এক অবুঝ মেয়ের ভালোবাসার গল্প

Chapter 1

এক অবুঝ মেয়ের ভালোবাসার গল্প ❤️ 😂 😮 😢

পর্ব ১ ❤️ 😂 😮 😢

বর বৌয়ের রোমান্টিক কাহিনী ❤️ 😂 😮 😢

🌷💞🌹 ❤️ 😂 😮 😢

🕊 ❤️ 😂 😮 😢

দুদিন পর আমার বিয়ে। আমার তো জীবন যায় যায় অবস্থা। আমার বিয়ে -টিয়ে এসব ভালো লাগে না। আমার মনে হয় ছেলে মেয়ের ভালোবাসা সব অবাস্তব। এসব কিছু জল্পনা-কল্পনা, গল্প, রূপকথাতেই সম্ভব, বাস্তবে নয় 🙄 ❤️ 😂 😮 😢

আমি ইসলামিক মাইন্ডের মেয়ে। ইসলামি সব বিধান মেনে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু এই বিয়ের বিধানটা আমার মাথায় ঢোকে না 🤔 বিয়ে করা ফরজ নয়। আমি চেয়েছিলাম রাবেয়া বসরীর মতো হতে। আমার ছেলেদেরকে একদম ভালো লাগে না। সব ছেলেরাই যে খারাপ তা নয়। কিন্তু আমার কেন যেন বিষটা পছন্দ হয় না। আব্বু আম্মুকে এত বোঝানোর চেষ্টা করেও বোঝাতে পারি নি 😌 আর পারবই বা কি করে। তারা তো আর ভুল কিছু করছেন না। সমাজের দৃষ্টিতে আমিই ভুল। যেই ছেলের কপালে পড়ব তার জীবনটা তেজপাতা হয়ে যাবে 😎 ❤️ 😂 😮 😢

দেখতে দেখতে বিয়ের দিনও চলে এলো। আমি এখন বাসর ঘরে। আমার ননদ আমাকে রুমে নিয়ে এল। ওর নাম আনিশা। খুবই মিশুক মনে হলো। অল্প সময়ের মধ্যেই ভালোভাবে মিশে গেছে। আর আমার মেয়েদেরকে ভালো লাগে। ও আমার ছোট বনের মতো। আমি ওকে ছোট বনের মতো করে আগলে রাখব, ইনশাআল্লাহ 🤗 এইটুকু বুঝেছি যে আমি একটা ইসলামিক পরিবারেই পড়েছি। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। যদি এরা ইসলামিক না হতো তবে আমাকে অনেক খাটতে হতো এদের পেছনে। ❤️ 😂 😮 😢

আনিশা আমাকে খাটের উপর বসাল আর বলল ❤️ 😂 😮 😢

আনিশাঃ ভাবি, এবার তুমি তোমার বোরখা, হিজাব, হাত মোজা, পা মোজা খুলতে পার। এখানে এখন আর কোনো হারাম পুরুষ আসবে না। আর যে আসবে সে তোমার জন্য হালাল। ❤️ 😂 😮 😢

আমি আনিশার কথায় কিছুটা লজ্জা পেয়ে গেলাম। ❤️ 😂 😮 😢

আনিশাঃ ভাবি জানো, তুমি না অনেক লাকি! আমার ভাইয়ার মতো বর পেয়েছ। ভাইয়া তোমাকে খুব ভালোবাসে ☺ ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ ভালোবাসে মানে? 🤨 সে আমাকে কীভাবে ভালোবাসল 🤔 আমাদের তো কোনোদিন দেখাই হয়নি🧐 ❤️ 😂 😮 😢

আনিশাঃ ভাইয়া কীভাবে ভালোবেসে ফেলল সে তুমি পরে বুঝবে। তুমি এখন ড্রেস চেঞ্জ করে নাও আমি গেলাম। ❤️ 😂 😮 😢

