অচেনা মায়া

Chapter 1

অচেনা_মায়া ❤️ 😂 😮 😢

জ্ঞান ফিরতেই অদ্ভুত ঘড়ঘড় শব্দে ভড়কে গেল রোহান, ধড়ফড়িয়ে উঠে বসার চেষ্টা করে বিফল হলো। এবার খেয়াল করল হাত-পা স্ট্র‍্যাপ দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। নাকের উপরে অক্সিজেন মাস্কের মতো কিছু একটা লাগানো। মুখ ঘুরিয়ে আশেপাশে নজর বুলালো সে। ধবধবে সাদা রঙের দেয়াল দেয়া একটা ঘর, অদ্ভুত সব যন্ত্রপাতি চারপাশে। রোহানের মনে হলো এটা বুঝি একটা ল্যাবরেটরি। ❤️ 😂 😮 😢

"ওয়েলকাম টু আওয়ার গ্যালাক্সি, রোহান।" ❤️ 😂 😮 😢

কিছুটা মেয়েলী আর যান্ত্রিক গলার স্বরে মাথা ঘুরিয়ে পাশে তাকিয়ে দেখল অতি রূপবতী একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু মেয়েটার কোথায় যেন একটা অস্বাভাবিকতা রয়েছে! সে ঠিক ধরতে পারছে না। ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি 'প্ল্যানেট সিক্সটিন' এ সারভাইভ করতে পেরেছ। কংগ্রাচুলেশনস।" ❤️ 😂 😮 😢

"মানে কী? তুমি কে? এটা কোন জায়গা? আমি এখানে কেন?" ❤️ 😂 😮 😢

"আমি ড. নোরা। এটা 'প্ল্যানেট সিক্সটিন'। আমাদের গ্রহের সন্ধান এখনো তোমরা পাওনি।" ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি মজা করছো আমার সাথে?" ❤️ 😂 😮 😢

"আমরা মজা করতে পারি না। সেটা মানুষরা পারে।" ❤️ 😂 😮 😢

রোহান এবার পূর্ণ দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকালো, নীলচে চোখ দুটো বড্ড যান্ত্রিক। ভাবলেশহীন অভিব্যক্তি মুখাবয়বে। ভয়ের একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল রোহানের মেরুদণ্ড বেয়ে। ❤️ 😂 😮 😢

"যা বলার পরিষ্কার করে বলো। তোমরা কারা? তোমাদের উদ্দেশ্যই বা কী? আমাকে এখানে কেন আর কীভাবে আনা হয়েছে?" ❤️ 😂 😮 😢

হতবিহ্বল হয়ে একসাথে অনেকগুলো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল রোহান। যতদূর মনে পড়ছে, বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিল। পিঠের দিকে মেরুদণ্ডের মাঝ বরাবর ব্যথা পেয়েছিল সে। চিকিৎসক এমআরআই করাতে বললে, খুব ভয় পেয়েছিল। ছোটবেলায় একবার খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রায় মরতে বসেছিল, সাথের ছেলেটা দ্রুত বাড়িতে খবর দিলে কোনোক্রমে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। তারপর থেকে আবদ্ধ জায়গার একটা তীব্র ভীতি মনে জেঁকে বসে আছে। ওর প্রবল আপত্তির মুখে চিকিৎসক অগত্যা চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে এখানে আবিষ্কার করল। ❤️ 😂 😮 😢

"আমরা অনেকদিন ধরে তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু অনেকরকম সিগনাল পাঠিয়েও কোনো লাভ হয়নি। পৃথিবীর আবহাওয়ার জন্য আমরা সরাসরি সেখানে যেতে পারছিলাম না।" ❤️ 😂 😮 😢

নোরা কিছুটা হেঁটে সামনে এগিয়ে গেল, একটা সুইচ চাপতেই ত্রিমাত্রিক হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে সেই এমআরআই কক্ষ চোখে পড়ল, আস্তে আস্তে কক্ষের বাইরে আলোকপাত করল যন্ত্রটা। এবার দেখল তার মা বসে বসে কাঁদছেন। ভেতরে ভেতরে ভীষণ বিচলিতবোধ করল রোহান। ❤️ 😂 😮 😢

"অবশেষে সুযোগ এলো, তোমাকে এমআরআই মেশিনে ঢুকানোর পর আমাদের কমিউনিকেশন মডিউল সিগনাল পেল। তারপর সেটার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তোমাকে এখানে আনা হয়েছে।" ❤️ 😂 😮 😢

