বিয়ে_পাগলের_গল্প : ❤️ 😂 😮 😢
বৈধ_ভালবাসা ❤️ 😂 😮 😢
পর্ব : ৩৭ ❤️ 😂 😮 😢
গল্পকার : গল্প_বুড়ি_তিলোত্তমা ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
বাড়ির সবার থেকে বিদায় নিয়ে আমরা বের হব । তখন তুষার সাহিলের কাছে বায়না ধরলো । আম্মু ওরা যখন ওমরাহ করতে যাবে । তখন আম্মু ওরা না আসা পর্যন্ত যেন আমাকে এখানে থাকতে দেয় । মনে মনে বলি, এ তো আরও সম্ভব হবে না । কারণ আম্মু ওরা একদম রোজার লাস্টে যাবে। আর মনে হয় ঈদের কয়েকদিন পর ফিরবে । আমি শ্বশুড়বাড়ির একমাত্র বউ । আমারও তো তাদের প্রতি দায়িত্ব আছে । প্রথম ঈদ কি শ্বশুরবাড়ি ছাড়া বাবার বাড়ি করা যাবে । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল চুপ করে আছে । আসলে ও বা আন্দাজে কি বলবে । ❤️ 😂 😮 😢
আম্মু বলল, তখনকার ব্যাপার তখন বুঝা যাবে । ভাই আমার অসহায়ের মত তাকিয়ে রইল। বাড়তি আর কোন কথা বললো না । ও হয়তবা আস্তে আস্তে বুঝবে যে, আপু উপর আর আগের মত অধিকার খাটানো যাবে না । আমি তুষারের গালে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম, মন খারাপ করিস না ভাই । ❤️ 😂 😮 😢
বাইকে উঠার আগে আম্মু আমাদের অনেক সাবধান করে দিলেন আর অনেক দোয়া দরুদ পড়তে বললেন। আর নিজেও অনেক দোয়া দরুদ পড়ে দিলেন । আজ সবার মাঝে পিনপিন নিরবতা । সবার কষ্টে বুক ভেসে যাচ্ছে কিন্তু কেউ প্রকাশ করছে না । আমরাও আল্লাহর নাম নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম । আমার চোখের পানি গড়িয়ে গড়িয়ে নেকাবের নিচে পড়ছে । জানিনা কেন এত কষ্ট হয় বিদায় বেলায় । তা ক্ষনস্থায়ী হোক বা চিরস্থায়ী । আর আমাদের মেয়েদের জীবনে তো ক্ষণস্থায়ী বিদায় বেলা যেন, আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে আছে । যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন এভাবেই বাবারবাড়ি ছেড়ে শ্বশুড়বাড়ি যেতে চোখের জল বিসর্জন দিতেই হবে । ❤️ 😂 😮 😢
আজ সাহিল আরও কেয়ারফুলি বাইক চালাচ্ছে । আজ আরও বাইকে ব্যাগপত্রের লোড বেশি । সবাই না করলো বাইকে না যাওয়ার জন্য । কিন্তু আসলে যারা বাইকে চলাচল করে অভ্যস্থ । তারা অন্যান্য গাড়ী অধৈর্য্য হয়ে যায় । ❤️ 😂 😮 😢
মাগরিবের আযানের আগেই বাসায় পৌছালাম । ব্যাগপত্র রেখে আগে নানাজ্বীর রুমে গেলাম । নানাজ্বীকে সালাম দিয়ে তার পাশে বসলাম। নানাজ্বী দেখছি বেশ নরম হয়ে গিয়েছে । নানাজ্বী সাহিলকে ধরে কান্না করে দিল । আর বলল যে, জানিনা মরার পর আল্লহ তোর হাতের মাটি আমার ভাগ্যে রাখছে কি না ? ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল নানাজ্বীকে আসস্থ্য করলো যে, সে যেখানেই থাক। আল্লহ যদি চায় সে আসবে । নানাজ্বী সাহিলের হাতে একটা ডায়রী দিল। আর সবাইকে ওসীয়তের উদ্দেশ্য করে বলল, ❤️ 😂 😮 😢
সবাই যেন তার জন্য দোয়া করে যে, আল্লহ যেন তাকে ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করেন । আর আমরা কেউ জানি তার মৃত্যুর পর কান্নাকাটি না করি । আর সাহিলকে উদ্দেশ্য করে বলল, ভাই যদি তুই দূরে থাকিস । তবে তোর জন্য আমার লাশকে অপেক্ষায় রাখতে বলিস না । আমার যেন ওরা তাড়াতাড়ি দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে । ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী খুব ভাল একটা ওসীয়ত করলো সবাইকে । কারণ ওসীয়ত করার পর যদি কেউ তার বলা কথাগুলো না রাখে । তবে সে দায় তার হবে না । যারা ওয়াদা পালন না করতে পারবে দায়টা তাদের । ❤️ 😂 😮 😢
