂 😮 😢

তনু বলতেছে, আহারে! বেচারির খবর টা তাড়াতাড়ি সাহিল ভাইকে জানানো দরকার । তা নাহলে তার বউ কখন আবার এই গরমে #হিট_স্টোক করে । ❤️ 😂 😮 😢

এই বলে তিনজন কি হাসাহাসি করতেছে। মনে মনে বলি, আমি মরছি আমার জ্বালায়। ওরা তিনজন চলে গেল । তুষারের তো কোন খবর নাই । মনে হচ্ছে আমার ভাই আজ তার আদরের দুলাভাইকে জামাই আদর করতে ব্যস্ত । ❤️ 😂 😮 😢

আমার ৭ ননদ এসে হাজির । ভালই এরা ৭ জনে এক ডিজাইনের ফোর পার্ট বোরকা পড়ছে । সবাইকে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে । আমার সাথে কোন রকমে কথা বলেই শুরু হলো এদের সেলফি কুলফি নেয়া । ওদেরও লজ্জায় কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছিনা । ❤️ 😂 😮 😢

শুধু ওদের বললাম, ওরা যেন আমার ছবি সাহিলকে না দেখায় । আমার কথা শুনে সায়লা বলল, দাদাই ও তার ছবি তোমাকে দেখাতে নিষেধ করছে । ❤️ 😂 😮 😢

আমি ওদের বললাম, তবে ঠিক আছে দুজনের কথাই কিন্তু রাখতে হবে । কারো কথার বরখেলাপ করা যাবে না । কারণ কথা দিয়ে কথা না রাখা মুনাফিকের লক্ষণ। ❤️ 😂 😮 😢

ওরা তাড়াহুড়া করছে, ওরা নাকি খেয়ে এখনি চলে যাবে। কারণ ওদের নাকি বাসর সাজাতে হবে। মনে মনে বলি, তবে দাদা নাতীকে ১৫০০০/২০০০০ টাকা হাতে গুনে রাখতে হবে । তবেই না ছাড় পাবে । ❤️ 😂 😮 😢

হঠাৎ আমার নানুর আগমন ঘটলো । আজকাল নানুকে দেখলেই আমার গলা শুকিয়ে আসে । কারণ কখন যে কার সামনে কি বলে তার কোন ঠিক-ঠিকানা নাই । ❤️ 😂 😮 😢

নানু বলতেছে, ❤️ 😂 😮 😢

মিষ্টিরে তুই তো আইজ আর জামাই চিনবি না । আইজ আমার দুই ভাই যে সাজোন দিছে, চিনবার পারবি না কোনডা তোর জামাই । ❤️ 😂 😮 😢

আমি মনে মনে বলি, আমার চোখের তো পাওয়ার কমে নাই যে, কোনটা বুড়া আর কোনটা ছুড়া আমি চিনবো না । ❤️ 😂 😮 😢

আমার মামা মাঝখান থেকে এসে বললো ঠিক বলছো মা । আমার বড় মামা ছোট মামা দুইজনি এক পোশাকে মাশাআল্লাহ এত সুন্দর লাগতেছে । কাকে রেখে কাকে সুন্দর বলবো। ❤️ 😂 😮 😢

আমার মামা আজ মামা হওয়ার সব ফরয আদায় করলো । এজন্য তো আমার বরের ছবিখানা আমার মামা-,ই দেখালো । ❤️ 😂 😮 😢

মামা বলতেছে দেখতো মিষ্টি চিনতে পারছিস কি না ? ছবির দিকে তাকিয়ে আমি তো পুরা অবাক । ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী আর সাহিল দুজনে সাদা জুব্বা পড়া, মাথায় সাদা পাগড়ি পড়া । কাঁধের এক পাশে সাদা চাদরের মত যেন কি ? ❤️ 😂 😮 😢

দেখে মনে হচ্ছে দুজনেই জামাই সেজে এসেছে । মাশাআল্লহ ! ❤️ 😂 😮 😢

সাহিলকে যতবার দেখছি । আজ ওকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগছে । দাড়িগুলো খুব সুন্দর চিকচিক করছে । আর পাগরি তে যেন চেহারার মাঝে যেন এক নুরানি ভাব আনছে । ❤️ 😂 😮 😢

