বিয়ে_পাগলের_গল্প : ❤️ 😂 😮 😢
বৈধ_ভালবাসা ❤️ 😂 😮 😢
পর্ব : ৩৮ ❤️ 😂 😮 😢
গল্পকার : গল্প_বুড়ি_তিলোত্তমা ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
হঠাৎ নানাজ্বীর ঘর থেকে জোরে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে । কান্নার শব্দ শুনে আমার হাত থেকে বাসন পরে গেল । আমি আর মা দৌড়ে নানাজ্বীর রুমে গেলাম । গিয়ে তো আমি আর মা হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলাম । একজন মহিলা খুব জোরে জোরে ""ওরে আমার ভাই গো """ বলে বিলাপ করে কাঁদছে । আর নানাজ্বী আর নানীমা তার কান্না থামানোর চেষ্টা করছে । অবশেষে নানাজ্বীর ধমক খেয়ে মহিলা কান্না থামালো। আমি আর মা তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । আমরা মনে করছি নানাজ্বীর কিছু হইছে । যাক আলহামদুলিল্লাহ নানাজ্বী ঠিক আছে । আমি মাকে জিজ্ঞেস করলাম ওনি কে ? মা উত্তরে বললেন, ওনি নাকি নানাজ্বীর খালাতো বোন হয়। ❤️ 😂 😮 😢
ঘরের কান্না থামতে না থামতেই বাহিরে কান্নার শব্দ । জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি আমার নানু জোরে জোরে কাঁদছে । আর আম্মু মামী ওরাও কাঁদছে । আর আমাদের উঠান ভর্তি মানুষ । সবাই জিজ্ঞেস করছে কখন এমন হল ? সাহিল বলল, কি কখন হল ? পরে বুঝতে পারছে নানাজ্বীর কথা বলছে । তারপর সাহিল তাদের আসস্থ্য করলো নানাজ্বী ভাল আছেন । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল আর সায়লা গিয়ে নানুকে ঘরে নিয়ে আসলো । নানু এসে নানাজ্বীকে দেখেই আরও কান্না করছে । এখন দেখছি নানু আর নানুর খালাতো বোন মিলে মরা কান্না জুরে দিয়েছে । নানাজ্বী এমনিতেই অসুস্থ । আর এদের কার্যকলাপ দেখে আরও অসুস্থ হচ্ছে । আম্মু আর মামা রাগ করে নানুকে থামতে বললেন । অনেকক্ষণ থেকে কান্না থামাতে বলছে । আর এরা থামার নাম নিচ্ছে না । অবশেষে এদের কান্না থামলো । ❤️ 😂 😮 😢
আমি আম্মুকে পরে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম । কে নাকি রাস্তায় বলছে, নানাজ্বী আর বেঁচে নাই । সাহিল বলছে, ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল ঃ মানুষ বলবে না কেন ? দাদার খালাতো বোন যেভাবে কান্না করা শুরু করছিল । তাতে তো বলবেই । আমি তো নিজেই চমকে গিয়েছিলাম । ❤️ 😂 😮 😢
তুষার ঃ আপু ভাইয়া আমার মনে হয় এখন মসজিদের মাইকে ব্রিফিং দিতে হবে নানাজ্বী বেঁচে আছে । তা না হলে এটিএম শামসুজ্জামানের মত গুজব ছড়িয়ে যাবে । ❤️ 😂 😮 😢
আম্মু ঃ থাপ্পড় খাবি । এই সব বিষয় নিয়ে কেউ মজা করে । ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা ঃ ফুপু আজ যা হল । তা তো নাটক সিনেমাকেও হার মানাবে । আর এরা দুজন যে কান্না শুরু করছিল । দাদা মরে গিয়ে আবার উঠে বসতো এদের কান্না থামানোর জন্য । ❤️ 😂 😮 😢
আমি ঃ হইছে এবার থামেন আপনারা । ❤️ 😂 😮 😢