( এই বলে আনিশা চলে গেল ) ❤️ 😂 😮 😢

এবার আমার ভয় হতে শুরু করল। আমি তো ওর ভাইকে দেখিনি পর্যন্ত। আর সে কিনা আমাকে ভালোবাসে।যেটার ভয় পাচ্ছিলাম ঠিক সেটাই হলো 😩 ইয়া আল্লাহ! এখন আমার কি হবে। আমাকে আজকের রাতটা ওনার হাত থেকে বাঁচিয়ে দাও, প্রভু। ❤️ 😂 😮 😢

আমি এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ বুক সেল্ফটাতে চোখ পড়ল। আমি বই পোকা বই দেখলে আর লোভ সামলাতে পারি না। তাই সেল্ফের দিকে এগিয়ে গেলাম। আর রুমটাকেউ এক নজর দেখে নিলাম। খুব পরিপাটি করা। সবকিছু সাজানো গোছালো। সেল্ফে বুখারী,মুসলিম, তিরমিজির সব খন্ডগুলো রয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ইসলামিক বিষয়ক বইও রয়েছে। আমার একটা বইয়ের দিকে চোখ পড়ল। বইটার নাম আর্গুমেন্টস অফ আর্জু। আরিফুল ইসলামের লেখা। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বইটা পড়তে লাগলাম। ❤️ 😂 😮 😢

কিছুক্ষণ পর আমার বর রুমে ঢুকলেন এবং দরজা বন্ধ করে দিলেন। আমাকে দেখলেন আমি বই পড়ায় ব্যাস্ত। উনি পেছন থেকে গিয়ে সালাম দিলেন ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . ❤️ 😂 😮 😢

( আমি বই পড়ায় ব্যাস্ত। কেউ যে আমাকে সালাম দিচ্ছে সেই খেয়াল এখন আমার নাই ) ❤️ 😂 😮 😢

তিনি বুঝতে পারলেন আমি বইয়ের মধ্যে ডুবে গেছি। তাই তিনি আমার কাঁধে হাত রেখে আবারও সালাম দিলেন। ❤️ 😂 😮 😢

আমি নড়ে উঠলাম। মনে হচ্ছে কেউ আমার কাঁধে হাত রেখেছে। পেছেনে ঘুরে দেখি সাদা পাঞ্জাবি পড়া কেউ একজন। আমি বুঝতে পারলাম ইনিই সেই হতভাগ্য ব্যাক্তি যার জীবনটা আমার জন্য তেজপাতা হতে চলেছে 😌 ❤️ 😂 😮 😢

আমি সাধারণত চেহারার দিকে তাকাই না। তাই স্বাভাবতই নিচের দিকে তাকিয়ে আছি। উনি আবার সালাম দিলেন। আমি কিছুটা তোতলাতে তোতলাতে সালামের উত্তর দিলাম। ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ কেমন আছ? ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ জ্বি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি? ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ আলহামদুলিল্লাহ। আমিও আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে অনেক ভালো আছি। আল্লাহর লাখ লাখ শুকরিয়া তিনি আমার মনের ইচ্ছে পূরণ করেছেন ☺ ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ ( মনে মনে , , মনের ইচ্ছে পূরণ করেছেন নাকি করেন নি সেটা তো পরে বুঝতে পারবেন 😏 ) ❤️ 😂 😮 😢

আমি নিচের দিকে তাকিয়েই আছি। ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ কি ব্যাপার তুমি নিচের দিকে তাকিয়ে আছ কেন? 😕 আমার দিকে তাকাও। আমি এখন তোমার জন্য হালাল 🙂 ❤️ 😂 😮 😢

ওনার বলার পরেও আমি নিচের দিকেই তাকিয়ে আছি। আমার হঠাৎ তার পায়ের উপর চোখ পড়ল। তার পাগুলো সাদা ধপধপ। তার মানে উনি তো ফর্সা। আর আমি ফর্সা ছেলে একদম দেখতে পারি না। আমি চোখ বড় বড় করে স্তম্ভিত হয়ে আস্তে আস্তে ওনার দিকে তাকালাম। ❤️ 😂 😮 😢