এজন্য তো আজ আমার বরের এত ভাব। ❤️ 😂 😮 😢

আজ নানাজ্বী তো পুরা হিরো । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল তো নানাজ্বীর কাছে পুরাই জিরো । ❤️ 😂 😮 😢

আসলে সাহিলের সাথে নানাজ্বীর চেহারা, হাইট, গায়ের রং অনেক মিল । এজন্য তো সাহিলের বোনেরা নানাজ্বীকে দাদা আর সাহিলকে দাদাই বলে ডাকে। ❤️ 😂 😮 😢

ওহ্ আলহামদুলিল্লাহ । মনে বড় শান্তি পেলাম । চিন্তায় অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম । ❤️ 😂 😮 😢

হঠাৎ চেঁচামেচি আর রাগারাগির আওয়াজ কানে আসলো । মামা আমার কাছে ফোন রেখে চলে গেল । সবাই কানাঘুষা করছে, খাবারের টেবিলে নাকি গন্ডগোল লাগছে । ❤️ 😂 😮 😢

এতক্ষণে মনে হয় সবাই শয়তানের ফাঁদে পা দিলো । মানুষ বলে একশ কথা খরচ না হলে নাকি বিয়ে হয় না । এখন মনে হয় সেই একশ খরচ হওয়ার সময় আসছে । ❤️ 😂 😮 😢

ভাল্লাগেনা ! এক চিন্তা যেতে না যেতেই আরেক চিন্তা এসে হাজির । আম্মু আমার কাছে এসে অস্থির হয়ে বসলো । ❤️ 😂 😮 😢

আম্মু বলতেছে, সাহিলের মামা এমনিতেই এই বিয়েতে নাকি মত ছিলনা । এখন কি যে কি করবে, তা আল্লহ জানে । ❤️ 😂 😮 😢

আর তোর মামা তো কমি রাগী । সে যে কি করবে তা নিয়ে আরেক চিন্তা । ❤️ 😂 😮 😢

আমি কি আর বলবো ? মনে মনে আল্লহর কাছে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে পানাহ চাচ্ছি । এই জন্য আমি আগেই বলছিলাম, এসব অনুষ্ঠানের দরকার নাই । টাকা খরচ কথা খরচ । মাঝখান থেকে দুই পরিবারের মাঝে দ্বন্দ্ব । এখনও মানুষ তার মন মানসিকতা চেঞ্জ করতে পারলো । আজও মানুষ মেয়ে পক্ষকে ছোট করে দেখে । চিন্তায় থাকে কেমন করে তাদের দোষ ধরা যায়। ❤️ 😂 😮 😢

তারা চিন্তা করে না আমার নবীজী ৪ কন্যার পিতা ছিলেন । ❤️ 😂 😮 😢

এইসবের চক্করে পড়ে আমার আজকে সব নামায কাযা হচ্ছে । আল্লহ তুমি মাফ করো । ❤️ 😂 😮 😢

রাগান্বিত চেহারা নিয়ে নানাজ্বি আমার রুমে ঢুকলেন । আমি তাকে সালাম দিলাম । নানাজ্বী আমার সালামের জবাব দিয়ে নানু, মামী আর আম্মুকে ডাকলেন । নানাজ্বী আম্মুর হাতে চুড়, নাকফুল আর আংটি দিলেন। আর মামীর হাতে মেয়ে সাজানোর জন্য ৮০০০ টাকা দিলেন । আমাদের এখানে নিয়ম। মেয়ে যারা সাজায় তাদের টাকা দিতে হয়। ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী আম্মকেু বলল, আমাকে গহনা পড়ানোর জন্য । আম্মু আমার এক হাতের চুড়িগুলো খুলে চুর পড়ালো, হাতে আংটি আর নাকে ডায়মন্ডের নাকফুল । ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী আমাকে দেখে বললো, মাশাআল্লহ । আজ ওদের দুজনরে কি ভালো লাগতেছে। এক লগে আরও ভাল লাগবো। ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলেন । আম্মুর কাছে হাত বাড়িয়ে ক্ষমা চেয়ে বললেন, আমি তোদের উপর জুলুম না করতে চেয়ে জুলুম করে ফেললাম । তোরা আমাকে ক্ষমা করিস । ❤️ 😂 😮 😢

