বিয়ে_পাগলের_গল্প : ❤️ 😂 😮 😢
বৈধ_ভালবাসা ❤️ 😂 😮 😢
পর্ব : ৪০ ❤️ 😂 😮 😢
গল্পকার : গল্প_বুড়ি_তিলোত্তমা ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
ডাঃ দেখাতে গিয়ে দেখি অন্য ডাঃ এর সিরিয়াল দিয়েছে । আমি সায়লাকে জিজ্ঞেস করতেই সায়লা বলল, নানু নাকি এই কাজ করছে । নানুকে জিজ্ঞেস করতেই নানু যা শোনালো আমি তো পুরাই হতবাক,,,, ❤️ 😂 😮 😢
আমি ঃ নানু তুমি গাইনেকোলজি ডাক্তারের সিরিয়াল দিয়েছো কেন ? ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ দিসি কেন কা তা তুই বুঝলে তো কাম হইতো । বেশি কতা না কইয়া আমি যা করি তাই শোন । ❤️ 😂 😮 😢
আমি ঃ অসুখ আমার আর ডাক্তার ঠিক করবে তোমার মন মত । ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ এই ছেমড়ি চুপ কর । তোর জ্বর হইছে । জ্বরের লগে কি ঠান্ডা কাশি হইছে ? হয় নাই, তাও বুঝবার পারস নাই তুই । ❤️ 😂 😮 😢
আমি ঃ জ্বরের সাথে বুঝার কি সম্পর্ক ? ধ্যাত তুমি আমার মাথা নষ্ট করবে । ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ হ ডাক্তার দেখাইয়া তোর মাথা নষ্ট হব । কইয়া রাখলাম, মাথায় চুল বাতাসে পাঁকে নাই, বয়সে পাঁকছে বুঝছোস ? ❤️ 😂 😮 😢
আমি চুপ করে রইলাম । আমি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে নানু আমার সাথে অদ্ভুত আচারণ করছে । সবসময় #সিআইডির মত পিছনে লেগে আছে । আমি কি করি না করি, সবসময় আমার গতিবিধিতে নজর রাখছে । আর ভাল্লাগেনা ! ❤️ 😂 😮 😢
একটু পর ডাক্তারের সিরিয়ালে আমার নাম ডাকা হল । ডাঃ নাম হচ্ছে মাহফুজা রহমান । ❤️ 😂 😮 😢
আমি আর সায়লা ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকলাম । সায়লা তো ডাক্তারকে দেখে মুনা আপু বলে চিৎকার দিল । ডাক্তার খানিকক্ষণ তাকিয়ে সায়লাকে বলল, এই তুই সাহিলের বোন না ? সায়লা বলল, হ্যা । তার মানে দুজন দু'জনকে চিনে । ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা ঃ আপু আমি ভাবতেই পারিনি মাহফুজা রহমান তুমি । তুমি কবে এখানে জয়েন করছো ? ❤️ 😂 😮 😢
ডাঃ মুনা ঃ হুম, আমিও ভাবতে পারিনি তোর সাথে দেখা হবে । এই তো গত মাসে জয়েন করছি । আমি তো সদরে আছি । এখানে বিকালে পারটাইম বসি । ❤️ 😂 😮 😢
তা তুই কত পিচ্চি ছিলিরে। এখন কত বড় হয়ে গিয়েছিস । ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা ঃ হুম কত পিচ্চি ছিলাম । তোমার প্যাকটিক্যালের জন্য তোমাকে কত ব্যাঙ ধরে দিছি মনে আছে ? ❤️ 😂 😮 😢
ডাঃ মুনা ঃ মনে থাকবে না । তোর তো ভয় ডর বলে কিছু ছিল না রে । ছোটবেলায় খুব পাজি ছিলি । ওহ বলতে ভুলেই গিয়েছি, তোর ওনি সাথে কে ? ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা ঃ এটা সাহিল ভাইয়ার বউ । আর ভাবীকেই তো ডাক্তার দেখাতে এসেছি । ❤️ 😂 😮 😢
ডাঃ মুনা ঃ কি সাহিলের বউ ! সাহিল কবে বিয়ে করলো ? বউ তো দেখতে ভারী মিষ্টি । ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা ঃ হুম, শুধু দেখতে মিষ্টি না, নামেও মিষ্টি । ভাবী তোমাকে পরিচয় করিয়ে দেই । এটা আমার আম্মুর খালাতো বোনের মেয়ে । তোমার সম্পর্কে বড় ননদ হয় । ❤️ 😂 😮 😢