ওনাকে দেখেই তো আমার চোখ কপালে উঠল 😦 😱 😬 🤪 ❤️ 😂 😮 😢

লম্বা, ফর্সা, সুন্দর চাপ দাঁড়ি, বাবড়ি চুল, মাথায় পাগড়ি। আমি যেটার ভয় পাচ্ছিলাম সেটাই হইসে 😫 আমি স্যামলা। আমার মুখের আকৃতি সুন্দর কিন্তু নাকটা একটু মোটা এবং বোচা টাইপের। তাই আমি চাইসিলাম, ছেলে যেন আমার চেয়ে কম সুন্দর হয়। একেই তো ফর্সা ছেলে পছন্দ না তার উপর আবার আমার চেয়ে দুই- তিন গুণ বেশি সুন্দর 😐 ❤️ 😂 😮 😢

আমি তো চোখ বড় বড় করে হ্যাংলার মতো ওনার দিকে তাকিয়ে আছি 😱 ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ কি হলো? এইভাবে তাকিয়ে আছো যে আমাকে ছবিতে দেখোনি? 😕 ❤️ 😂 😮 😢

ওনার কথায় আমার হুশ ফিরল। আমি মাথা নেড়ে না জানালাম। ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ অবশ্য না দেখারই কথা 😌 তুমি তো আবার ছেলেদেরকে খুব একটা পছন্দ করো না। তার উপরে আবার আমি ফর্সা। শুনেছি তুমি নাকি ফর্সা ছেলেদের দেখতে পারো না? 🧐 ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ আপনি এত কিছু জানলেন কি করে? 🤔 ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ আমি তোমার ব্যাপারে সবকিছু না জানলেও অন্তত ৫০% জানি। আর বাকিটা নাহয় তোমার কাছ থেকে জেনে নেব। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ 😱 😱 😱 😱 😬 🤪 🤪 ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ তুমি মনে হয় আমার নামটাও জানো না। চলো আমরা একটু পরিচিত হই। ❤️ 😂 😮 😢

( একটু হালকা কাশি দিয়ে ) ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ প্রথমে তোমার সম্পর্কে বলে নেই। তোমার নাম আয়েশা বিনতে আবু বকর। বয়স ১৮ বছর। তোমার উচ্চতা ৫'২"। ওজন ৪৩ কেজি। এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছ। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ আপনাকে আমার সম্পর্কে কে এত কিছু বলেছে? 🙄 ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ সেটা বড় বিষয় নয়। আমি তোমার সম্পর্কে জানি এটাই যথেষ্ট। চলো এবার আমার পরিচয়টা দিয়ে দিই। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ জ্বি বলুন। ❤️ 😂 😮 😢

ছেলেঃ আমার নাম আলী আহমাদ। আর আহমাদ নামটা তোমার খুব পছন্দের তাই না? 😉 কেন এই নামটা তোমার পছন্দের জানতে পারি কি? ❤️ 😂 😮 😢

আমি তো হতভম্ব হয়ে গেলাম 😐 ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ নবীর আম্মি আমিনা নবীর নাম রেখেছিল আহমাদ। আর এমনিতেও আহমাদ নামটা উচ্চারণেও আমার খুব ভালো লাগে। ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ ও 😯 আচ্ছা। ❤️ 😂 😮 😢

তাহলে তো ভালই হলো। তুমি এখন শুধু বার বার আমার নাম উচ্চারণ করবে। এতে তোমারও ভালো লাগবে আর আমারও প্রাণটা জুড়িয়ে যাবে। ❤️ 😂 😮 😢

আমি ঢোক গিলতে গিলতে বললাম, আমিঃ আমার আহমাদ নামটা পছন্দের ঠিক আছে। কিন্তু আমি তো আর আপনাকে নাম ধরে ডাকব না 🙄 ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ তুমি আমাকে নাম ধরেই ডাকবে। কোনো সমস্যা নাই। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ আপনার বয়স কত? ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ আমি তোমার থেকে বেশি নয় মাত্র নয় বছরের বড়। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ ( নয় বছরের বড় আবার বলে কিনা বেশি নয়। আমার এবার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে 😐 একেই তো ছেলেদের সহ্য হয় না। তারপর আবার উনি কিসব বলা শুরু করেছে ) ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ তুমি আমাকে তুমি করেই বলতে পার। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ সেটা আমি কোনোদিনও পারব না 🙄 ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ আমি জানি, তারপেরও যদি কখনও ইচ্ছে হয়। ❤️ 😂 😮 😢

