বিয়ে_পাগলের_গল্প : ❤️ 😂 😮 😢
বৈধ_ভালবাসা ❤️ 😂 😮 😢
পর্ব : ৩৪ ❤️ 😂 😮 😢
গল্পকার : গল্প_বুড়ি_তিলোত্তমা ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
সাহিলকে আস্তে আস্তে কয়েকবার ডাকার পর ও আমার ডাকে সাড়া দিল । আমি ওকে উঠতে বলি এবং ওকে নিয়ে মায়ের রুমে যাই। সাহিলকে নিয়ে মায়ের রুমে ঢুকতেই দেখছি মা অজ্ঞান হওয়ার মত পরে আছে । তার নাকি প্রেশার হাই হয়েছে । আমি সাহিলকে মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালতে বললাম । আর আমি ফ্রীজ থেকে তেঁতুল বের করে তেঁতুলের শরবত বানালাম । কারণ যখনি দেখতাম আম্মুর প্রেশার হাই হয় । তখনি আম্মু মাথায় ঠান্ডা পানি দিত আর তেঁতুলের শরবত খেত । এতে প্রেশার বেশ কন্ট্রোলে আসতো । ❤️ 😂 😮 😢
মাকে শরবত খাইয়ে দিলাম । কিছুক্ষণ মাথায় পানি দেয়ার পর দেখছি , ওনি বেশ সুস্থ । ❤️ 😂 😮 😢
বাবা মাকে জিজ্ঞেস করছেন, তার হঠাৎ প্রেশার হাই কেন ? কারণ সে যখনি বেশি চিন্তা করে তখনি প্রেশার হাই হয় । ❤️ 😂 😮 😢
আমি বাবাকে বললাম, এখন এসব প্রশ্ন নাই বা করলেন । মায়ের এখন পর্যাপ্ত রেস্টের দরকার । ❤️ 😂 😮 😢
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই আগে মায়ের কাছে গেলাম । রুমে গিয়ে দেখছি মা ঘুমাচ্ছেন । আমি মায়ের পাশে বসে, মায়ের মাথায় হাত রাখলাম । কিছুক্ষণ মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সকালের নাশতা বানানোর জন্য লেগে পড়লাম । আমি আস্তে আস্তে রুটি বেলছি । তখন দেখছি নানীমা এসে হাজির । নানীমা আমার কাছ থেকে রুটির বেলনা নিয়ে রুটি বানানো শুরু করলো । আর আমাকে চা বানিয়ে নানাজ্বীকে দিয়ে আসতে বলল। আমি লেবু দিয়ে চা বানিয়ে নানাজ্বীকে দিয়ে এলাম । নানাজ্বী ভেবেছে আমি সকাল সকাল তার সাথে গল্প করতে গিয়েছি । আমি নানাজ্বীকে বললাম, গল্প পরে এক সময় করব । কারণ মানুষের বয়স হলে তারা একটু সঙ্গ খুঁজে কথা বলার জন্য । আজকাল তার নাতি তো বউয়ের পিছু পিছু ঘুরতেই সময় যায়। দাদাকে সময় দিবে কখন । ❤️ 😂 😮 😢
আমি রুটি /পরোটা, সবজি ভাজি আর ডিম ভাজি করলাম । আর রাতের রান্না করা গরুর মাংস গরম করলাম । সবাইকে নাশতা দিয়ে মার জন্য খাবার তার রুমে নিয়ে গেলাম । মা আমাকে দেখে হেসে বললেন,,, ❤️ 😂 😮 😢
---- কি মিষ্টি রুটি বানালো কে ? ❤️ 😂 😮 😢
---- মা আমি আর নানীমা বানিয়েছি । ❤️ 😂 😮 😢
----- হুম, রুটি দেখেই বুঝেছি আমার দুই শ্বাশুড়ির বানানো রুটি । বড় শ্বাশুড়ি আর ছোট শ্বাশুড়ি । বড় শ্বাশুড়ির রুটি গোলগোল আর ছোট শ্বাশুড়ির রুটি আঁকাবাঁকা । ❤️ 😂 😮 😢
আমি মায়ের কথা শুনে হেসে দিলাম। কারণ আমার রুটি খুব একটা গোল হয় না । আজ মায়ের মুখে এমন কথা শুনে বেশ ভাল লাগছে । বিয়ের আগেও তিনি আমার সাথে এভাবেই কথা বলতেন । কিন্তু জানিনা কেন জানি তার হঠাৎ পরিবর্তন হল । মা সাহিলের কথা জিজ্ঞেস করছে,, ❤️ 😂 😮 😢