আমি নানাজ্বীর রুমে সবাইকে শরবত সার্ব করলাম । নানাজ্বী দেখছি রাগ করে সবাইকে বলছে, ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী ঃ তোরা দুইজন আমারে আইজকা দেইখা গিলি ঠিক আছে । আমি মরলে তোরা আইবি না । তোগরে মরা কান্দনের জন্য আমি মরা মানুষ হইয়া কষ্ট পামু । তার দরকার নাই আমার । যদি নিজে গো সবুর দিবার পারস তাহলে আসবি । না হইলে আসবি না । ধৈর্য্যের গুষ্টি নাই । তিনকালের দুই কাল গেল এহনও তোগরে বুদ্ধি হইলো না । ❤️ 😂 😮 😢
নানীমা ঃ হইছে এহন চুপ যাও । এই শরীরে আর রাগ কইরো না । যোহরের আযান দিছে । তায়াম্মুম করে নামায পড় । ❤️ 😂 😮 😢
নানু ঃ ভাইজান আপনে আর রাগ করিয়েন না । আমি আর কান্দাকাটি করমু না । ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী ঃ হ মনে থাকে যেন । তোমাগো সকলেরে একখান কথা কই । আমি মরার পর আমারে নিয়া যেন কোন বিদাআতি কার্যকোলাপ না হয় । ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী,সব সময় তার ঈমান আমলের বেলায় অটল থাকার চেষ্টা করে । তিনি আগের মানুষ হলেও ইসলামের সঠিক দিক নিদের্শনাগুলো ঠিকি মেনে চলেন । আল্লহর রহমতে যদি সাহিলের ও একটু সুবুদ্ধি হত । তবে অনেক ভাল হত । ❤️ 😂 😮 😢
আম্মু আমাকে বলছে তাদের নাকি পাসপোর্ট কমপ্লিট । এখন শুধু ভিসার জন্য অপেক্ষা । আল্লহ যদি চায় আগামী মাসের ২৭-২৮ তারিখের মধ্যে যাওয়া হবে ইংশাআল্লহ । এখন শুধু আম্মু এক ভয় পাচ্ছে নানাজ্বীর কি হয় না হয় ? আম্মুদের দেখার ভাগ্য হবে কি না । ❤️ 😂 😮 😢
দুপুরে আমি নানাজ্বীকে খাইয়ে দিতে গিয়েছি । তখন নানাজ্বী আমাকে বলছে,, ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী ঃ বুবু গো আমার ভাগ্যে মনে হয়, তোগোরে পোলাপান দেখার ভাগ্যে নাই । যদি শুইনা যাইতাম তোগরে কিছু হইবো । তবুও শান্তি পাইতাম । ❤️ 😂 😮 😢
হঠাৎ এর মাঝে আমার বর এসে হাজির । আমার তো ভিষণ লজ্জা লাগছে । নানাজ্বী কি বলে না বলে । এখন আমার বর শুরু করলো,,, ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল ঃ ইংশাআল্লহ " দাদা তোমার কিছু হবে না । আর এত তাড়াতাড়ি আমি পোলাপান দিয়ে করব ? দাদা তুমি বল, আমাকে কি এখন পোলাপানের বাপ হিসাবে মানাবে । ❤️ 😂 😮 😢
আমি মনে মনে বলি, বাচ্চার বাপ না বাচ্চার আঙ্কেল হিসাবে মানাবে । নিজেকে মনে হয় ১২ বছরের নাবালক বাচ্চা মনে করে । দিনদিন মনে হয় বয়স কমতেছে । ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্বী ঃ ভাইরে তোর বয়সে আমি ৪ বাচ্চার বাপ হইছিলাম । বাপ হইলে মানাইতে হয় না । একাই মানাইয়া যায় । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল ঃ ঠিক আছে দাদা আমি তোমার কথা ভেবে চিন্তে দেখবো । ❤️ 😂 😮 😢
নানাজ্ব ঃ হ ভাই এহনি ভাব । ভাইরে সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড় । ❤️ 😂 😮 😢