এতক্ষণে একবারের জন্যও রোহান নোরার মুখে অন্যকোনো অভিব্যক্তি দেখেনি। ❤️ 😂 😮 😢

"এত ঝামেলা করে আমাকে এখানে নিয়ে আসার কারণটা জানতে পারি?" অধৈর্য্য হয়ে প্রশ্ন করল রোহান। ভেতরের ভয়টা ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে৷ ❤️ 😂 😮 😢

"তোমার কাজ হলো 'ডায়াটনিক স্কেল ইকুয়েশন' সমাধান করা। কারণ পৃথিবীতে তুমিই একমাত্র মানুষ যে এই ইকুয়েশনের প্রায় এইটটি ওয়ান পার্সেন্ট সমাধান করেছো৷ দ্বিতীয়জন এখনো থারটি সিক্সে আটকে আছে।" কোনোরকম ভূমিকায় না গিয়ে সরাসরি কাজের কথা বলল নোরা। ❤️ 😂 😮 😢

রোহান চমকে উঠে জিজ্ঞেস করল, "এটা তোমাদের কেন প্রয়োজন?" সে অত্যন্ত ক্ষুরধার মস্তিষ্কের একজন গণিতবিদ। অসীম কৌতূহল দমাতে না পেরেই এই সপ্তক সমীকরণ সমাধানে নেমে পড়ে। শতকরা একাশি ভাগ সমাধানের পরে এসে বুঝতে পারে এটা পুরোপুরি সমাধান করলে পৃথিবীর বিপদ। অক্সিজেন এমনভাবে হ্রাস পাবে যে কোনো প্রাণী টিকতে পারবে না। ❤️ 😂 😮 😢

"এটা সলভ হলে আমরা অনেক সম্বৃদ্ধ হবো। এমনিতে আমরা কয়েকটা দিক দিয়ে মানুষের চাইতে এগিয়ে থাকলেও কিছু দিক থেকে পিছিয়ে আছি৷ আমরা পৃথিবীর অক্সিজেনে সার্ভাইভ করতে পারি না। তোমাদের মতো আমরা অনুভূতিপ্রবণ নই, মানবিক কিছু অনুভূতিও প্রয়োজন আমাদের।" যান্ত্রিক গলায় বলে চলছে নোরা। ❤️ 😂 😮 😢

"আমি যদি না রাজি হই? এটার সমাধান হলে পৃথিবীর উপরে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, অনেককিছু বদলে যাবে। তাই কাজটা করছি না আমি।" ❤️ 😂 😮 😢

"কিন্তু আমাদের গ্রহের কল্যাণের জন্য এটা অবশ্যই লাগবে। তুমি যদি সাহায্য না করো, তবুও তুমি আমাদের কাজে আসবে, আমরা চেষ্টা করছি তোমার ব্রেইনের একটা রেপ্লিকা তৈরি করার। তুমি সাহায্য করলে দ্রুত হতো, না করলে কাজটা একটু পিছিয়ে যাবে এই আরকি। তুমিও চিরতরে আটকা পড়ে যাবে এখানে।" ❤️ 😂 😮 😢

কথা শেষ করে বেরিয়ে গেল নোরা। রোহান ভয়ে ঢোক গিললো, এসব নিশ্চয় একটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হবে বলে ভাবছে সে। চারপাশটায় আবার ভালো করে চোখ বুলাল, বড় একটা ভল্টের মতো মনে হচ্ছে। রোহান ছাড়া মায়ের আর কেউ নেই, সে যদি পৃথিবীতে না ফিরতে পারে, মা একা একা কী করে থাকবেন? যদি সত্যিই সমীকরণটার সমাধান হয়ে যায় তাহলে পৃথিবীর মানুষের ভয়ঙ্কর বিপদ। সেজন্যই সিংহভাগ সমাধানের পরেও পিছিয়ে এসেছে। আর ভাবতে পারল না সে। ভেতরে একটা তীব্র হাহাকার টের পায়। মনে মনে বেশ কয়েকবার আল্লাহকে ডাকল, সাহায্য প্রার্থনা করল পরম করুণাময়ের কাছে। ❤️ 😂 😮 😢

কিছুক্ষণ পরে ভল্টের প্রবেশপথ ক্যাচক্যাচিয়ে খুলে যায়, নোরাকে আবার আসতে দেখল। ❤️ 😂 😮 😢

রোহানের মাথার চারপাশে অদ্ভুতদর্শন একটা যন্ত্র সেট করল। এতে ভীত হয়ে মাথা এদিক-ওদিক নাড়ানোর চেষ্টা করতেই যন্ত্রের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা একটা শক্ত কিছু মাথাটাকে এঁটে ধরল। মাথা নাড়াবার কোনো উপায় থাকল না। ❤️ 😂 😮 😢