--- তা আমার ছোট শ্বশুর খেয়েছে ? ❤️ 😂 😮 😢
---- না, মা। ও এখনও ঘুমাচ্ছে । ও উঠলে ওর খাবার আমি রুমে দিয়ে আসবো । আপনি এখন খাবার খেয়ে নেন । আপনাকে আবার ওষুধ খেতে হবে । ❤️ 😂 😮 😢
----- হুম, খাব । তা তুই খেয়েছিস মা । ❤️ 😂 😮 😢
মায়ের মুখে মা ডাক শুনে আমার চোখে পানি এসে গেল । আমি আর কোন কথা বলতে পারছি না । মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ❤️ 😂 😮 😢
---- মিষ্টি তুই আমাকে ক্ষমা করে দে মা । তোর সাথে আমি অনেক অন্যায় করেছি । ❤️ 😂 😮 😢
----- ছিঃ ছিঃ মা আপনি এসব কি বলছেন ? আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আমাকে ছোট করবেন না । ❤️ 😂 😮 😢
----- না রে মা । কেউ কারো কাছে ক্ষমা চাইলে ছোট হয় না । এই কথা আমার শ্বশুড় সব সময় বলে । আমি সত্যি তোর সাথে এতদিনে খুব অন্যার করেছি । কত কটু কথা বলছি । তারপরও তুই এই বাড়ির কারও সাথে একটি কথাও বলিসনি । ❤️ 😂 😮 😢
----- মা আমার আম্মু বলে, সংসারে দু এক কথা হয় । তাই বলে,ঐ সব কথা স্বামী বা বাবার বাড়ির কারও কানে তুলতে নেই । এতে যার সম্পর্কে বলবি সেও ছোট হবে । আর তার সাথে তুই বলে তুইও ছোট হবি । সত্যি বলতে মা, আমি আপনাকে, না নিজেকে, কারও কাছেই ছোট করতে চাইনি । ❤️ 😂 😮 😢
---- কাল আমার সায়লাটা আমাকে না বুঝালে আমি বুঝতামি না আমি কত বড় অন্যায় করছি। ❤️ 😂 😮 😢
----- মা সায়লা আপনাকে কি বলছে ? ❤️ 😂 😮 😢
----- সায়লা আমাকে বলল, মা তুমি যে বৌমনির সাথে এমন কটু আচারণ করছ ? কাল যখন আমার বিয়ে হবে। তখন আমার শ্বাশুড়ি আমার সাথে এমন আচার-আচরণ করলে আমার কষ্ট লাগবে না ? ❤️ 😂 😮 😢
তোমার মেয়ের সাথে তারা এমন কটু আচারণ করছে । তোমার শুনলে কষ্ট লাগবে না ? ❤️ 😂 😮 😢
বৌমনি তো কারও মেয়ে । আর দাদাই যদি শুনে তুমি বৌমনির সাথে এমন কটু আচারণ করছো । তখন তুমি দাদাইয়ের চোখে কতটা ছোট হবে বল তো । আর দাদাই বৌমনির কাছে কতটা ছোট হবে ভাবতে পারো ? আজ তুমি যাদের কথায় বৌমনিকে কটু কথা শোনাচ্ছো । কাল দেখবে তারাই তোমার গায়ে খারাপ শ্বাশুড়ির মোহর লাগিয়ে দিবে । কারণ যারা একজনের আড়ালে একজনের গীবত করে । তারা যে তোমার আড়ালে তোমার গীবত করে না তার কি নিশ্চয়তা আছে । এজন্য মা তোমাকে বলি, এখনও সময় আছে তুমি পাল্টে যাও । ভালবাসা দিয়ে ভালবাসা পাওয়া যায় না । আর তুমি ঘৃণা দিয়ে জোর করে ভালবাসা আদায় করতে চাইছো । তা কি মা আদৌ সম্ভব ? আমি চাই আমার মা আমার দাদীর মত আদর্শ শ্বাশুড়ি হোক । আমার দাদী যদি তিন ছেলের বৌ নিয়ে গুছিয়ে সংসার করতে পারে । তবে আমার মা কেন এক ছেলের বৌ নিয়ে সংসার করতে পারবে না । ❤️ 😂 😮 😢
জানিস মা আমার সায়লাটা এই সংসারে থেকে, সংসার সম্পর্কে ভালমন্দ সব বুঝে নিয়েছে। এজন্য তো এইটুকু মেয়ে তার মাকে বুঝিয়েছে । ❤️ 😂 😮 😢