তিনি আরও বললেন, মানুষ আসার কথা ছিল ৭০ জন । সেখানে মানুষ আসছে ১০০ জন । নানাজ্বী জানেই না মাঝ রাস্তায় ৩০ জন আগে থেকেই এসেছিল । এরা সবাই সাহিলের মামাবাড়ির লোক । এরা চেয়েছিল আমাদের অপমান অপদস্ত করার জন্য । কিন্তু পারেনি, কারন মামা যথেষ্ট বড় করে আয়োজন করছেন । ❤️ 😂 😮 😢

আম্মু নানাজ্বীর হাত দুটো ধরে বললেন, মামা এমন কথা আপনি বলবেন না । আপনি আমাদের দুপক্ষের একমাত্র মুরুব্বি । তাদের রিযিক ছিল বলেই তারা আসছে । কারণ রিযিকের মালিক আল্লহ । কেউ কাউকে খাওয়ায় না, যদি না আল্লহ চান । ❤️ 😂 😮 😢

সত্যি নানাজ্বীর জন্য আমার ভিষণ খারাপ লাগছে । বুড়ো বয়সে এতটা টেনশন তার জন্য ঠিক না । ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী আম্মুকে বলল, ওসব বাদ দে। আমার মাথা গরম । এখন আসল কথা হলো, মোহারানার টাকা সাহিল মিষ্টির হাতে দিয়ে দিবে । যেহেতু এর হকদার মিষ্টি । এজন্য তার কাছেই দিবে। ❤️ 😂 😮 😢

আম্মু নানাজ্বীকে বলল, গহনা দিয়েই তো মোহারানা পরিশোধ হয়ে গিয়েছে । তবে টাকার দেয়ার কি দরকার? ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী বললেন, সাহিল নাকি বলছে, গহনা তো তার বাবা দিয়েছে । মোহরানা তো তার পরিশোধ করার কথা । এজন্য মোহারানা টাকা সে নিজে দিবো । ❤️ 😂 😮 😢

তুষার আর আমার বান্ধবীরা দেখছি মহাখুশিতে গদোগদো । ওদের খুশির কারণ জিজ্ঞেস করলে বললো, সাহিলের কাছ থেকে হাত ধোয়া জন্য আরও ৫০০০ টাকা ঝারছে । ❤️ 😂 😮 😢

তরী বলছে, নারে মিষ্টি হাত ধোয়ানোর জন্য ৩০০০ আর তোর ছবি দেখানোর জন্য ২০০০ টাকা । ❤️ 😂 😮 😢

আমি চোখ কপালে তুললাম মানে কি ? ❤️ 😂 😮 😢

তারমানে আমার ভাই আমার ছবি দেখিয়ে সাহিলের কাছ থেকে টাকা ঝারছে । ❤️ 😂 😮 😢

তুষার আমার চোখ দেখে বলতেছে,, আপুনি আইডিয়া কিন্তু আমার না তরী আর নিপা আপুর । ❤️ 😂 😮 😢

ওরা বলছে ঠিক আছে আইডিয়া যখন আমাদের তো টাকা আমাদের দাও । এই কথা বলতেই তুষার বলল, ছবি তো আমার ফোনের ছিল। ❤️ 😂 😮 😢

সত্যি দিনদিন ভাইয়াটা শেয়ানা হয়ে যাচ্ছে । ❤️ 😂 😮 😢

বিয়ে বাড়িতে থমথমে পরিবেশ । কি একটা বিশৃঙ্খলা । পরে শোনা গেল ঝগড়া লাগছে নাকি এজন্য, মাংস রান্নায় ঝাল লবন হয় নাই নাকি ? এসব শুনে আমার নিজের এত লজ্জা লাগছে । বেচারা সাহিলের যে কি হাল। ❤️ 😂 😮 😢