আমি নানাজ্বীকে খাইয়ে চলে এলাম । দুজন দাদা নাতি কি কি আজাইরা প্যাঁচাল পারবে । তার মাঝে আমার না থাকাই ভাল । আমি ডাইনিং এ এসে সবাইকে খাবার দিলাম । নানু আর নানীমা নানাজ্বীর রুমে গিয়ে বসলো । আমার শ্বাশুরি মা সবাইকে বলছে, আজকের রান্না আমি করেছি । এই শুনে তুষার বলছে, তাহলে নাকি আজ খাবারের ১২ টা বাজবে । আম্মু আর মামা তুষারকে ধমক দিল । আমারও মনে মনে ভয় লাগছে । আমি এর আগে এত রান্না কখনও করিনি । আর আজকেই প্রথম গরুর মাংস আর রোস্ট রান্না করছি । ডিমের কোর্মা আর পায়েস অবশ্য এর আগে কয়েকবার রান্না করছিলাম । সবাই ভালই বলছিল। আজ কি বলবে আল্লহ জানে । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল আর তুষার খাবার খাচ্ছে আর আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে । ওদের চোরা মার্কা হাসি দেখে আমার কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে । এতগুলা মানুষ খেতে বসছে । রান্না ভাল না হলে তো তৃপ্তি করে খেতে পারবে না । সবাই শুধু চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে । কেউ কিছুই বলছে না । মা আমার দিকে তাকিয়ে দেখছে । আমি ভয়ে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছি । এজন্য মা সবার উদ্দেশ্য করে বলল,, ❤️ 😂 😮 😢
মা ঃ কি আমার ছেলের বৌ কেমন রান্না করছে ? সবাই তো খাচ্ছে, কেউ কিছু বলছে না । মেয়েটা তো ভয়েই শেষ । ❤️ 😂 😮 😢
বাবা ঃ না না ভয় পাওয়া কিছু নেই । রান্না কিন্তু বেশ ভাল হয়েছে । বিশেষ করে গরুর মাংসটা খুব ভাল। ❤️ 😂 😮 😢
মামা ঃ মিষ্টিরে আমার শ্বাশুড়ি তো বুড়া হয়েছে। ভাবছি তোরে আবার নতুন করে শ্বাশুড়ি বানাবো । তোর মেয়ে হলে কিন্তু আমাকেই জামাই করবি । তাহলে তোর হাতের ভাল ভাল রান্না খেতে পারবো । কি বল তোমরা ? ❤️ 😂 😮 😢
মামার কথা শুনে সবাই হাসছে । আমি লজ্জা পেয়ে চুপটি করে দাড়িয়ে আছি । মামা কথা শুনে মামী হেসে বলল,, ❤️ 😂 😮 😢
মামী ঃ হুম খুব ভাল হবে । আমি যা না করতে পারছি । তা মিষ্টির মেয়ে করে দেখাবে। তোমার চুল দাড়ি যা আছে সব একটা একটা করে টেনে ছিড়বে । ❤️ 😂 😮 😢
আম্মু ঃ আশা তা যা বলছিস । এখনকার বাচ্চারা যে পাকনা । ❤️ 😂 😮 😢
তুষার ঃ মামা বুড়া জামাইয়ের কাছে কিন্তু আমার ভাগ্নী দিব না । এজন্য আমাকে সব সময় তেল দিয়া চলবা বুঝলা । তবেই তোমার কপাল খুলতে ও পারে । ❤️ 😂 😮 😢
মামা ঃ কি বলিস আমি বুড়া । বুড়া তো হবে তোর শ্বশুর । হা হা হা ❤️ 😂 😮 😢
মামী ঃ হুম তুমি তো বুড়া হয়নি । মিষ্টির মেয়ের জন্য তো তোমার বয়স ২১ শে আটকে আছে । ❤️ 😂 😮 😢
মা ঃ তরিক ভাই চিন্তা করিয়েন না । আমার নাতিন আপনাকেই দিব । ❤️ 😂 😮 😢
সায়লা ঃ দাদাই বৌমনির মেয়ে হইলো না । তার আগেই তোমারা যা শুরু করছো । বেচারী তো দুনিয়ায় আসতেই ভয় পাবে । ❤️ 😂 😮 😢
সবার এসব কথা শুনে আমার তো লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে । সাহিল তো আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে । সবাই কেমন জানি । সব সময় খালি বাচ্চাকাচ্চার প্যাঁচাল । ❤️ 😂 😮 😢