আমি মায়ের মুখ থেকে সায়লার বলা কথাগুলো শুনে আশ্চর্য হলাম । সত্যি মেয়েটা মাকে কত সুন্দর করে বুঝিয়েছে । গতকাল আমাকেও কত সুন্দর করে বুঝিয়ে বলল । ❤️ 😂 😮 😢
ও ইচ্ছে করলে এসব ব্যাপারে না ভাবলেও পারত । কিন্তু তা না করে বড়দের দায়িত্বটা ও ওর নিজের কাঁধে নিয়েছে । আজ আল্লহর অশেষ রহমতে আর সায়লার ওসিলায় আমাদের বৌ শ্বাশুড়ির সম্পর্কটা আবার মধুর হতে চলছে । ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা মত এমন যদি প্রতিটা ঘরের মেয়েরা তার মাকে বুঝানোর দায়িত্ব নিত । তবে মনে হয়, বৌ শ্বাশুড়ী আর ননদ ভাবীর যুদ্ধ ঘরে ঘরে লেগে থাকতো না । ❤️ 😂 😮 😢
---- আচ্ছা মা এসব কথা বাদ দেন । এমনিতেই আপনার শরীর ভাল না । এসব নিয়ে ভাবলে আপনার শরীর আরও খারাপ হবে । ❤️ 😂 😮 😢
----- খারাপ কি আর হবে রে মা । খারাপ তো হয়েই আছে । কাল সারারাত এসব চিন্তা করে দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি । তোর শ্বশুড়কে কিছু বলতে পারিনি । সে জানলেও কত কষ্ট পেত । কত সাধ করে তোকে এই বাড়ির বৌ করছে তারা । আর আমি কি না সবার কথায় তোর সাথে । আমার এখন মুখে এসব কথা বলতেও কেমন জানি লাগছে । মা তুই আমাকে ক্ষমা কর মা । ❤️ 😂 😮 😢
----- মা আপনি দয়া করে আর এমন কথা বলবেন না । মা আপনি মনে মনে আপনার আচারণের জন্য অনুশোচনা করছেন । এই অনেক কিছু । কারণ মানুষ বড় কোন পাপ করে যদি, সে তার পাপের জন্য আল্লহর কাছে অনুশোচনা করে । তবে আল্লহ তাকে ক্ষমা করে দেন । আর আপনি এই সামান্য কারণে আমার কাছে এতবার করে ক্ষমা চেয়ে আমাকে লজ্জিত করছেন । ❤️ 😂 😮 😢
---- না রে মা তারপরও আমি মনে শান্তি পাচ্ছি না । কারণ বিয়ের পর একটা মেয়ে শ্বশুড়বাড়িতে আসলে তাকে ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখতে হয় । আর আমি কি না তোর সাথে কতটা কঠিন আচারণ করেছি । আমার শ্বাশুড়ীকে দেখছি, আমার বিয়ের পর আমাকে কতটা আদর যত্ন করেছে । আমার তো বাবারবাড়ির থেকে এই বাড়িতেই বেশি ভাল লাগতো । আর আমি তোর মাকে কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করছি । এসব কথা ভেবে আমি নিজে নিজে অশান্তিতে ভুগছি। ❤️ 😂 😮 😢
সত্যি আমার শ্বাশুড়ি মা বেশি সহজ-সরল । এমন মানুষ নিয়ে বড় মুশকিল । কারণ এদের সরলতার সুযোগ নিয়ে আরেকজন ফায়দা লুটে । আর এই বেচারিরা মনের ভিতর গিল্টি ফিল করে । যেমন আমার শ্বাশুড়ি মা । নিজের বুদ্ধিতে কিছুই করেনি । কিন্তু কষ্ট সেই বেশি পাচ্ছে । আমি তাকে অনেক বুঝিয়ে আসস্থ করলাম যে, আমার তার প্রতি কোন মান অভিমান কিছু নেই । শুধু একটা অনুরোধ আছে, আমার ভুলগুলো যেন ওনি নির্দ্বিধায় আমাকে ধরিয়ে দেন বা শুধরে দেন । কারন আমি যে ভুল করবো না তার কোন মানে নেই । শয়তানের কুমন্ত্রণায় পরে আমিও ভুল করতে পারি । আর সেই ভুলগুলো যদি দুজনে মিলে আলোচনা করে সমাধান করতে পারি । ❤️ 😂 😮 😢