সত্যি মানুষের মনে অসৎ ইচ্ছে থাকলে ❤️ 😂 😮 😢

""তিলকে তাল করতে পারে ""। ❤️ 😂 😮 😢

বেশি লোক এনে ঝামেলা করতে পারলো না বলে, রান্নায় খুঁত ধরলো। ❤️ 😂 😮 😢

সারাজীবনের জন্য আমি আর সাহিল ছোট হলাম। কারণ লোকে এক কথায় বলবে মিষ্টির শ্বশুরবাড়ির লোক এমন করছে । আর সাহিলকে বলবে ওদের বাড়িরলোক এমন করছে । ❤️ 😂 😮 😢

বিয়ের দিন কে কি আচারণ করলো এটাই মানুষ বিচার করে। পরে কে কি করলো, তা মানুষ দেখেও না বিচার ও করেনা । তারা কি ভাবে না তাদের ও তো বোন,ভাগ্নি মেয়ে আছে। ❤️ 😂 😮 😢

সত্যি বেশির ভাগ বিয়ে বাড়িতে তৃতীয় পক্ষেরজন ঝামেলা সৃষ্টি করে । দুপক্ষের মাঝে ঝগড়া বিবাদ বাজায় । আর এই ঝামেলা সারাজীবন বয়ে বেড়ায় ছেলে পক্ষ আর মেয়ে পক্ষ। ❤️ 😂 😮 😢

ডাঃ নানা এসে নানুকে বলল, তাড়াতাড়ি সব প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। কারণ আমাকে নাকি মাগরিবের পর বিদায় দেয়া হবে । ❤️ 😂 😮 😢

ডাঃ নানা আমাকে বলছে, ও সখী আমারে একা রাইখা বরের সাথে চলে যাইবা। আমারে ভুইলা যাইও না কিন্তু । ❤️ 😂 😮 😢

আমি হেসে বললাম, আপনাকে কি ভুলা যায়। ❤️ 😂 😮 😢

নানা মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন, আল্লহ যেন তোমাদের সারাজীবন সুখে রাখে । ❤️ 😂 😮 😢

এদিকে দেখছি তোরজোর শুরু হয়েছে আমাকে বিদায় দেয়ার জন্য। একটুপর সাহিলকে অন্দরমহলের আনা হবে । এসব দেখে আমার বুকের ভিতর ভেঙ্গে চুরে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর থেকে আমি এই বাড়ির অতিথি ছাড়া আর কিছু না । কত স্মৃতি কত মায়া মমতা জরিয়ে আছে এই বাড়ির কোণায় কোণায় । আর থাকতে হবে অন্য একটা বাড়িতে । যা আমার কত অচেনা । আমার বুক ভারী হয়ে আসছে। ❤️ 😂 😮 😢

আমি মনে মনে ভাবছি, কত আয়োজন করে একটা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বিদায় করা হয়। তারপরও যদি সেই মেয়েটা সুখি না হয় । এরচেয়ে বড় দুঃখ আর অবিভাবকের হয় না। ❤️ 😂 😮 😢

আমার আম্মু বলে,,,, ❤️ 😂 😮 😢

দাদু নাকি সব সময় বলতো, বউ মাইয়া বড় ভালা জিনিষ। যদি তার কপালখানা ভালা হয়। আর যদি কপালে সুখ না থাকে, তাইলে, মাইয়ার লগে বাপ মায়ের ও সারাজমনের কান্দন। ❤️ 😂 😮 😢

দাদী সত্যি কথা বলতো । কারণ তাদের জীবন তাদের যে শিক্ষা দিয়েছে। তারা সেই রেশ ধরেই কথাগুলো বলতেন। ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী আম্মুকে ডেকে বললেন, তিনি নাকি আমাকে আর সাহিলকে নিয়ে চলে যাবেন । আর বাদ বাকি লোক থাকবে । কারণ নানাজ্বী মামাকে বলছে, আবার নতুন করে ঝাল দিয়ে মাংস রান্না করে তাদের খাওয়াতে । আর মাংস না খেয়ে যেন কেউ এক কদম না নড়তে পারে । এটা নানাজ্বীর ওয়াডার । কারণ আজ তাদের জীবনের মত মাংস একবারে খাওয়াবে মনে হয়। তারা আর জীবনে কোন বিয়ে বাড়িতে গিয়ে মেয়ের বাড়ির খাবারের দোষ না ধরে। ❤️ 😂 😮 😢