মাগরিবের আযান পড়লো । নানাজ্বী আজকাল আর মসজিদে নামায পড়তে যেতে পারেনা । ঘরে বসে বসে নামায আদায় করে । সাহিল বাবার সাথে মসজিদে গেল । আমি জানি আজ সাহিলের বেশ খারাপ লাগবে । কারণ সাহিল ছোট থেকে এ যাবত দাদার হাত ধরেই মসজিদে গিয়েছে । ❤️ 😂 😮 😢
আমি নামায পড়ে খাবার গরম করে নানাজ্বীকে হালকা খাওয়ালাম । সত্যি মানুষের কোন গ্যারান্টি নেই । যাওয়ার দিনও মানুষটা কতটা সুস্থ সাবলীল দেখলাম । আর আজকেই কতটা নরম আর দুর্বল হয়ে পড়ছে । সাহিল আর বাবা নামায পড়ে এসে নানাজ্বীর পাশে বসলো । নানাজ্বী সাহিল আর বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল, ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী ঃ কয়দিন পর রোযা আইসা পড়বো । আমার শরীরডা বেশি ভালা না আর বয়সও কত হইলো আমার । আর এহনকার দিনও অনেক বড় । সব মিলায়া আমার মনে হয় না এবারের রোযা আমি করবার পারুম না। তোরা এক কাম কর কাউরে দিয়া আমার জন্য ফিদিয়া দেয়ার ব্যবস্থা কর । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল ঃ দাদা ফিদিয়া কি ? ❤️ 😂 😮 😢
বাবা ঃ ফিদিয়া হচ্ছে, কোন ব্যক্তি যদি বয়োবৃদ্ধ বা অসুস্থ হওয়ার কারণে রামাযানের রোযা রাখতে না পারেন এবং ভবিষ্যতেও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে ফিদিয়া প্রদান করবে। অর্থাৎ প্রতিটি রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করবে। ❤️ 😂 😮 😢
●● আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ---“ ❤️ 😂 😮 😢
আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্যদান করবে।” (সূরা বাকারা: ১৮৪)। ❤️ 😂 😮 😢
●▪এই আয়াতের তাফসীর হলঃ কোনো ব্যক্তি যদি অতিরিক্ত বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে অথবা শয্যাশায়ী রোগে আক্রান্ত হয়ে যাওয়ার কারণে রোজা রাখতে সক্ষম না হন, অর্থাৎঃ এমনভাবে অসুস্থ হয়েছে যে, এই রোগ থেকে আর মুক্তি পাওয়ার আর সম্ভাবনা দেখা যায় না বা প্রায় মৃত্যু পথযাত্রী। তাহলে এধরণের লোকের ক্ষেত্রে ফিদিয়া দিতে হবে। আর তা হল, একটা রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে দু'বেলা খাদ্যদ্রব্য প্রদান বা সমমূল্য পরিশোধ করা । টাকা প্রদান করে দিলে তা সঠিক হবে না । কারণ বিভিন্ন ফকীহগণ বলেছেন, আল্লহ যেহেতু খাদ্য দানের কথা উল্লেখ করেছেন । তবে এটাই আমাদের জন্য উত্তম হবে । ❤️ 😂 😮 😢
★★★ ❤️ 😂 😮 😢
▪▪কিন্তু কারও যদি খাদ্য প্রদান করার ক্ষমতাও না থাকলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা তার জন্য রহিত হয়ে যাবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা বান্দার প্রতি সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। ●● এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেনঃ لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا -----“আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত কোন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)। ▪▪তিনি আরও বলেনঃ فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ -----“অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যতটুকু তোমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে।” (সূরা তাগাবুন: ১৬)। ■■ তবে ভবিষ্যতে যদি ফিদিয়া প্রদানের সামর্থ হয় তাহলে তখন তা আদায় করতে হবে। ▪▪আল্লাহু আ'লাম। ❤️ 😂 😮 😢