এতে দুজনের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি কম হবে । কারণ কথা মনের ভিতর চেপে রাখলে ছোট ছোট কথাগুলো এক সময় বড় আকার ধারণ করে । সংসার জীবনের সব সমস্যাগুলো আলোচনা সমালোচনা করে মোকাবিলা করা উচিৎ । আর প্রত্যেক বউ শ্বাশুড়িকে যথেষ্ট ধৈর্য্যশীল হতে হবে । কথায় বলে না, ❤️ 😂 😮 😢
#এক হাতে কখনও তালি বাজে না । ❤️ 😂 😮 😢
#আর এক ইটে কখনো মসজিদ হয় না । ❤️ 😂 😮 😢
সংসার জীবনও তেমন । ভাল ভাগটা যেমন সবার আর মন্দের দায় ও তেমন সবার । বৌ শ্বাশুড়ি দুজকেই সংবেদনশীল হতে হবে। বৌকে শ্বশুড়বাড়ির সবাইকে আপন ভাবতে হবে । কারণ সে যে বর পেয়েছে, তাতে তার শ্বাশুড়ির অবদান বেশি । আর শ্বাশুড়িকেও ভাবতে হবে বৌ কার প্রতিযোগী না সহযোগী । এই দুজন মিলেই তার ছেলেকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুখ দিতে পারবে। ❤️ 😂 😮 😢
আজকাল মা খুব আমাদের ব্যাপারে খুব পজিটিভ । আমাকে তো ধরতে গেলে কোন কাজ করতেই দেন না । এখন তার এক কথা, তার ছেলে যে কদিন আছে আমার সময়গুলো তার ছেলেকে যেন দেই । ও যাওয়ার পর আমার যত কাজ । আমার বরের তো সোনার উপর সোহাগা । সব সময় সুপারগ্লুর মত পিছনে পড়ে থাকে । আর চাচীরা কোন কথা বললে, আজকাল তাদের কথা কানে তুলে না । ভাইদের সাথে ধরতে গেলে যোগাযোগ বন্ধ। কারণ আমাদের বাড়িতে সাহিলের মামারা যে কান্ড করেছিল। মা তার কিছুই জানতো না । নানাজ্বী মাকে সব খুলে বলছে । মা লজ্জায় আর কোন কথাই বলতে পারেনি । সত্যি বলতে সাহিলের বাবা মা দুজনেই খুব সহজসরল । আসলে বেশির ভাগ সংসারে বড় ছেলে আর বড় বউরা একটু গাধা টাইপের হয় । এদের ধৈর্য্য শক্তি অন্যদের তুলনায় একটু বেশি । কারণ যত ছোট বড় ঝড় তো বড় গাছের উপর দিয়ে যায় । এজন্য এরা বেশি ধৈর্য্যশীল হয় । ❤️ 😂 😮 😢
প্রায় এক মাস হল আমি বাড়ি যাইনি । বাড়ির সবার জন্য মনটা যেন কেমন করছে । আমি তো ভেবেছিলাম ১৫ দিন এখানে থাকবো আর ১০ দিন বাবারবাড়িতে থাকব । কিন্তু তা তো আর হয়ে উঠেনি । আম্মু আর নানু নানাজ্বীকে বলেছে, আমাদের যেন পাঠিয়ে দেয় । কিন্তু আমার ইচ্ছা আমরা মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমাদের বাড়ি যাব । কারন এতে করে তাকে বুঝানো হবে, তার কথার গুরুত্ব আমাদের কাছে আছে । সেও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি । ❤️ 😂 😮 😢
মা অনুমতি দিয়েছে, আর বলছে, আমি যেন সাহিলকে বলি, তাকে আমার সাথে নিব না । আমি একাই যাব । মা দেখতে চাচ্ছে, তার ছেলে কতটা বউ পাগল । আমার শ্বশুড় আব্বা নাকি আমার শ্বাশুড়ি মাকে কোনদিন বাবার বাড়ি একা থাকতে দেয়নি। বাবা সাথে নিয়ে যেত আর সাথে করে নিয়ে আসত । মনে মনে বলি আল্লহ গো, এত ভালবাসা আমার হজম হবে না । কারণ সাহিলের ভরসায় থাকলে বছরে দু চার দিন বাবার বাড়ি থাকা কপালে জুটবে কিনা সন্দেহ । ❤️ 😂 😮 😢