এখন যারা বাড়াবাড়ি করছিল । তারা তো ভিষণ মসিবতে । তাদের এখন আর কোন রাস্তা নাই। ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী এক কথার লোক । এমনিতেই বিয়ে নিয়ে তার কোন কথা রাখা হয় নাই । তার উপর এসব আচার-আচরণ । ❤️ 😂 😮 😢

এজন্য এটাই তাদের জন্য উচিৎ শিক্ষা । ❤️ 😂 😮 😢

রাগে নানাজ্বী কাঁপছে আর কথা গুলো বলছে। ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বীর রাগের কারণ হচ্ছে আমার নানু তার বোন । আবার আরেক নতুন আত্মীয়তা হলো । আর তারা এসব কান্ড করে তাকে কতটা ছোট করলো। সে তা বরদাস্ত একদম করতে পারছে না। ❤️ 😂 😮 😢

আমাকে আমার রুমে সুন্দর করে বসানো হলো । দুই নানা মানে ডাঃ নানা আর নানাজ্বী সাহিলকে অন্দরমহলে আনতে গিয়েছেন । কারণ আমার রুমে অন্দরমহলের আয়োজন করা হয়েছে । এখানে বাহির কোন মানুষ নেই । আমার তিন বান্ধুবী ছাড়া সবাই আমাদের বাড়ির লোকজন । আমার বান্ধবীরা দুষ্টুমি করে আমার মাথার ঘোমটাটা বেশ লম্বা করে টেনে দিল। যার ফলে আমার মুখটা অর্ধেক ঢেকে আছে । তার মানে সাহিলকে আমার মুখ দেখতে হলে টাকা দিতে হবে । ❤️ 😂 😮 😢

আম্মু এসব করতে না করছিলো । কিন্তু নানাজ্বী বলছে, টাকা যাবে সাহিলের বাপের যাবে। আমার মা কেন চিন্তা করছে । কারণ তার কথা মত সুন্নত অনুসরণ করে বিয়ের অনুষ্ঠান করলে তো এত টাকা খরচ হত না । খরচ যখন করবে তো, খরচ ভাল করেই হোক । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিলরা এসে দরজায় দাড়িয়ে সালাম দিলো । এপাশ থেকে তো দরজা ধরে দাড়িয়ে আছে আরবাজ আর আবরার । ওদের পিছনে আমার তিন বান্ধবী আর তুষার । নানাজ্বী তুষারের হাতের মুঠে টাকা গুজে দিল । আম্মু তুষারকে ইশারা করে বললো ওদের সরিয়ে দিতে । ওদের সরিয়ে দিয়ে সাহিলকে ভেতরে এনে আমার পাশে বসানো হলো। ❤️ 😂 😮 😢

এরপর আমার নানু আর আম্মু এসে আমাকে আর সাহিলকে গরম দুধ আর মিষ্টি খাওয়ালো । নানাজ্বী এসে আমার ঘোমটা তুলতে যাবে অমনি আমার বান্ধবীরা বললো, নানা বউ দেখতে হলে তো বকশিস দিতে হবে। ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী বলল, আমার কাছে টেকা পয়সা নাই, তোমরা আমারেই রাইখা দাও । ❤️ 😂 😮 😢

আমার বান্ধবীরা বললো, নানা আমাদের বর না থাকলে আপনেরে রাইখা দিতাম । ❤️ 😂 😮 😢

সবাই তো এই কথা শুনে বেশ হাসাহাসি করছে। এদিকে আমার হাসি আসতেছে আবার কান্নাও আসতেছে । মিশ্র অনুভূতি কাজ করতেছে। ❤️ 😂 😮 😢

অবেশেষে নানাজ্বী টাকা দিয়ে বলল, তোমারা যা টেকা পয়সা খরচ করাইলা । আমার কালানে আমি ১০ খানা বিয়া করতে পারতাম । ❤️ 😂 😮 😢

অবশেষে আমার ঘোমটার উন্মোচন হবে। তুষার তো আরেক দুষ্ট । তুষার বলতেছে বউ কার আর দেখে কে ? ❤️ 😂 😮 😢