"কী করছো? আমাকে পৃথিবীতে যেতে দাও, প্লিজ।" ❤️ 😂 😮 😢

কাতর গলায় আর্তি জানালো ভীত রোহান, ছেলেবেলার ভয় ফিরে আসছে মস্তিষ্কে। কিন্তু নোরার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে নির্বিকার থেকে নিজের কাজ করে যাচ্ছে। যন্ত্রটা কাজ শুরু করার পরে বুঝতে পারল এটা একটা স্ক্যানার। কিন্তু এমনটা রোহান আগে দেখেনি। কিছুক্ষণ পর মাথাটা মুক্ত করে দিল নোরা। ❤️ 😂 😮 😢

"ভেরি স্ট্রেঞ্জ! তোমার মস্তিষ্কের পুরো ইমেজ পাওয়া যাচ্ছে না। একবার তীব্র ভয়, একবার বিস্ময়, একবার খুব অন্যরকম কিছু অনুভূতি। একটা স্পষ্ট হবার আগে অন্যটা এসে পড়ছে বলে একটাও ঠিকঠাক ধরা যাচ্ছে না।" ❤️ 😂 😮 😢

নোরার চেহারায় বিস্ময়ের ছিটেফোঁটা নেই, একইরকম ভাবলেশহীন। ❤️ 😂 😮 😢

নোরার কথায় রোহান যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল, তবে সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। ❤️ 😂 😮 😢

"পুরো ইমেজ না পেলেও অর্ধেকের বেশি পেয়েছি। আমাকে নিয়ে সেখানে একটা অদ্ভুত অনুভূতি দেখলাম, আমি তার সাথে পরিচিত নই। এটা কীসের অনুভূতি?" ❤️ 😂 😮 😢

"এটাকে বলে ভালোলাগা। তোমাকে প্রথম দেখে আমার বেশ ভালো লেগেছিল।" কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে কথাটা বলল রোহান। ❤️ 😂 😮 😢

"এটা কী ভালোবাসা ধরনের কিছু?" ❤️ 😂 😮 😢

"না, ভালোবাসা অনেক বৃহৎ একটা ব্যাপার। তুমি বুঝবে না।" ❤️ 😂 😮 😢

"কেন বুঝব না?" ❤️ 😂 😮 😢

"কারণ তুমি অনুভূতিহীন। ভালোবাসা, মায়া, টান এসব মানবীয় বৈশিষ্ট্য তোমাদের মধ্যে নেই। অন্য কোনো গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে তোমার মধ্যে নেই এটা নিশ্চিত।" নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রেখে বলল রোহান। ❤️ 😂 😮 😢

"কাজের কথায় আসি, বাকি অংশ সমাধান করবে কিনা বলো?" ❤️ 😂 😮 😢

"না, করব না। আমি চাই না পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হোক।" দৃঢ় গলায় বলল রোহান। ❤️ 😂 😮 😢

"আমি বললাম তো বড় কোনো ক্ষতি হবে না।" ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি এতটা নিশ্চিত হচ্ছো কীভাবে?" ❤️ 😂 😮 😢

"ইকুয়েশন সলভ হবার সাথে সাথে একটা তীব্র ঝাঁকুনি হবে। খুব অল্প পরিমাণে জলবায়ু পরিবর্তন হবে। আমরা সব গ্রহে টিকে থাকতে পারব তখন। পৃথিবীর এখনকার খারাপের দিকে যাওয়া জলবায়ুর পরিবর্তন থেমে যাবে। এটা ভালো হবে বরং।" ❤️ 😂 😮 😢

রোহান সশব্দে হেসে ফেলল, "তোমাকে এই আজগুবি তথ্য কে দিয়েছে?" ❤️ 😂 😮 😢

"এটা মোটেও আজগুবি তথ্য নয়। স্বয়ং আমাদের বিজ্ঞান পরিষদের চেয়ারম্যান দামির এই তথ্য দিয়েছেন।" ❤️ 😂 😮 😢

"তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন।" ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি খুব ভালো করে জানো আমরা মিথ্যা বলতে পারি না।" ❤️ 😂 😮 😢

"আমি এতক্ষণ ভেবেছিলাম তুমি যথেষ্ট বুদ্ধি রাখো। আসলে তা নয়। আমাকে বিশ্বাস না করলে তুমি নিজেই পরীক্ষা করে দেখতে পারো।" ❤️ 😂 😮 😢

"এই পরীক্ষা শুধুমাত্র মহামান্য চেয়ারম্যান করেন। আমাদের অনুমতি নেই।" ❤️ 😂 😮 😢

দু'বার শুধু চোখের পলক পড়ল। রোহান খেয়াল করেছে নোরা যখন দ্বিধায় থাকে তখনই কেবল দ্রুত চোখের পাতা নড়ে। ❤️ 😂 😮 😢