আজ খাবার টেবিলে বেশ ভালই আড্ডা জমছে । সবাই মিলে একবারে আষাঢ়ের গল্প শুরু করছে । সত্যি বলতে খাবার টেবিল আর চা স্টোল বাঙ্গালির জাতীয় পার্লামেন্ট । এই দু জায়গায় পারিবারিক থেকে রাজনৈতিক সব ধরনের আলোচনা সমালোচনা এখানে চলে । ❤️ 😂 😮 😢
খাবার শেষে আমি সবাইকে পায়েস দিলাম । কারণ খাবার শেষে মিষ্টি খাওয়া সুন্নত । বাঙ্গালী খাবারের আর সব সুন্নত না মানলেও, এই সুন্নত মানার খুব চেষ্টা করে । সবাই মিলে পায়েস রান্নার খুব বেশি প্রশংসা করছে । মনে মনে বলি, এটা আমার আম্মুর স্পেশাল রেসিপি । ভাল না হয়ে যাবে কোথায়। সাহিল দেখছি খুব মজা করে পায়েস খাচ্ছে । মিষ্টি খাবার পছন্দ না তারপরও খাচ্ছে । ❤️ 😂 😮 😢
সবাই খাবার শেষ করে চলে গেল । তারপর আমি মা আর আম্মু মিলে খাবার খেলাম । আজ একটা জিনিস টের পেয়েছি । নিজে রান্না করলে খাবার সময় মনে হয় পেট ভরে আসে। খেতে ইচ্ছে করে না । এজন্য মনে হয় মায়েরা কম খাবার খায় । ❤️ 😂 😮 😢
আজ সারাটাদিন বেশ ভাল লাগলো । শ্বশুরবাড়ি আর বাবারবাড়ির মানুষের সাথে এক সাথে সময় কাটিয়ে । নানাজ্বী বেশ ভালই আছেন । আসলে নানাজ্বীর মূল সমস্যা হচ্ছে, শ্বাসকষ্ট । যা যখন তখন বেড়ে যায় । এর আগে ইনহিলার ব্যবহার করে আল্লহর রহমতে ভাল থাকতেন। কিন্তু আজ কাল ইনহিলারে বেশি কাজ করছে না । ❤️ 😂 😮 😢
আম্মু মামা ওরা সবাই বিদায় নিয়ে চলে গেল । শুধু আমার নানু থেকে গেল । তুষারের থাকার ইচ্ছা ছিল । কিন্তু ওর স্কুল কোচিং, প্রাইভেটের কারণে আম্মু ওকে থাকতে দেয়নি । আমিও এজন্য জোর করিনি। সামনে রমযান , তখন তো রোযা রেখেই অস্থির হবে। পড়াশোনা তো বেশি করতেই পারবে না । ভাইটা আমার ভোজন রসিক হলেও রোযা রাখার উপর ছোটবেলা থেকেই খুব আগ্রহ । ❤️ 😂 😮 😢
রাতের বেলা সব কাজ ফেলে রেখে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়লাম । আজ বড্ড ক্লান্ত লাগছে । এজন্য রাতের খাবার খেতেও ইচ্ছে করছে না । আজ সারাদিন শরীরের উপর খুব ধকল গিয়েছে । কয়েকদিন যাবত কেমন জানি লাগছে । শরীরটা জ্বর জ্বর লাগে। সাহিল আমার পাশে বসে কপালে হাত রাখলো । ওর ঠান্ডা হাতটা বেশ ভাল লাগছে । আমি একটু পর ওঠে বসলাম । সাহিলের আজকাল খুব মন খারাপ থাকে । একে তো নানাজ্বীর শরীর ভাল না । আবার ওর ছুটি শেষ । কাল বিকালেই সাহিলকে ঢাকা ফিরতে হবে । আমি সাহিলের হাতটা চেপে ধরে বললাম,,, ❤️ 😂 😮 😢
----- কি হয়েছে গো ? তোমাকে এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন ? ❤️ 😂 😮 😢
------ ভাল লাগে না । সময়গুলো কখন শেষ হল টের পেলাম না । কাল যেতে হবে বলেই, বুকের ভিতর কেমন জানি করছে । ❤️ 😂 😮 😢
----- সময় তো সময়ের গতিতেই যায় মন খারাপ করে কি হবে বল । ছুটি পেলে আবার চলে আসবে । ❤️ 😂 😮 😢
------ হুম, খুব সহজেই তো কথাটা বললে । এবার ঈদের আগে আর ছুটি দিচ্ছে না । আর আমি জানি আমি চলে গেল তুমি খুব খুশি হও । তোমাকে দিনরাত আর কেউ জ্বালাতে আসবে না । ❤️ 😂 😮 😢
