বিয়ে_পাগলের_গল্প : ❤️ 😂 😮 😢
বৈধ_ভালবাসা ❤️ 😂 😮 😢
পর্ব : ৩৯ ❤️ 😂 😮 😢
গল্পকার : গল্প_বুড়ি_তিলোত্তমা ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
আসরের নামায পড়ে সাহিল রেডি হচ্ছে । আমি ওর অন্যান্য ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিষগুলো সামনে গুছিয়ে রাখছি । আর মনে মনে নিজের মনকে শক্ত করে গড়ার জন্য চেষ্টা করছি । যাতে ও যাবার সময় যেন আমার কান্না না আসে । সাহিল সব গুছিয়ে নানাজ্বীর রুমে গেল বিদায় নেয়ার জন্য । নানাজ্বী সাহিলকে দেখে উঠে বসতে চাইলেন । সাহিল নানাজ্বীকে উঠতে নিষেধ করে নানাজ্বীর পাশে গিয়ে বসলো । নানাজ্বী সাহিলের হাত ধরে কেঁদে দিলেন । সাহিলও তার চোখের পানিকে আটকে রাখত পারলোনা । বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মত চোখ থেকে পানি ঝরতে লাগলো । দুজন মানুষের একই চিন্তা গ্রাস করে আছে । নানাজ্বী ভাবছে, হয়তবা এটাই তার আদরের নাতির সাথে শেষ সাক্ষাৎ । আবার সাহিলও এমনটাই ভাবছে যে, দাদার সাথে এটাই বুঝি শেষ দেখা । ঘরের ভিতর পিনপিন নীরবতা । সাহিল নানাজ্বীর কাছে ক্ষমা চাইলো । কারণ ছোটবেলা থেকেই দাদার ছায়াতলে বড় হয়েছে। কত দুষ্ট মিষ্টি হাসি খুশি স্মৃতি জড়িয়ে আছে দুজনের মাঝে। সাহিল বাড়ির মধ্যে একমাত্র ছেলে । এজন্য ও নানাজ্বীর একটু বেশী প্রিয় । দাদার সাথে কত মান অভিমান ভালবাসার কথা লুকিয়ে তা শুধু ওরাই বলতে পারবে। নানাজ্বী সাহিলকে আল্লহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে নিজেও ক্ষমা চাইলেন । ❤️ 😂 😮 😢
আমার এই দৃশ্য খুব ভাল লাগলো । কারণ আমাদের সমাজে এক কুসংস্কার প্রথা চালু আছে যে,মৃত্যু পদযাত্রী ক্ষমা চায় যদি। আর তাকে ক্ষমা করে দিলেই মৃত্যু শয্যাশায়ি মানুষ তাড়াতাড়ি মরে যাবে । যার ফলে আমি অনেক দেখেছি মৃত্য পথযাত্রী স্বামী বা স্ত্রী ক্ষমা চেয়েও ক্ষমা পাইনি । তারা ভেবেছে ক্ষমা করলেই মরে যাবে । কিন্তু তারা কেন বুঝেনা, মৃত্যু সত্য । ❤️ 😂 😮 😢
আল্লহ তায়ালা বলছেন, ❤️ 😂 😮 😢
প্রত্যেক প্রানীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে । সূরা ইমরান -আয়াত -১৮৫ ❤️ 😂 😮 😢
যার যকন সময় হবে তাকে কখনও আটকে রাখা যায় । আর আল্লাহ বলেন, আমি আমার হক ক্ষমা করব । কিন্তু বান্দার হক আমি ক্ষমা করব না । এজন্য আমাদের উচিৎ কারো সাথে করা অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেয়া । কারণ হাশরের মাঠ অনেক কঠিন । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল আমাকে বলল, ওর ফোন নাকি রুমে রেখে এসেছে । আমি রুমে সাহিলের ফোন আনতে গেলাম । কেন জানি মনের ভিতর কেমন করে উঠলো । মানুষটা আমাকে ছেড়ে দূরে কোথায় চলে যাচ্ছে । ক্ষনস্থায়ী দূরত্ব হলেও, মনে কাছে যোজন যোজন দূর । একটা মাসে যেন, দুজন দুজনকে ছাড়া একবারে অচল । কেউ কাউকে একটুর জন্য,মনের আড়াল করতে পারিনি । এসব ভেবে অঝরে কেঁদে যাচ্ছি আমি । হঠাৎ দরজা লাগানোর শব্দে শাড়ীর আঁচল দিয়ে তাড়াতাড়ি চোখ মুখ মুছে নিলাম । পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি সাহিল দাড়িয়ে আছে । আমার গালে আলতো করে হাত রাখলো । তারপর আমার দুকাঁধে হাত রেখে আমাকে ওর সামনাসামনি দাড়া করালো । আমি নিচ দিকে তাকিয়ে আছি । ওর চোখে চোখ পড়লে ও বুঝে যাবে আমি কাঁদছি । আমি চাইনা বন্ধ দরজার মাঝে আমার মনের বন্ধ দরজা জানালা সব খুলে যাক । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল আমাকে একটানে বুকে জড়িয়ে নিল । আমার ধৈর্য্যের বাঁধে ওর ভালবাসার হাতুড়ির আঘাতে, সব ভেঙ্গে চুরে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল । আমার মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা আবেগের বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঝরতে শুরু করলো । আমি সাহিলকে শক্ত করে ধরে কেঁদেই যাচ্ছি । আর সাহিলও কেঁদে যাচ্ছে । ওর চোখের নোনা জলগুলো আমার ঘাড় বেড়ে পিঠ ছুঁয়ে যাচ্ছে । সাহিল আমাকে বলছে,,, ❤️ 😂 😮 😢
------ তুমি কি মনে কর ? আমি বুঝিনা তুমি নীরবে কাঁদছো । তোমার চাপা কান্নায় তোমার চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে । কেন এত ভালবাসো আমায় বলতে পার ? ❤️ 😂 😮 😢
----- নিশ্চুপ ❤️ 😂 😮 😢
------ প্লিজ আর কেঁদোনা সোনা বউ আমার । তোমার কান্নার শুনে আমি তো পাগল হয়ে যাব । প্লিজ এবার একটু শান্ত হও । ❤️ 😂 😮 😢
------ নিশ্চুপ ❤️ 😂 😮 😢
------ যাবার আগে কিছু বলবে না আমায় ? ❤️ 😂 😮 😢
আমি কাঁদো কাঁদো গলায় বললম, নিজের খেয়াল রেখ । আর আল্লহ যেন তোমাকে ভাল রাখেন । এই বলে সাহিলের শার্টের বোতাম খুলে ওর বুকে ঠোঁটে পরশ দিয়ে দিলাম । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিলের বুকে লুকিয়ে রাখা আমার মুখটাকে থুতনীর নীচে ধরে তুলে বলল, আর কত লজ্জা পাবে বল তো । লজ্জায় তো চোখ মেলে তাকাতেই পারছো না । এই বলে আমার কপালে ওর ভালবাসার পরশ ছুঁয়ে দিল । ❤️ 😂 😮 😢
সত্যি স্বামী স্ত্রী মাঝে এই ছোট ছোট হালাল ভালবাসায় কত যে সুখ, কত যে শান্তি । তা শুধু তারা বলতে পারবে । এই ছোট ছোট ভালবাসার মূহুর্তগুলো অজস্র টাকা দিয়েও কেনা যাবে না । কারণ বৈধ ভালবাসা অমূল্য । যার কোন মূল্য করার মত অর্থ এই পৃথিবীতে নেই । স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা সত্যি আল্লহর বড় নিয়ামত । কারণ পৃথিবীতে সবার আগে বাবা আদম আর মা হাওয়ার মাধ্যমে স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে । এই একমাত্র স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা ইহকাল পরকাল দুকালের জন্য । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল বিদায় নিয়ে চলে গেল । বাবা সাহিলকে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিতে গেল । সময় মানুষকে কিভাবে ফাঁকি দেয় । কিছুদিন আগেও দাদা নাতি মিলে একসাথে গেল । আর আজ নানাজ্বী বিছানায় শয্যাশায়ী । সত্যিই জীবন বড় কঠিন । প্রত্যেক মূহুর্তে নতুন কিছু শিক্ষা দেয় । পুরুষের জীবন বড় কঠিন । যাদের ভাল রাখার জন্য কর্ম করতে হয় । আবার কর্মের জন্য সেই ভালবাসার মানুষদের থেকেই অনেক সময় দূরে থাকতে হয় । একেই বলে নিয়তির পরিহাস । শুরু নারী জীবন কষ্টের নয় । পুরুষ হয়ে জন্ম নেয়ার পর থেকেই পরিবারের আশা ভরসা সব তাকে ঘিরেই থাকে । একজন দায়িত্বশীল পুরুষ সারাজীবন তার পরিবারের জন্য কষ্ট করে যায় । নিজের জন্য কখনও ভাবে না । শুধু পরিবারের জন্য ভেবে জীবন পার করে । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল যাওয়ার পর আমি দরজা বন্ধ করে মন খুলে কাঁদলাম । জানি না কেন এত কষ্ট লাগছে । মনে হচ্ছে যেন আমার কিছু শূণ্য হয়ে গিয়েছে । এসব ভাবতে ভাবতে আম্মুর কথা মনে পড়ে গেল । আম্মু তবে কি করে সহ্য করেছিল আব্বুর চিরকালের মত চলে যাওয়া । আজ পর্যন্ত আম্মু আব্বুর জন্য নীরবে কেঁদে যান । মাগরিবের আযান পড়াতে উঠে বসলাম । এই সময়ের মাঝে সাহিল দুবার কল দিয়েছিল। আমি ওযূ করে নামায পড়ে নিলাম । তারপর কোরআন পড়ে নানাজ্বীর পাশে গিয়ে বসলাম । নানাজ্বী এত অসুস্থতার মধ্যেও নামায বাদ রাখে না । ❤️ 😂 😮 😢
. ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল ফোন দিয়ে জানিয়ে দিল ও ভাল ভাবে পোঁছে গিয়েছে । আমি ওর পৌঁছানোর খবর শুনে দু’রাকাআত শুকরানের নামায আদায় করলাম । এর মাঝে এশারের নামায পড়লাম । নামায পড়ে বাবাকে খেতে দিলাম । আমি আজকাল কেমন জানি খেতে পারি না । শরীরে কেমন জানি সবসময় জ্বরজ্বর ভাব থাকে । আর যত রাজ্যের ঘুম চোখে এসে জানি বাসা বেঁধেছে । ঘুমে মনে হয় চোখে দেখিনা । এদিকে বাড়িতে তো সবসময় মেহমানের আনাগোনা । এজন্য ঘুমাতেও পারি না । ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী ও এখন খাবার বেশি খেতে পারেনা । খাবারে মধ্যে শুধু তরল খাবার আর ফলমূলের রস খায় । সাহিল চলে যাওয়ার কয়েকদিন হয়ে গিয়েছে । প্রতিদিন অনেকবার ফোন করে । কখন আমার খবর জানতে আবার কখনও নানাজ্বীর খবর জানতে । আমার নানু এখনও এই বাড়িতেই আছে । হঠাৎ করে আমার ভিষণ জ্বর হল । জ্বরে জন্য আমি কোন কিছু খেতে পারছি না । আমি বেশ অসুস্থ হয়ে গিয়েছি । একে তো নানাজ্বী অসুস্থ , তার মাঝে আবার আমার জ্বর সব মিলিয়ে বাড়িতে থমথমে পরিবেশ । আমার বেচারা বরতো অস্থির । আসতে চেয়েও আসতে পারছে না । কারণ ও ঢাকা থেকে চিটাগাং ক্যান্টনমেন্টে গিয়েছে । ঢাকা থাকলে হয়তবা একরাতের জন্য হলেও ঘুরে যেত । কিন্তু এখন তো তা আর সম্ভব না । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল ডাক্তার দেখানোর জন্য অস্থির করে ফেলছে । আমি অবশ্য ডাঃ নানাকে ফোন করে বাবাকে দিয়ে ঔষুধ আনিয়ে নিয়েছি । কিন্তু আমার নানু কিছুতেই আমাকে ঔষুধ খেতে দিচ্ছে না । নানুর এক কথা ডাঃ দেখিয়ে তারপর ঔষধ খেতে বলছে । আর আমাকে বারবার শ্বাশাচ্ছে, আমি যেন লুকিয়ে না ঔষুধ খাই । নানুর এমন আচারণে আমি বিস্মিত হচ্ছি । অসুখ হলে ঔষুধ খেলে দোষের কি ? তার এক কথা এই জ্বরে ঔষুধ না খেলে আল্লহর রহমতে আমি নাকি মরবো না । এদিকে নানাজ্বী আবার আল্লাহর রহমতে খানিক সুস্থ হয়েছে । এজন্য বাবা বলল, নানাজ্বীর কিছু চেকাব করা দরকার । এজন্য বাবা নাকি একবারে নানাজ্বীকে সহ আমাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবে । ❤️ 😂 😮 😢
কি আর করার পরের দিন সায়লাকে নিয়ে আমি ডাঃ দেখাতে যাব । বাবা আর ছোট চাচা মিলে নানাজ্বীকে ডাঃ দেখাবে । এর মাঝে আমার নানু জেদ করে বসলো সে আমাদের সাথে যাবে । বাবা বলল, তারা নানাজ্বীকে সামলাতে পারবে । নানু বলে উঠলো, সে নাকি আমার জন্য যাবে । কি আর করার, এক মাইক্রোবাস ভাড়া করে আমরা সবাই হসপিটালে গেলাম । নানাজ্বীর জন্য বক্ষব্যাধী ডাঃ এর সিরিয়াল দেয়া হল । আর আমার জন্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ এর সিরিয়াল। ডাঃ দেখাতে গিয়ে দেখি অন্য ডাঃ এর সিরিয়াল দিয়েছে । আমি সায়লাকে জিজ্ঞেস করতেই সায়লা বলল, নানু নাকি এই কাজ করছে । নানুকে জিজ্ঞেস করতেই নানু যা শোনালো আমি তো পুরাই হতবাক,,,, ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
চলবে,,,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢
🎁🎁 ❤️ 😂 😮 😢
. ❤️ 😂 😮 😢
#বিঃদ্র: কমেন্টে জানাবেন কেমন লাগছে পড়তে ❤️ 😂 😮 😢