"কেন নেই? এই প্রশ্ন তোমাদের মনে আসেনি? আসলে পুরোটাই তার একটা ফাঁকি।" ❤️ 😂 😮 😢

এবার চোখের নড়াচড়া দ্রুততর হলো, "তুমি মিথ্যা বলছো।" ❤️ 😂 😮 😢

"মোটেও না। মিথ্যা বলায় আমার কোনো স্বার্থ নেই। ভেবে দেখো, যদি পৃথিবীর ক্ষতি না হতো তবে আমার বাধাটা কোথায় ছিল? সমাধান করে ফিরে যেতাম। এটা বোঝার জন্য খুব বেশি বুদ্ধির প্রয়োজন হয় না।" ❤️ 😂 😮 😢

"আমি আসছি।" বলেই নোরা হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল। ❤️ 😂 😮 😢

*** ❤️ 😂 😮 😢

নোরা তাদের প্রধান কক্ষের দিকে এগুলো, যেখানে বিজ্ঞান পরিষদের চেয়ারম্যান দামির বসেন। এখানে তাদের মোট জনসংখ্যা সর্বসাকুল্যে ঊনপঞ্চাশ। এই কক্ষে কেবল তিনজনের প্রবেশাধিকার আছে। নোরা তাদের একজন। বিশেষ ধরনের একটা পাসকোড ব্যবহার করে সে ভেতরে এলো। ❤️ 😂 😮 😢

"রাজি হলো?" ❤️ 😂 😮 😢

নোরা জানে এখানে বসে তিনি সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। তবুও প্রশ্নটা করলেন। ❤️ 😂 😮 😢

"না, স্যার। এখনো হয়নি।" ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি মনে হয় ছেলেটার কথায় বিভ্রান্ত হয়েছো?" ❤️ 😂 😮 😢

"কিছুটা হয়েছি। স্যার, পৃথিবী ঠিক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে?" ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি বেশ ভালো মতো প্রভাবিত হয়েছো। তুমি আমাদের অত্যন্ত চৌকস বিজ্ঞানী। তোমাকে একজন মানুষের কথায় বিভ্রান্ত হওয়া মানায় না।" কটাক্ষের সুরে বললেন তিনি। ❤️ 😂 😮 😢

"আমি নিজে একবার টেস্ট করে দেখতে চাই।" ❤️ 😂 😮 😢

মুহূর্তেই তার চোখে ক্রোধ ফুটে উঠল, রাগে কাঁপতে থাকলেন দামির। হুংকার দিয়ে বলে উঠলেন, ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি আমাদের প্রাইমারি রুল ভেঙেছো। এর শাস্তি তুমি জানো।" ❤️ 😂 😮 😢

নোরা উত্তর পেয়ে গেছে, "আমাদের কোনো অনুভূতি নেই, রাগ, ক্ষোভ, মায়া কিছুই নেই। কিন্তু আপনি রেগে গেছেন। তাহলে তো মিথ্যাও বলতে পারেন আপনি, অস্বাভাবিক নয় সেটা।" ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি ভীষণ ভুল করেছ নোরা। তুমি, রোহান আর পৃথিবীর মানুষ কেউ বাঁচবে না। সব ধ্বংস হয়ে যাবে।" ❤️ 😂 😮 😢

দামিরের অভিব্যক্তিতে তীব্র প্রতিহিংসার ছাপ ফুটে উঠেছে, চোখ দুটোতে হিংস্রতা! এক অন্য দামির যেন নোরার সামনে বসে আছে। তিনি একটা বিশেষ সুইচ টিপলেন, এটা একটা বিপদ সংকেত। সিকিউরিটি রোবট আসবে কিছুক্ষণের মধ্যে। এরমধ্যেই এখান থেকে পালাতে হবে। রোহানের জন্য ভীষণ চিন্তা হচ্ছে। জীবনে প্রথমবার ভয় পাচ্ছে সে। ❤️ 😂 😮 😢

নোরা কিছুক্ষণ আগে আরেকটা নিয়ম ভেঙেছে। রোহানের মস্তিষ্কের রেপ্লিকা নিজের মাথায় প্ল্যান্ট করেছে। নোরার নিজের ঘরে কোনো সেন্সর লাগানো নেই। সেখানে সে কিছু বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। অনুমতি আছে অবশ্য। সেসব কাজে লেগেছে আজ। তারপর থেকেই নানারকম অনুভূতির খেলা চলছে তার মনে, মস্তিষ্কে। এখন একটাই ভাবনা যেভাবেই হোক রোহানকে পৃথিবীতে পাঠাতে হবে। নয়তো সর্বনাশ হয়ে যাবে! ❤️ 😂 😮 😢