তুষার আজকে আমাদের নিতে আসতেছে । আমি আমার সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি । কারণ এবার বেশ কিছুদিন থাকার ইচ্ছে আছে । কদিন পরে সাহিলের ছুটিও শেষের দিকে । এজন্য দুজনে মিলে ঘুরতে যাচ্ছি । কিন্তু সাহিল জানে আমি একা যাচ্ছি । বেচারার মনটা বেশ খারাপ । কিছু বলতেও পারছেনা আবার সইতেও পারছেনা । নানাজ্বীও বাসায় নেই । সে থাকলে তাও একটা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতো । এখন তো তাও পারছে না । এজন্য বর আমার ঝোপ বুঝে কোপ দিল । সে আমাকে বলছে, ❤️ 😂 😮 😢
----- এই শুনো আমি যদি তোমাকে অনুমতি না দেই তবে কিন্তু তুমি বাপেরবাড়ি যেতে পারবেনা । এটা কিন্তু হাদীসের কথা । ❤️ 😂 😮 😢
----- হুম জানি তো। ঠিক আছে, আমি আম্মুকে ফোন করে বলে দেই । তুমি যাওয়ার জন্য অনুমতি দাও নি । এজন্য আমি যাব না । ❤️ 😂 😮 😢
----- এই আমি কখন বললাম, তোমাকে যেতে দিব না । ❤️ 😂 😮 😢
---- কেন এখনি তো বললে যে, তুমি অনুমতি না দিলে আমি যেতে পারবোনা । তার মানে তুমি অনুমতি দাওনি আমাকে । ❤️ 😂 😮 😢
----- ধ্যাত, আমি তাই বলেছি নাকি । শুধু বলছি, একা না গেলেই কি নয় । ❤️ 😂 😮 😢
----- ওহ্ এই কথা । তবে আমি সায়লাকে সাথে নিয়ে যাই । ❤️ 😂 😮 😢
----- এই তুমি সায়লাকে চোখে দেখ । সায়লার ভাইকে চোখে দেখ না কেন ? ❤️ 😂 😮 😢
---- এতক্ষণে এত কথার সারমর্ম বুঝলাম । কেন দুচার দিন বউ ছাড়া থাকলে সমস্যা কি ? ❤️ 😂 😮 😢
----- ঠিক আছে । কোন সমস্যা নেই । আমি কালকেই ঢাকায় চলে যাব । ❤️ 😂 😮 😢
------ ঢাকায় চলে যাব মানেটা কি ? আমি ছাড়া কি আর এই বাড়িতে কোন মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না নাকি। এর আগে বউ ছাড়া চলছে এখন চলবে না কেন ? ❤️ 😂 😮 😢
----- ভাগ্যিস আমার কষ্ট যদি তুমি বুঝতা । তবে তো আর এসব কথা বলতে না । এই যে, বউ শুনো, বিয়ের আগে বউ ছাড়া চলে বিয়ের পর চলে না । এসব বউ আর পরিবারের সবাইকে বুঝতে হয়। তুমি জানো আমার এক কলিগ বিয়ের আগে কেমন ছিলো আর বিয়ে পরে কেমন হয়েছে ? সবি হয়েছে বউ কাছে না থাকার ফলে । ❤️ 😂 😮 😢
----- তোমার কথার মানে বুঝলাম না । ❤️ 😂 😮 😢
----- মানে টা হচ্ছে, আমার কলিগ রাশেদ । বেচারা বিয়ের আগে বেশ নরম স্বভাব চরিত্রের ছিল । আর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভাল ছিল । রাদেশ বিয়ে করেছে ৫ বছর যাবত । ওর বাসা পঞ্চগড় । বেচারা দুচার দিনের ছুটিতে বাড়ি যেতে পারে না । কারণ আসতে যেতেই ২-৩ দিন চলে যায় । আবার এখানেও আমাদের মাঝে মাঝে নিজেদের রান্না করে খেতে হয় । কারণ আমরা তো আর আর্মি নই । আমরা আর্মির সিভিল সেকশনে চাকরি করি । এজন্য আমাদের সব কিছুর দায়িত্ব আমাদের নিজেদের । ❤️ 😂 😮 😢