★★★ ❤️ 😂 😮 😢
সত্যি আল্লহ রহমানুর রহীম। তিনি তার বান্দাদের জন্য সব রকমের উপায় করে রাখছেন । যাতে করে তার বান্দাদের কোন প্রকার কষ্ট হয় । তারপরও আমরা আল্লহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি না । আমি এ সম্পর্কে জানতাম না । আজকেই প্রথম জানলাম । সাহিলদের বাবা চাচাদের মধ্যে বাবাই বেশি জানা শোনা । ওনি নাকি ১২ পারা পর্যন্ত কোরআন মুখস্ত করছেন । তারপর নানাজ্বী অসুস্থ হওয়ায় বাবাকে বাড়িতে চলে আসতে হয়েছিল । এজন্য সে হেফজো কমপ্লিট করতে পারে নাই । কিন্তু বাবার হাদীস কোরআনের উপর বেশ জ্ঞান । শুধু আমার বরটা এই পরিবারে থেকে আমড়া কাঠের ঢেঁকি হইছে । আসলে ছোট বেলায় আদরে বাদর আর বড় হয়ে তো শুধু দূরে দূরে থাকছে পড়াশোনার জন্য । এজন্য তেমন ইসলামিক জ্ঞান সাহিলের নেই । কিন্তু মাশআল্লহ এখন জ্ঞানার্জনের জন্য চেষ্টা করছে । ❤️ 😂 😮 😢
নানীমা বলল, পাশের বাড়ির এক লোক আছে তাদের নাকি পারিবারিক অবস্থা খুব খারাপ । তাকে দিতে বলল । লোকটা নাকি পাঁচ ওয়াক্ত নাযায পড়ে আর তার জানা মতে মানুষ হিসেবেও ভাল। কোন একটা এক্সিডেন্টে নাকি লোকটার পা ভেঙ্গে গিয়েছে । এজন্য নাকি এখন তেমন কাজ কর্ম করতে পারে না । এজন্য পারিবারিকভাবে একটু কষ্টে আছে । ❤️ 😂 😮 😢
আমি নানীমাকে বললাম,,, ❤️ 😂 😮 😢
আমি ঃ তবে তার চেয়ে আর উত্তম কে হয় । কারণ তার প্রতিবেশী হিসাবে আমাদের উপর হক আছে । এজন্য মনে হয় সেই ভাল হবে । ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী ঃ তুমি কি আজগরের কথা কও নাকি ? ❤️ 😂 😮 😢
নানীমা ঃ হ ওর কতাই কই । তুমি তো ওর সমন্ধে ভালা কইরাই জানো । ❤️ 😂 😮 😢
বাবা ঃ হুম মা তুমি ঠিক বলছো । কারণ একটা কথা আছে না,,, ❤️ 😂 😮 😢
দ্বীন দেইখা দান কর ❤️ 😂 😮 😢
যারে তারে দিয়া তো আব্বার ফিদিয়া করানো যাবেনা । আজগর ভাই ঠিক আছে । এখন বাকিটা আল্লহ ভরসা । ❤️ 😂 😮 😢
কয়েকদিন কেটে গেল । নানাজ্বীর শরীর মনে হচ্ছে দিনদিন দুর্বল আর নরম হয়ে যাচ্ছে । হাটা চলা করতে পারে কিন্তু আগের মত না। এদিকে সাহিলের ছুটিও শেষের দিকে । জানিনা আল্লহ কপালে কি রাখছে ? ❤️ 😂 😮 😢
আজ আমাদের বাড়ি থেকে সবাই নানাজ্বীকে দেখতে আসতেছে । এজন্য আজ কাজের চাপ একটু বেশি । আর যে গরম পড়ছে । গরমে তো জীবন শেষ । সাহিল আর সায়লা মিলে সব রুমগুলো গুছিয়েছে । আমি আর মা মিলে রান্না করছি । আজকাল বাসায় মেহমান লেগেই আছে । কত দূরদূরান্তর থেকে লোকজন আত্মীয় স্বজনরা নানাজ্বীকে দেখতে আসতেছে । তাদের আদর আপ্যায়ন করতে গিয়ে নানাজ্বীর পাশে দু দন্ড বসতে পারছিনা । যাক তবুও আলহামদুলিল্লাহ । নিশ্চয় এর মাঝে অনেক কল্যাণ আছে । ❤️ 😂 😮 😢
মেহমান আসে আল্লহর রহমত থেকে । আল্লহ তায়ালা মানুষকে ৩টি রহমতের জিনিস দান করেন । আর এই ৩ জিনিষ অধিকাংশ মানুষের অপছন্দনীয় । ❤️ 😂 😮 😢
★কন্যা সন্তান ❤️ 😂 😮 😢
★ইষ্টি (মেহমান) আর ❤️ 😂 😮 😢
★বৃষ্টি ❤️ 😂 😮 😢
আমি আর মা রান্নাঘরে কাজ করছি । মা চুলায় পোলাও বসিয়েছে । আমি এই ফাঁকে বাসনকোসন সব ধুয়ে নিচ্ছি । হঠাৎ নানাজ্বীর ঘর থেকে জোরে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে । কান্নার শব্দ শুনে আমার হাত থেকে বাসন পরে গেল । আমি আর মা দৌড়ে নানাজ্বীর রুমে গেলাম । গিয়ে তো আমি আর মা হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলাম,,, ❤️ 😂 😮 😢
♥ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
চলবে,,,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