(শেষ পর্ব) ❤️ 😂 😮 😢

দামিরের একটা বড় দুর্বলতা হচ্ছে বয়সের ভারে তিনি দ্রুত হাঁটাচলা করতে পারেন না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নোরা ঝড়ের বেগে বেরিয়ে ল্যাবরেটরিতে ঢুকে ত্রস্ত হাতে দরজা আটকে দিল। সেই সাথে মূল সিকিউরিটি ডোরটাও বন্ধ করে দিল। এটা বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি। বাইরে থেকে ভাঙতে প্রায় ঘন্টাখানেক সময় লেগে যাবে। এখানে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক্সপেরিমেন্ট হয়, সেসবের গোপন অনেক নথি সংগৃহীত আছে। শত্রুরা যেন হুট করে না ঢুকতে পারে তাই এই ব্যবস্থা। ❤️ 😂 😮 😢

রোহান এখনো ভীত, দ্বিধান্বিত দৃষ্টিতে নোরার দিকে তাকিয়ে আছে। নোরার হুট করে কেমন একটা অনুভূতি হলো, এই অনুভূতির নাম সে জানে না। আসলে সব অনুভূতির নামই তো ওর অজানা! তবে মনে হচ্ছে এই ছেলেটা তার কাছের কেউ, ভীষণ কাছের! ❤️ 😂 😮 😢

*** ❤️ 😂 😮 😢

দামির রাগে কাঁপতে থাকলেন, দীর্ঘদিনের প্ল্যান ভেস্তে যাবার উপক্রম হতে যাচ্ছে বলে। তার জন্ম হয়েছিল পৃথিবীর হতদরিদ্র একটা পরিবারে। নিজের বাবা-মা'কে কখনো দেখেননি তিনি। কিছু দুষ্ট লোক তাকে অপহরণ করে পাচার করে দেয়, সেখানকার অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একদিন সুযোগ বুঝে দু'জনকে খুন করে পালিয়ে যান। ধরা পড়ার ভয়ে গহীন জঙ্গলের ভেতরে একটা গুহায় আশ্রয় নেন। প্রথমদিকে শ্বাস আটকে আসলেও কিছুদিন পরে আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করেন তার আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনি সেখানে অভিযোজন করতে সক্ষম হয়েছেন। এরপর আরও কিছু প্রতিকূল জায়গায় গিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন, তার মধ্যে সব পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেবার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। কোনো গ্যাসই তার ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয় না। আজ অব্দি এর কোনো ব্যাখ্যা তার কাছে নেই। ❤️ 😂 😮 😢

এরপরের গল্পটা শুধুই উত্থানের। নতুন আবিষ্কৃত এই বিশেষ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দামির সেই বয়সেই অনেক অসাধ্য সাধন করেন। আর কোনোদিন অভাবে পড়তে হয়নি তাকে। নিজের লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন নির্বিঘ্নে। পড়াশোনা শেষ করে প্রচণ্ড মেধাবী দামির তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সংস্থায় কাজ পেয়ে যান। উচ্চাশা বাড়তে বাড়তে এমন রূপ নেয় যে পুরো পৃথিবীর উপর ছড়ি ঘোরানোর সুযোগ খুঁজতে থাকেন। একসময় যে যন্ত্রণা, নির্যাতন তিনি সহ্য করেছিলেন তা ফিরিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে পড়েন, একের পর এক অবৈধ এক্সপেরিমেন্ট চালাতে থাকেন অত্যন্ত গোপনে৷ এই এক্সপেরিমেন্ট নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজের বাড়িতেই স্থাপন করেছিলেন অত্যাধুনিক গবেষণাগার। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতনল একদিন মূল ল্যাবরেটরি থেকে সরঞ্জাম সরানোর সময় কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা পড়ে যান। বিচার শেষে গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়। নিজের অদ্ভুত ক্ষমতার জোরে সেখান থেকে বেঁচে যান, এরপর নিজের বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ❤️ 😂 😮 😢

গোপন গবেষণার সময় তিনি নতুন একটা গ্রহের সন্ধান পেয়েছিলেন, তখনই একটি সৌরযান তৈরি করে রেখেছিলেন সবার অগোচরে। সেটা নিয়েই পারি দেন এই গ্রহে। সবসময় প্ল্যান বি রেডি রাখতেন। প্ল্যান এ ব্যর্থ হওয়ায় আগেই সিগনাল পাওয়া এই গ্রহে চলে এসে বসতি গাড়েন। এখানকার সবাই প্রথমদিকে তাকে আগন্তুক ভাবলেও নিজের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে সেসব বাধা কাটিয়ে উঠেন। এখানে তখন প্রায় বিরাশি জন অধিবাসী ছিল। কিছু শিশুকে গোপন একটা ভল্টে ঢুকিয়ে, বড়দের একটা কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা বলে নিয়ে আসেন। এই গ্রহবাসীরা যেহেতু অনুভূতি কাজে লাগাতে জানেন না এবং দামির ততদিনে বিশ্বাসভাজন হয়ে উঠেছিলেন তাই কেউ তাকে সন্দেহ করেনি। ❤️ 😂 😮 😢