আমি মুনা আপুর সাথে সালাম দিয়ে কথাবার্তা বলে পরিচিত হলাম । ওনি অত্যন্ত মিশুকে স্বভাবের মানুষ । আমার সাথে অল্প সময়ের পরিচয়ে খুব ক্লোজ হয়ে গেলেন । তারপর ওনি আমাকে অনেকগুলো প্রশ্ন করলেন । আমি তার প্রশ্নের উত্তর দিলাম । এই মুনা আপার আচারণ কেন জানি আমার নানু নানু মনে হচ্ছে । কারণ আমার নানুর করা সব প্রশ্ন করছে । ডাঃ আমাকে চেকাপ করে দুটো টেস্ট দিল । টেস্টের রিপোর্ট এর পর নাকি ঔষুধ দিবে । মুনা আপা সায়লার কাছ থেকে সাহিলের ফোন নাম্বার নিলো । ❤️ 😂 😮 😢
আমি আর সায়লা টেস্ট করার জন্য ল্যাবে গেলাম । ডাঃ এর আত্মীয় বলে তো খুব যত্ন করছে । আমাদের দেশ থেকে কবে যে এই স্বজনপ্রীতি যাবে আল্লাহ জানে । সরকারি হসপিটাল থেকে প্রাইভেট ক্লিনিক সব জায়গায় স্বজনপ্রীতি । যাদের লোক নাই তাদের ভাল চিকিৎসা নাই । আবার ডাঃ আর হসপিটালের স্টাফরা এই অসহায় মানুষদের কাছ থেকেই আবার বেশি টাকা ঝারে । ❤️ 😂 😮 😢
ইউরিন টেস্ট করার পর ব্লাড টেস্টের জন্য ব্লাড নিচ্ছে । ইনজেকশানের সিরিঞ্জ দেখেই তো আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে । তারপরও সাহস করে পুরা এক সিরিঞ্জ ব্লাড দিলাম । সায়লা নার্সকে বলল, আমার ভাবী গরীব মানুষ ব্লাড কম করে নিবেন । ওর কথা শুনে বাকি সবাই হাসতে হাসতে শেষ । আমরা টেস্ট দিয়ে বাহিরে অপেক্ষা করছি । তারপর বাবা আর চাচ্চুকে দেখলাম বাহিরে বের হইছে । ওদের মন অনেক খারাপ দেখছি । পরে বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে ? বাবা নানু সামনে আছে বলে কিছু বললো না । আমিও আর দ্বিতীয় বার জিজ্ঞেস করিনি । হয়তবা নানাজ্বীর শরীরের কন্ডিশন ভাল না । ❤️ 😂 😮 😢
২ ঘন্টা পর আমার রিপোর্ট এলো । রিপোর্ট নিয়ে আবার ডাঃ চেম্বারে ঢুকলাম । মুনা আপুতো রিপোর্ট হাতে নিয়ে বলছে, তোমার বরকে বল, মিষ্টির দোকান রিজার্ভ করতে । আমি বড় বড় করে তাকিয়ে আছি তার দিকে । তারপর আপু সরাসরি বলল, আমি কনসিভ করছি । আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিনা । কারণ না চাইতে কোন কিছু পেয়ে গেলে তা বেশি উচ্ছ্বাসের হয় না । মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বললাম । আর ভাবছি আমি তো কল্পনা করিনি ১০ দিন পিরিয়ড মিস হওয়াতে কনসিভ হবে । এমন তো কত মিস হত । ভাবছি এবার ও মনে হয় একটু লেট করেই হবে । কিন্তু কে জানতো যে, ঘটনা ঘটে যাবে । ❤️ 😂 😮 😢
এজন্য নানু ইনিয়েবিনিয়ে এত কথা বলতো । আর আমিও গাধীর মত কিছুই বুঝতাম না । সায়লা তো খুশিতে লাফাচ্ছে । আপু আমাকে বলল, একটা আলট্রাস্রোনোগ্রাফী করতে । এতে বুঝা যাবে বাচ্চার পজিশন বা কয় সপ্তাহের। আপু আমার আলট্রা করলো । তারপর বলল, রিপোর্ট আমি পরে দিয়ে দিচ্ছি । আপুটার মন কেন জানি খারাপ হয়ে গেল । আমার কেন জানি খুব টেনশন হচ্ছে । আমি আপুকে বললাম, আপু সব ঠিক আছে । আপু হেসে বলল, হুম, তোমার তো টুইনস বেবী হবে । এ কথা শুনে আমার খুব খুশি লাগছে । কারণ ছোটবেলা থেকেই আমার যমজ বাবু ভাল লাগে। এজন্য বড় হওয়ার পর যমজ বাবু হয় যেন, এজন্য কত যে, যমজ কলা খেয়েছি । নানু কত যে বকা দিত । আসলে এসব কুসংস্কার । আল্লাহ দিলে এমনিতেই সব হয় । ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা বাহিরে এসে নানুকে আমার খবর বলল । নানু শুনেই তো লেকচার দেয়া শুরু করলো,,,, ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ আল্লাহ আমারে আগেই টের পাওয়াইয়া দিছে । আমার ক্যান জানি খালি সন্দেহ হইছে তোর কিছু একটা হইছে । কারণ এমন হঠাৎ কইরা জ্বর আসা বেশি বেশি ঘুম আসা এসব পোয়াতির লক্ষণ । এজন্যই তো তোরে আমি আন্দাজে ঔষুধ খাইতে দেই নাই । ❤️ 😂 😮 😢