এজন্য ও কয়েকবার বাড়িতে বলছিল, ও ওর বউকে নিয়ে ঢাকায় থাকবে চায় । এতে না বেচারার বউ রাজি হয়েছে না পরিবারের লোকজন । কারণ ও একটা ছেলে আছে । ওর বাবা মা নাকি নাতিকে ছাড়া থাকতে পারবে না । আমি বুঝে উঠতে পারিনা, বাপ ছেলেকে ছাড়া থাকতে পারে । আর তারা পারে না । যাও বা জোরাজোরিতে বউ রাজি হয়েছে । কিন্তু পরিবারের কাউকে রাজি করতে পারিনি । তাদের এক কথা, বিয়ের আগে কেমনে থাকতি । এখনও সে ভাবে থাকবি । ❤️ 😂 😮 😢
------ তারপর কি হল ? ❤️ 😂 😮 😢
----- কি আর হবে । যা হওয়ার তাই হল । এখন ও অন্য মেয়ে মানুষের পাল্লায় পড়ছে । এখন বছরে এক দুবার বাড়ি গেলেও চলে আবার না গেলেও চলে । শুধু মাসে মাসে বিকাশ করে টাকা পাঠায় । ❤️ 😂 😮 😢
----- কি বলছো তুমি । তারমানে এক্সট্রা ম্যারিটাল রিলেশনে জড়িয়ে গিয়েছে । এ তো বড় সাংঘাতিক কথা । সে এমন করল কেন ? বিদেশের বাড়িতেও তো কত লোকজন বছরের পর বছর থাকছে । তারা কি করে থাকে ? ❤️ 😂 😮 😢
----- হুম তা ঠিক । কিন্তু যারা বিদেশ থাকে তাদের কাছে কোন অপশন নেই বলেই থাকে । কিন্তু রাশেদের কাছে তো যথেষ্ট অপশন আছে বউ নিয়ে থাকার । ❤️ 😂 😮 😢
----- যাই হোক । তাই বলে বিয়ের পর লোকটার এমন করা উচিৎ হয়নি । স্ত্রী আছে ছেলে আছে । তাদের দিক চিন্তা করে তার ধৈর্য্য ধরা উচিৎ ছিল । আর ওনি কি জানেনা ? বিয়ের পর ব্যভিচার করলে তা ক্ষমা হয় না , যে পর্যন্ত রজম করা না হয় । ❤️ 😂 😮 😢
আল্লহ তায়ালা বলেছেন, ❤️ 😂 😮 😢
তোমার যেনার নিকটবর্তীও হইও না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ । (সূরা- বনী ইসরাঈল -৩২) ❤️ 😂 😮 😢
আর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ❤️ 😂 😮 😢
তোমরা আমার নিকট হতে আল্লহর বিধান গ্রহন কর, কথাটি রাসুল সাঃ দু বার বললেন। আল্লহ তাআলা তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, অবিবাহিত নারী-পুরুষকে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন করতে হবে । আর বিবাহিত নারী-পুরুষকে রজম করতে হবে । ❤️ 😂 😮 😢
রজম হচ্ছে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা । ❤️ 😂 😮 😢
( মুসলিম,মিশকাত হা/৩৫৫৮) ❤️ 😂 😮 😢
তাহলে বুঝতে পারছো । বিবাহিত নারী-পুরুষের জন্য যেনা ব্যভিচারের শাস্তি কতটা ভয়াবহ। রজম করা ছাড়া তাদের তওবা কবুল হবে না । ❤️ 😂 😮 😢