সবাই সেই কক্ষে সমবেত হলে পৃথিবী থেকে আনা অক্সিজেন চেম্বার খুলে দিয়ে বাইরে থেকে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় সবার। এরপর এখানকার অদ্ভুত মেধাশক্তির সেই শিশুদের বড় করতে থাকেন, নিজের তৈরি করা নিয়মে, তার নিজের মতো করে। এই গ্রহে আসায় তার আয়ুষ্কাল বেড়ে গেছে। দীর্ঘজীবন পেয়ে হয়ে উঠেন প্ল্যানেট সিক্সটিনের সর্বেসর্বা। ❤️ 😂 😮 😢

আরেকবার ধরা পড়ার আগে সব পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। এখানে এসে জানতে পারেন সপ্তক সমীকরণের ব্যাপারে। কিন্তু সমাধানের জন্য তার অত্যন্ত দক্ষ একজন গণিতবিদ দরকার হয়, যেটা অনেক চেষ্টা করেও পারছিলেন না। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে রোহানকে খুজে পান, কিন্তু যোগাযোগে ব্যর্থ হন। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আজ পৃথিবীর সময় অনুযায়ী ২১০৮ সালে এসে সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছেন। অথচ আজই কিনা অপ্রত্যাশিতভাবে ধরা পড়লেন, তাও নিজের হাতে গড়া একটা পুঁচকের কাছে! কিন্তু তিনি আজন্ম লালিত স্বপ্ন পৃথিবীর উপরে কর্তৃত্ব করার দ্বারপ্রান্তে এসে হার মানতে রাজি না, কিছুতেই না। সাথে অমরত্ব পাবার সম্ভাবনাও বিলীন হয়ে যাবে তাহলে। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে এই শরীর নিয়েই বেরিয়ে আসেন ক্রুদ্ধ দামির। ❤️ 😂 😮 😢

*** ❤️ 😂 😮 😢

দ্রুত হাতে রোহানের হাত-পা মুক্ত করে দিল নোরা। ❤️ 😂 😮 😢

"রোহান, তোমাকে এক্ষুণি পৃথিবীতে ফিরতে হবে।" ❤️ 😂 😮 😢

রোহান দেখল মেয়েটা ভীষণ চিন্তিত হয়ে আছে, এই প্রথম কোনো অভিব্যক্তি দেখল তার মুখাবয়বে। ❤️ 😂 😮 😢

"তোমাকে এমন অস্থির দেখাচ্ছে কেন নোরা? প্রমাণ পেলে?" ❤️ 😂 😮 😢

"পেয়েছি। আমি সব ব্যবস্থা করছি। তুমি নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করো।" ❤️ 😂 😮 😢

"সেটা করছি। আগে বলো সমস্যাটা কোথায়?" ❤️ 😂 😮 😢

"এখন এত কথা বলার সময় নেই। তোমার অনেক বিপদ, সাথে পৃথিবীরও।" উৎকণ্ঠিত গলায় বলল নোরা। ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি কেন রিস্ক নিচ্ছো? আমাকে পালাতে দিলে তুমি বিপদে পড়বে।" রোহানের গলায় অনিশ্চয়তা। ❤️ 😂 😮 😢

"এখন আমাকে নিয়ে ভাবার সময় নেই।" ❤️ 😂 😮 😢

রোহান নাছোড়বান্দার মতো বলল, "আমি এভাবে একজনকে বিপদে ফেলে পালাতে পারব না।" ❤️ 😂 😮 😢

"তুমি এখানে থাকলে যেভাবেই হোক তোমাকে ইকুয়েশন সমাধান করতে হবে। পৃথিবী বিষাক্ত হয়ে যাবে। তাই তোমাকে এই মুহূর্তেই পালাতে হবে।" দৃঢ় গলা নোরার। ❤️ 😂 😮 😢

"তাহলে তুমিও চলো।" রোহানের গলাটা কেমন কাতর শোনায়। ❤️ 😂 😮 😢

"আমি পৃথিবীতে সার্ভাইব করতে পারব না। এখানে থাকি বা পৃথিবীতে যাই, আমার পরিণতি একটাই।" ❤️ 😂 😮 😢