আমি ওনার কাঁধ বরাবরও লম্বা নই। আমি ওনার পাশে দাঁড়ালে আমাকে ওনার ছোট বোন বা স্টুডেন্ট মনে হবে। ওনার স্বাস্থ্য বেশ ভালোই। আমার উপর পড়ে গেলে আমি ভর্তা হয়ে যাব।লোকে যে আমাকে নিয়ে কি বলবে কে জানে। আমি কোনোদিক দিয়েই ওনার জন্য পারফেক্ট নই। আমি স্যামলা, একটু খাটো। শিক্ষাগত যোগ্যতাও কম। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ আচ্ছা, আপনি আমার সম্পর্কে এত জানেন কীভাবে? কে বলেছে আপনাকে? ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ আমি কিন্তু তোমাকে প্রথম পরিচয়েই পছন্দ করে ফেলেছি। তারপর তোমার সম্পর্কে জানতে জানতে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ আপনি কি বলছেন আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার জানা মতে আমাদের আগে কখনো দেখা হয় নি 🤔 ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদ একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ তুমি এসবের কিছুই জানো না। আস্তে আস্তে আমি তোমাকে জানিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ আপনি আমাকে এখনই সব বলবেন। ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ ঠিক আছে বলতে পারি তবে এক শর্তে। ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ ( ভয় পেয়ে গেলাম। নাজানি এখন কি শর্ত দেয় 🤪 😬 😰 ) ❤️ 😂 😮 😢

বলুন কি শর্ত? ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ তোমার নিকাবটা একটু খোলো প্লিজ। আমি তোমার সম্পর্কে জানলেও তোমাকে এখন পর্যন্ত দেখি নি। 😋 ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ আপনি আমাকে না দেখেই বিয়ে করেছেন? আবার বলছেন ভালোবেসে ফেলেছেন? 😳 ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ হুম 😋 ❤️ 😂 😮 😢

আমার অবস্থা এবার খারাপের দিকে। আমাকে দেখে ওনার নিশ্চয়ই পছন্দ হবে না। আমি কি করে ওনার সামনে এখন নিকাবটা খুলব। লজ্জায় মরে যাব। 😫 ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদঃ কি হলো তুমি কি নিকাবটা খুলবে না? 🤨 ঠিক আছে তাহলে আমিই খুলে দিচ্ছি। ( এই বলে আহমাদ আমার মুখের দিকে হাত বাড়ালো ) ❤️ 😂 😮 😢

আমিঃ না না তার দরকার নেই। আমি নিজেই খুলে দিচ্ছি। 😅 ❤️ 😂 😮 😢

( আমি মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে নিকাবটা খুলে ফেললাম ) ❤️ 😂 😮 😢

আহমাদ আমার দিকে তাকিয়েই আছে। মনে হয় শক খাইসে। খাওয়ারই কথা 🙄 ওনার সৌন্দর্যের ধরের কাছেও আমি নাই। ওদিকে আমার লজ্জা করছে। তাই আমি,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢

ইনশাআল্লাহ ❤️ 😂 😮 😢

,,,,,,,,,,,,,জাজাকুমুল্লহু খাইরান,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢

( এটা আমার প্রথম গল্প। এই গল্পের পরের পর্বটা লিখব কিনা তা আপনাদের মতামতের উপর নির্ভর করছে। ❤️ 😂 😮 😢

প্লিজ আপনাদের মূল্যবান মতামত জানিয়ে দেবেন ) ❤️ 😂 😮 😢

© লেখনিতেঃ আয়েশা বিনতে আবু বকর ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8