----- আমি ওকে অনেক বুঝিয়েছি । কিন্তু মানুষ একবার পাপের পথে ধাবিত হলে, তাকে ফেরানো খুব কষ্টকর । আমি তো বলি ওর এই পাপের জন্য ও যতটুকু দায়ী , ততটুকু ওর পরিবারও দায়ী । কারণ হাদীসে স্বামী স্ত্রী দুজনকে এক সাথে অবস্থান করতে বলা হয়েছে । আর সেখানে পরিবারের লোকজন দুজকে আলাদা করে রাখছে । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিলের কথাগুলো শুনে আমার হাত পা কাঁপছে । কারণ বিয়ের মাধ্যমে যেনা ব্যভিচার প্রতিরোধ করা সম্ভব । আর সেই বিবাহিত নারী পুরুষ যদি যেনা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় । তবে তার উপায় কি ? আমাদের সমাজে কত মানুষ যে সাময়িক যৌনতার লোভে পরে নিজেকে জাহান্নামের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে তা আল্লহ মালুম । আর প্রত্যেক পরিবারের লোকদেরও এসব ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার । তাদের আবেগি ভালবাসার কারণে যেন একটা পরিবার ধ্বংস না হয়। ❤️ 😂 😮 😢
মানুষ বৈধ সম্পর্ক ছেড়ে আজ অবৈধ সম্পর্কের পিছু ছুটছে । যেখানে স্বামী স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করাতে আল্লহর পক্ষ থেকে রয়েছে নিয়ামত । আর সেখানে অন্য নারী পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে নিজেদের যেনা ব্যভিচার করে শয়তানের দাসত্ব করছে । ❤️ 😂 😮 😢
#বৈধ_ভালবাসা ছেড়ে #অবৈধ_সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে । ❤️ 😂 😮 😢
আল্লহ তুমি আমাদের সকলকে হেফাজত কর । ❤️ 😂 😮 😢
----- এই তিলোত্তমা তোমার কি হল ? তখন থেকে চুপ করে কি কি যেন ভেবে চলছো । ❤️ 😂 😮 😢
আমি সাহিলের বুকে মাথা রেখে একটা কথাই বললাম, ❤️ 😂 😮 😢
----- আল্লহ কাছে আমাদের যেন একটা অনুরোধ হয় । আল্লহ যেন, আমাদের চরিত্রকে সুন্দর রাখেন । আর এসব পাপ কাজ থেকে অনেক দূরে রাখেন । ❤️ 😂 😮 😢
----- ইংশাআল্লহ । অবশ্যই আল্লহ আমাদের সৎ পথে থাকতে সাহায্য করবেন । তুমি আন এসব নিয়ে ভেব না । আর ভয় পেয়না তোমার বর না ঢাকায় কি করে বসে । ❤️ 😂 😮 😢
------ ধ্যাত কি যে বল ? ইংশাআল্লহ । আল্লহ আমাদের দুজনের মাঝেই পবিত্রতা বজায় রাখবেন । ❤️ 😂 😮 😢
----- তাহলে এখন কি তুমি আমাকে ছেড়ে বাপের বাড়ি যাবে ? ❤️ 😂 😮 😢
আমি সাহিলের বুকে একটা কিল মেরে বললাম, তুমি না আসলেই, বড় একটা ফাজিল । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিলকে তার কাপড় গোছাতে বললাম । বেচারা তার প্রয়োজনীয় কাপড়গুলো খুঁজে পাচ্ছে না । আমি মিষ্টি মিষ্টি হাসছি । ওর সব কাপড় তো আমার ব্যাগে তোলা শেষ । কারণ ও যে আমার সাথে যাবে । তা তো আগে থেকেই ঠিক করা । বেচারা কাপড় খুঁজে অস্থির হয়ে বিছানাতে বসে পড়লো । আর বলছে, ওর কাপড় দিয়ে মা হাড়ি পাতিল রাখলো নাকি । কারণ এর আগে নাকি মা ওর নতুন প্যান্ট শার্ট দিয়ে হাড়ি পাতিল কিনছে । আমি ওর কথা শুনে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছি । আমি সাহিলের পাশে বসে ওর নাকটা টেনে বললাম, ❤️ 😂 😮 😢
------ এই যে গো, শোনো না । তোমার কাপড় না এক মেয়ে চোরে চুরি করছে । ❤️ 😂 😮 😢
------ আমার কাপড় চুরি করলো , আর তুমি কিছু বললেনা । ❤️ 😂 😮 😢