বিস্মিত রোহান দেখতে থাকে নোরার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ। সে তো পারত নিজের কথা ভেবে দামিরের অভিসন্ধিতে তাল মেলাতে। ক্ষণকালের পরিচিত এক ছেলের কথায় নিজের জীবন বিপন্ন করতে, জীবন নিয়ে বাজি ধরতে ক'জন পারে! ❤️ 😂 😮 😢

এই গ্রহের সময় অনুযায়ী মাত্র দুই দিনের পরিচিত একজনের জন্য রোহানের কেন যেন ভারি উৎকণ্ঠা হলো। তাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলতে হবে ভেবে বুকে চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হলো। হারিয়ে ফেলার ভয় আচ্ছন্ন করল। ❤️ 😂 😮 😢

নোরার নতুন অনুভূতি তাকে জানান দিচ্ছে তার সামনে দাঁড়ানো ছেলেটির প্রতি তার প্রগাঢ় এক টান তৈরি হয়েছে, অচেনা এক মায়ায় দুই চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। ❤️ 😂 😮 😢

"তোমার জন্য আমার চোখ দিয়ে এক ধরনের লবনাক্ত তরল পদার্থ বইছে। এটাকে কী বলে?" নোরার গলাটা কেমন ভেঙে আসছে। ❤️ 😂 😮 😢

"এর নাম অশ্রু। এটা দুঃখের হয় আবার তীব্র সুখেরও হয়।" ❤️ 😂 😮 😢

"আমার কেন অশ্রু ঝরছে সেটা আমি জানি না। তবে ভেতরটা কেমন শূন্য মনে হচ্ছে।" গলার যান্ত্রিকতা ছাপিয়েও কেমন মোলায়েম শোনায় নোরার স্বরটা! ❤️ 😂 😮 😢

আর সময় নেই। একটা বিশালাকৃতি যন্ত্রের দিকে নির্দেশ করে তাতে উঠতে বলে নোরা। রোহান সেখানে পা রাখার আগে চোখ ফিরিয়ে একবার দেখল তাকে। তারপর নোরার কাছাকাছি এসে গভীর আবেগে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ❤️ 😂 😮 😢

"আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি নোরা। তোমার মতো একজন ট্রু হার্টেড মানুষ খুব কম দেখেছি আমি।" ❤️ 😂 😮 😢

"কিন্তু আমি তো মানুষ নই।" হেসে বলল নোরা। রোহানের অশ্রুতে ওর কাঁধ ভিজে যাচ্ছে। বুকে কেমন একটা ধুকপুক করছে, আশ্চর্য, এটা কি ভালোবাসা? মানবীয় অনুভূতি এত তীব্র, এত সুন্দর হয়! ব্যথাটাও কেমন সুতীব্র! ❤️ 😂 😮 😢

নোরা মুখে হাসি নিয়ে আবার মুখ বলল, "আমিও মনে হয় তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, রোহান। ভালো থেকো।" ❤️ 😂 😮 😢

যন্ত্র থেকে অদ্ভুত শব্দ আসছে। তারমানে এটা সচল হয়ে গেছে। তাতে সওয়ার হয়ে অক্সিজেন মাস্ক ঠিক করে বসিয়ে নিয়ে রোহান একটা কথাই বলতে পারল কেবল, "বিদায় নোরা, তোমাকে খুব মিস করব।" ❤️ 😂 😮 😢

ততক্ষণে বিশেষ এই সৌরযানটির দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, নিজের কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। ❤️ 😂 😮 😢

বাইরে থেকে মূল দরজা খোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। কতক্ষণ সময় গেল সে জানে না। ল্যাবরেটরিতে থাকা মূল কম্পিউটার থেকে সমস্ত ডাটা মুছে দিল। কমিউনিকেশন মডিউলে অনবরত একটা সিগনাল আসছে, যেটা জানান দিচ্ছে রোহান এখন বিপদ সীমার বাইরে চলে গেছে। পৃথিবীতে ফিরতে যতক্ষণই লাগুক দামির আর ওর নাগাল পাবে না। নোরা স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলল। এরপর ল্যাবরেটরিতে থাকা সমস্ত যন্ত্র অকেজো করে দিল। এখন মরলেও আর ভয় নেই। এই প্ল্যানেটের সব আবার নতুন করে শুরু হোক, যেখানে দামিরের মতো প্রতিহিংসাপরায়ণ কেউ থাকবে না। প্ল্যানেট সিক্সটিনের অন্যরা নিশ্চয়ই দ্রুততম সময়ে এই বাজে অভিসন্ধি ধরে ফেলবে, দামিরের ব্যবস্থা তারাই করবে! ❤️ 😂 😮 😢