আমি খুব নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে সাহিলের অভিমান করা মুখখানা দেখছি আর মনে মনে হাসছি । মনে মনে বলি, তোমাকে কি করে বুঝাবো, তুমি ছাড়া আমি যে শূণ্য । তোমার যতটুকু বিরহ বিয়োজন আছে । আমার ও ততটুকু আছে । শুধু তুমি প্রকাশ করছো আর আমি করছি না । ❤️ 😂 😮 😢
----- কি হল চুপ করে আছো কেন ? না এখন রাগ করে কথাই বলবে না । ❤️ 😂 😮 😢
----- না, কি আর বলবো বল ? আমার যা বলার তা তো তুমি বলে দিলা । ❤️ 😂 😮 😢
----- থাক , আজ আর অভিমান কর না । কাল তো চলেই যাব । ❤️ 😂 😮 😢
----- জানি তো কাল চলে যাবে । এত বার বার মনে করিয়ে আর কষ্ট কেন বাড়াচ্ছ, বল তো ? ❤️ 😂 😮 😢
----- এই শোন তো খাবার খেয়ে নাও । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল দেখছি প্লেটে করে খাবার নিয়ে আসছে । এই বাড়িতে দুজনের এক সাথে খাবার খাওয়া হয় বললেই চলে । কারণ বেশির ভাগ সময় আমি আর মা একসাথে খাবার খাই । আর সাহিলতো বেশি সময় বাবা আর নানাজ্বীর সাথে খাবার খায়। আমার বরটা মনে হয় আজ আর বাবার সাথে খাবার খায়নি। সাহিল আমাকে খুব যত্নের সাথে খাইয়ে দিচ্ছে । আর আমিও ওকে খাইয়ে দিচ্ছি । শুধু স্বামী স্ত্রী বলতে পারবে । এই খাবার খাইয়ে দেয়ার মাঝে যে কত গভীর ভালবাসা লুকিয়ে আছে । আমার বরটা এমনি মিষ্টি খাবার পছন্দ করে না । আজ দেখছি সে বারবার পায়েস খাচ্ছে । সায়লা তো বলেই দিল, বৌয়ের হাতের পায়েস বলে, আজ খেতে না ডায়াবেটিস বানিয়ে ফেলে । ❤️ 😂 😮 😢
সকালবেলায় দেখছি সাহিল তার সব কিছু গুছিয়ে নিচ্ছে । আমি বারবার গুছিয়ে দিতে চাইলাম । কিন্তু আমাকে গোছাতে দিল না । কাল রাত থেকেই কেন জানি সব শূণ্য শূন্য লাগছে । জানিনা আজ সাহিল চলে যাবার পর কি করব । আর ও যাবার সময় কি করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিবে । সাহিলের যাওয়ার কথা শুনো নানাজ্বী আরও ভেঙ্গে পড়ছে । জানিনা এই বুড়ো মানুষ কি করে নিজেকে সামলে নিবে । ❤️ 😂 😮 😢
সাহিল আমাকে কাছে বসিয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে অনেক কথা বললো । যা আমার জানা দরকার আছে । কারণ আমি তো ওদের বাড়ির মানুষ সম্পর্কে খুব একটা জানি না । সাহিল আমাকে বিশেষ করে নানাজ্বীর দিকে বেশি খেয়াল রাখতে বললো । আর বলল, নানাজ্বী যাই হোক না কেন । ওকে যেন সব জানানো হয় । ❤️ 😂 😮 😢
আসরের নামায পড়ে সাহিল রেডি হচ্ছে । আমি ওর অন্যান্য ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিষগুলো সামনে গুছিয়ে রাখছি । আর মনে মনে নিজের মনকে শক্ত করে গড়ার জন্য চেষ্টা করছি । যাতে ও যাবার সময় যেন আমার কান্না না আসে । সাহিল সব গুছিয়ে নানাজ্বীর রুমে গেল বিদায় নেয়ার জন্য । নানাজ্বী সাহিলকে দেখে,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
♦ ❤️ 😂 😮 😢
চলবে,,,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢
কমেন্ট করে জানাবেন কেমন লাগলো ❤️ 😂 😮 😢