----- কি বলবো বল, চোর যদি তোমার বউ হয় । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল আমার কথা শুনে বলল, ❤️ 😂 😮 😢
তাই বুঝি । তবে তো চোরকে শাস্তি দিতে হয় । আর চোর বউ বলে কথা, শাস্তিটা একটু কঠিন হবে । এই বলে আমাকে শুড়শুড়ি দিতে দিতে আধমরা করে ফেললো । অবশেষে আমি মাফ চেয়ে নিলাম । আর কিছুক্ষণ হলে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যেত । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল আমার গাল দুটো টেনে বলল, ❤️ 😂 😮 😢
---- এখানে ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই । স্বামী স্ত্রীর মাঝে হাসি মজা আল্লহ খুব পছন্দ করেন । কারণ এই সম্পর্ক হচ্ছে তার দেয়া নারী পুরুষের জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত । ❤️ 😂 😮 😢
তুষার আর নানাজ্বীকে দেখছি এক সাথে এসে গিয়েছে । আমি জানালার ফাঁক থেকে ভাইটাকে দেখলাম । আমার ভাই দেখছি নিজেকে বেশ কন্ট্রোল করছে । আগের থেকে বেশ স্লীম হয়েছে । তুষার সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে আমার রুমে আসলো । এসেই আমার গাল টেনে বলছে,, আপু যাবি তো ? নাকি এখনও ভাইয়াদের বাসায় থাকবি । আমি ওকে বললাম, সালাম কালামের খবর নাই । তার আগেই তোর এই প্রশ্ন । ও বলে তুই তো বিয়ে করে আমাদের ভুলেই গিয়েছিস। আমি মৃদু হাসি দিয়ে বললাম, ভুলে মানুষ যায় না রে ভাই সময় মানুষকে ভুলিয়ে দেয় । ❤️ 😂 😮 😢
আমরা বিকেল বেলা রেডি হয়ে বেড়িয়ে পড়ব। তুষার আমাদের ব্যাগ নিয়ে গাড়ীতে যাবে । আর আমরা দুজন বাইকে করে যাব । আমরা সবার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে বিদায় নিলাম । দোয়া পড়ে আল্লহর নাম করে রওনা হলাম । আমার বর মনে হয় আজ শ্বশুড়বাড়িতে যাবে বলে পারফিউম আর বডি স্প্রে দিয়ে গোসল দিয়েছে । নীল কালারের পাঞ্জাবি, জিন্সের প্যান্ট, চোখে কালো চশমা, হাতে ঘড়ি সব মিলিয়ে সেই রকম ভাব । আরও একটু ভাব নিতে পারতো । কিন্তু পারনি, কারন আমি জোর করে হেলমেট পড়িয়ে দিয়েছি । পর্দা কি শুধু আমি করবো । তাকে করতে হবে না । তার দিকেও তো মেয়েরা তাকিয়ে থাকতে পারে । সাহিল অবশ্য বলছে, আমি নাকি হিংসা করে ওকে হেলমেট পড়িয়েছি । আমার চেয়ে ওকে নাকি বেশি সুন্দর লাগছে । মনে মনে বলি,আমার আপাদমস্তক কালো আবায়তে কি বুঝা যাবে । আমি আপা নাকি চাচী আম্মা । ❤️ 😂 😮 😢
আমাদের বাইক চলতে চলতে আমরা তিন ভাগের দুভাগ রাস্তা চলে এসেছি । হঠাৎ রাস্তার মাঝে এক পিচ্চি দৌড়ে চলে আসলো । সাহিল পিচ্চিটাকে বাঁচাতে বাইকে হার্ডব্রেক করলো । তারপর আমার দুজন,,,, ❤️ 😂 😮 😢
♥ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
চলবে,,,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢
🎁🎁🎁 ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