সে খুব ধীরলয়ে রোহানের জন্য রাখা অক্সিজেন সিলিন্ডারের কাছে গেল, মাস্কটা মুখে এঁটে নিল। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসছে শরীর। দামিরের কাছে ধরা দেওয়ার চাইতে এই ভালো মনে হলো। ❤️ 😂 😮 😢

ভালোবাসা অদ্ভুত সুন্দর একটা অনুভূতি, এমন অনুভূতি নিজের মধ্যে ধারণ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারছে ভেবে অদ্ভুত এক প্রশান্তি নিয়ে চোখ বুজল। পুরোপুরি চোখ বন্ধ হবার আগে দেখল দরজা খুলে গেছে। ক্ষুব্ধ দামির কিছু রোবটকে সাথে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকছে। ❤️ 😂 😮 😢

নোরা তার অশ্রুর মানেটা ধরতে পেরেছে, ভালোবাসা পাবার তীব্র আনন্দ আর হারিয়ে ফেলার গভীর বিষাদ দুটো বিপরীত অনুভূতি একসাথে বইছে ভেতরটায়। অশ্রুসিক্ত চোখের সাথে মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। রোহানের জন্য, সাথে না দেখা পৃথিবীর জন্য প্রগাঢ় ভালোবাসা নিয়ে চোখ বন্ধ করল চিরতরে। ❤️ 😂 😮 😢

রোহান নিশ্চয়ই ডায়াটোনিক স্কেল ইকুয়েশনের সাতটা রাশি পৃথিবীর মূল কম্পিউটার থেকে চিরতরে বিনষ্ট করে দেবে! সৃষ্টিকর্তা সবসময় শুভকেই জয়ী করেন! ❤️ 😂 😮 😢

পরিশিষ্টঃ ❤️ 😂 😮 😢

প্রতিদিন সূর্যটা যখন ডুব দেয়, পৃথিবী জুড়ে নিঃসীম অন্ধকার নেমে আসে, তখন বাড়ির পেছনের খোলা মাঠের এই নিঃসঙ্গ বটগাছটার নিচে এসে বসে রোহান। বহুদূরের আকাশে ফুটে উঠা অনন্ত নক্ষত্রবীথির দিকে তাকিয়ে এক জোড়া নীলচে চোখ খুঁজে ফেরে এখনো। যার আত্মত্যাগে রোহান শ্বাস টানছে, নিঃশ্বাস ফেলছে! ❤️ 😂 😮 😢

কয়েক মুহূর্তের পরিচিত একজন ওর মনে কী গভীর ছাপ ফেলেছে! এতদিনেও যার ছবি একফোঁটাও মুছে যায়নি। বরং সময়ের সাথে সাথে আরও স্পষ্ট হয়েছে। রোহানের ভাবতে ভালো লাগে সেই ভীনগ্রহবাসী মায়াবতী তার স্ত্রী, তাদের ছোট্ট ছোট্ট দুই-তিনটা মিষ্টি সন্তান এই মাঠে হেসে খেলে বেড়াচ্ছে, দুষ্টুমি করতে গিয়ে আছাড় খেয়ে ধুলোবালি গায়ে মেখে একাকার করেছে! নোরা কপট রেগে তাদের শাসন করছে, আর সে পাশে দাঁড়িয়ে এই সুন্দর জীবন উপভোগ করছে! ভাবনার কোনো লাগাম থাকে না, কোনো সীমানা বাধা থাকে না। কল্পনায় এই অপার্থিব সুখী মায়ায় বাধা সংসারের স্বপ্ন বেশ মিষ্টি! ❤️ 😂 😮 😢

বাস্তব দুনিয়ায় যার জন্য রোহানের হৃদয়জুড়ে তৈরি হয়েছে এক গহীন শূন্যপুর৷ শূন্যপুর ভর্তি কেবলই অথৈ শূন্যতা! শূন্যতার এত উত্তাপ যে ওকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়! কয়েক মুহূর্তের জন্য পাওয়া এক চিলতে মায়া নতুন সবুজ পাতা, সদ্য জন্মানো কুঁড়ির মতো আবারও রোহানকে নতুন করে সজীব করে। ওইটুকু ভালোবাসার কী অসীম শক্তি! কী অদ্ভুত মায়াময়! কী আশ্চর্য সুন্দর! ❤️ 😂 😮 😢

(সমাপ্ত) ❤️ 😂 😮 😢

(দামিরের অংশটুকু আরও ডিটেইলিং করা যেত, কিন্তু কেন যেন ইচ্ছে হলো না আরও সময় দিতে৷ আমার প্রথম এবং শেষ সায়েন্স ফিকশন গল্পটা কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু।) ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8