তনু আমার ঘোমটা তুলে দিল। আমার আর সাহিলের সামনে আয়না ধরলো । কিন্তু ওরা দুষ্টুমি করে যেকোন একজনের সামনে আয়না ধরছে । আমরা দুজন দুজনকে দেখতে পারছিনা । ❤️ 😂 😮 😢

অবশেষে সব অপেক্ষার অবসান হয়ে দুজন দুজনের মুখ দেখলাম । আমি একবার তাকিয়ে, লজ্জায় চোখ বন্ধ করে নিলাম । আর আমার কেবলা বর তাকিয়ে আছে তো আছেই। আমার বান্ধবীরা তো এক একজন গলায় বারবার হালকা করে কাঁশি দিয়ে সাহিল বেচারাকে লজ্জায় ফেললো । ❤️ 😂 😮 😢

সব আনন্দের শেষে যেন, থমথমে কষ্টের দমকা হাওয়া বইতে শুরু করলো । ❤️ 😂 😮 😢

আমাকে এখন কালো আলখেল্লা বোরকা পড়িয়ে বাহিরে বের করা হলো। অনেকে অবাক দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । নতুন বউ বোরকা পড়ে যাচ্ছে । এ ব্যাপারটা বেশির ভাগ লোকের কাছে অস্বাভাবিক ব্যাপার । কারণ আমার মনে হয়না আমাদের এলাকায় কোন মেয়ে, বিয়ের দিন এভাবে বোরকা পড়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে । ❤️ 😂 😮 😢

আমার চাচ্চু আর মামা এসে সাহিলের হাতে আমার হাত রেখে বলল, আমার ছোট্ট মিষ্টি মেয়েটার হাত তোমার হাতে দিলাম । শত দুঃখ কষ্টে মাঝেও হাতটা শক্ত করে আল্লহর ওয়াস্তে ধরে রেখ, ছেড়ে দিওনা । আজ থেকে মিষ্টি তোমার আমানত । আর আমাকে বলল, মিষ্টি সারাজীবন দুজন দুজনকে এভাবে আগলে ধরে থাকবে। কেউ কখনও হাতের বাঁধন আলগা হতে দিবেনা । আল্লহ তোমাদের দুজন দুজকে দুজনার জন্য নির্বাচন করছে। এজন্য এ সম্পর্কের কোন অমর্যাদা করোনা। ❤️ 😂 😮 😢

আমার এসব কথা শুনে চোখের পানি বৃষ্টির ফোঁটা মত টুপটুপ করে ঝরে পড়ছে । চেপে কান্না করতে করতে বুকটা ভারী হয় আসছে। ❤️ 😂 😮 😢

মামা আর চাচ্চু পুরুষ মানুষ তো, শত কান্নাকে চোখের মাঝে রেখেই বিলীন করে দিলেন। ❤️ 😂 😮 😢

তুষার আমাদের সাথে যাচ্ছে । এজন্য ও এতটা আপসেট না । আমার চোখ শুধু আম্মুকে খুঁজছে । কিন্তু আম্মু মনে হচ্ছে আমার আশেপাশে নেই । জানি মা তো আড়ালে কোথাও লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছে। ❤️ 😂 😮 😢

সবাই গাড়ীর দিকে পা বাড়াতে বলছে । কিন্তু জানিনা কেন জানি পা তুলতে পারছিনা । মনে হচ্ছে পুরো শরীর যেন অসার হয়ে গিয়েছে। একবিন্দু শক্তি শরীরে অবশিষ্ট নেই। সামনের দিকে পা আমার যাচ্ছে না । ❤️ 😂 😮 😢

হঠাৎ কেমন জানি একটা টান অনুভব করলাম """। শরীর সব শক্তি যেন ফিরে এলো। ❤️ 😂 😮 😢

পিছন ফিরে এক দৌড় দিলাম """''''' ❤️ 😂 😮 😢

♥ ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

চলবে,,,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢

🎁🎁🎁 ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

! ❤️ 😂 😮 😢

★ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন"'। ❤️ 😂 😮 😢

#জাযাকাল্লহ_খইরন💜💔💔 ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8