মনে মনে বলি, আমার নানু তো দেখছি বাংলা সিনেমাকেও পিছে ফেলছে । কারণ ছোটবেলায় থেকে দেখে আসছি বাংলা সিনেমায় প্রেশার মেপে বলে সুখবর আছে কনসিভ করছে । আর আমার নানু জ্বর দেখে বলে দিল কনসিভ করছে । সত্যি কাল কালে কত কি যে দেখবো আল্লাহ জানে । ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ যাক আমার ভাই শুনবার তো পারবো তার নাতির ঘরে পুতি হইবো । ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা ঃ দাদী গো ভাবীর যমজ বাবু হবে । ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ ভালা তো , একটাই সামাল দিতে কোমড়ে কাপড় থাকবোনা আবার দুইডা । তোরে কত কইছি যমজ কলা খাইস না । এবার বুঝ ঠেলা । ❤️ 😂 😮 😢
আমি ঃ ঐ সব কুসংস্কার । এসব কথা মানলে ঈমান আমল আর থাকবো না , বুঝছো । কতজন তো খায় তাদের কি হয় । মামী তো কত খাইছে, তাই কি তার হইছে। সব আল্লহর ইচ্ছা । ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ হ আমরা আগেকার মূর্খ মানুষ এত কিছু বুঝিনা । আমাগো যা কইছে আমরা তাই বিশ্বাস করছি । এহন কত কি শুনি ঠিক না । আল্লাহ জানে আমাগো মাফ করবো কি না । যাক আমার এই দোয়া যে কবুল হইছে । আমি খুব খশি । ❤️ 😂 😮 😢
মনে মনে বলি কবুল হবে না । বিয়ের আগে থেকেই তো দোয়া শুরু করছো । আল্লাহর অশেষ রহমত বিয়ের আগে বাচ্চা দিয়া দেয় নাই যে । বিয়ের পর থেকে নানু বাচ্চা বাচ্চা করতে করতে সত্যি বাচ্চা কনসিভ করলো । ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ তোর জামাইরে মুবাইলে জানা খুশির খবর । তোর জামাই কি কয় শুনি । ❤️ 😂 😮 😢
হঠাৎ সাহিলের কথা মনে পড়ে বুকের মধ্যে মোচর দিল । ও শুনলে ওর কি রিয়্যাকশন হবে ? কারণ আমার যতটুকু মনে হইছে, ও এত তাড়াতাড়ি বেবী চায় না । এখন ও যদি বেবী না চায় তবে কি হবে ? যাইহোক বেবী তো আল্লাহ চাইলে হবেই । যে যাই বলুক না কেন ? ❤️ 😂 😮 😢
তারপরও দেখি আল্লাহ কি করে ? ❤️ 😂 😮 😢
এদিকে বাবা এসে আমাকে চুপিচুপি বলল, নানাজ্বীর নাকি ফুসফুসে পানি জমছে । আর তা থেকেই নাকি অসুখ মারাত্মক আকার ধারণ করছে । ডাঃ নাকি বলছে, নানাজ্বী এখন লাস্ট স্টেজে আছে । কথাটা শুনে খুব খারাপ লাগছে । আর ভাবছি আল্লাহ কত কিছুই পারেন । একই বাড়িতে একই দিনে একই সময়ে দুটি খবর দিল । একটা সুখবর আরেকটা দুঃসংবাদ । সবি তার ইচ্ছা, আমরা তো শুধু ওসিলা মাত্র । আমি সায়লাকে চুপিচুপি নানাজ্বীর কথা বললাম । আর বললাম ও যেন আমার কথা আগেই কাউকে কিছু না বলে । যা বলার নানু বলবে । কারণ এমন সময় এমন খবর দেয়া মনে হয় ঠিক হবে না । ❤️ 😂 😮 😢
হঠাৎ সাহিল আমার ফোনে ফোন দিল । আমি রিসিভ করে সালাম দিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছি । আগেই ওকে কিছু বলিনি । তারপর হঠাৎ করে এ এমন এক কথা বলল, আমার মনে হল আমার পায়ের নীচ থেকে যেন মাটি সরে গেল,,,,, ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
চলবে,,,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢
🎁🎁🎁 ❤️ 😂 😮 😢
#ভাবছিলাম সবার ভাবনা মিথ্যা কইরা , নায়িকার জন্ডিস বানাইয়া দেই। তা করলাম না, সবাই এত আশা করছে । সবার আশায় আমি ছাঁই ফেলি কেমনে । ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
. ❤️ 😂 😮 😢
#বিঃদ্রঃ# ভালো লাগলে জানাবেন। ❤️ 😂 😮 😢