বিয়ে পাগলের গল্প ( বৈধ ভালোবাসা )

#বিয়ে_পাগলের_গল্প : ❤️ 😂 😮 😢

#বৈধ_ভালবাসা ❤️ 😂 😮 😢

#পর্ব: ৪৯ ❤️ 😂 😮 😢

#গল্প_বুড়ি_তিলোত্তমা (#মিষ্টি) ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সাহিল চলে গেল । ওযূ করে নানাজ্বীর রুমে গিয়ে দেখি সবাই নানাজ্বীর রুমে বসে আছে। নানাজ্বীর শারীরিক অবস্থা খুবই নাজেহাল । সবাই নানাজ্বীর পাশে বসে দোয়া কালেমা পড়ছেন । নানাজ্বী বারবার পানি খাচ্ছেন । তার অবস্থা দেখে বুঝা যাচ্ছে তার মৃত্যুর আলামত শুরু হয়েছে। আমরা এভাবে নানাজ্বীকে নিয়ে বসে আছি আর দোয়া কালেমা পড়ছি। এদিকে সেহরির সময়ও হয়ে গিয়েছে । হঠাৎ আমার কানে আযানের শব্দ ভেসে আসলো । আমি তো অবাক হয়ে রয়ে গেলাম । এখনও তো ফযরের আযানের জন্য অনেক সময় বাকি । বাবা আমাদের বললেন, তোমরা অল্প পরিমানে সেহরী খেয়ে নাও । কেননা রাসূল সাঃ বলছেন, ❤️ 😂 😮 😢

★আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ ❤️ 😂 😮 😢

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ‘সাহরী’ খাও। সাহরীতে অবশ্যই বারাকাত আছে। ❤️ 😂 😮 😢

(বুখারী, মুসলিম)[১](মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৯৮২) ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

সারাদিন রোযা রাখতে গেলে সেহরি না খেয়ে রোযা রাখা কষ্ট কর হয়ে যাবে। আমি বাবাকে বললাম তবে মসজিদে ভুল করে আযান দিয়েছে। বাবা বললেন না, এই সুন্নাত নাকি লাবিব এই রমযান থেকে চালু করছে । আর বললেন এই সম্পর্কে পরে বলবেন । আমাদের সবার মনের যে পরিস্থিতি কারও সেহরি খাওয়ার ইচ্ছা নেই । তারপরও সবাই রোযা রাখার জন্য সেহরি খেলাম । আম্মু নানীমাকে দু তিন লোকমা ভাত খাইয়ে দিলেন । ❤️ 😂 😮 😢

কিছুক্ষণ পর ফযরের আযান পড়লো । আমরা এক একজন করে নামায আদায় করলাম । বাবা আর সাহিল আজ বাসায় নামায পড়লো । বাবা নানাজ্বীকে তাইমুম করে ফযরের নামাযের জন্য প্রস্তুত করে দিলেন । নানাজ্বী শুয়ে শুয়ে কোন রকমে নামায আদায় করলেন । আমরা সবাই একটু আওয়াজ করে দোয়া কালেমা পড়ছি । নানাজ্বী দেখছি নিজে নিজে আমাদের দোয়া শুনে দোয়া পড়ছেন । ❤️ 😂 😮 😢

তিনি নিজে নিজে তওবা পড়লেন । ❤️ 😂 😮 😢

রাসূল সাঃ এ ব্যাপারে বলেছেন, ❤️ 😂 😮 😢

★আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ ❤️ 😂 😮 😢

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মৃত্যুপথ যাত্রীকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” তালক্বীন দাও।(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩১১৭) ❤️ 😂 😮 😢

★মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ ❤️ 😂 😮 😢

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যার সর্বশেষ বাক্য হবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ❤️ 😂 😮 😢

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩১১৬) ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আর আমরা মুসলিমরা এখন একটা ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে আছি যে নামায বেহেশতের চাবি । এই কথাটা দুর্বল হাদিস । প্রকৃতপক্ষে এটা সহীহ যে কালেমা বেহেশতের চাবি । আমরা রাসূল সাঃ এই হাদীস দ্বারা প্রমান পেলাম যার সর্বশেষ বাক্য হবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী বারবার শুধু পানি খাচ্ছেন । তার দেহ আস্তে আস্তে নিথর হয়ে আসছে । আমরা সবাই কালিমা পাঠ করছি । কেননা মূমুর্ষ ব্যক্তির কাছে কালিমা পাঠ করলে তার কাছে শয়তান আসতে পারে না । একটা সময় খেয়াল করলাম নানাজ্বীর পেটের কাছে আর নিঃশ্বাস নেই । নিঃশ্বাস শুধু গলার কাছে রয়েছে । তার কিছুক্ষণ বাবা বলল, তোমরা সবাই ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজীউন পড় । কারণ আব্বা আর আমাদের মাঝে আর নেই । আমরা সবাই দোয়া পাঠ করে সেখান থেকে সরে আসলাম । আলহামদুলিল্লাহ আমাদের চোখ থেকে অঝরে পানি পড়ছে । কিন্তু আমরা কেউ চিৎকার করে কাঁদিনি । কেননা চিৎকরে মাতম করে কাঁদা হাদীসে একদম নিষেধ । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

★ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ ❤️ 😂 😮 😢

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের লোকজনের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেয়া হয়। এ কথা ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, এ ধরনের কথা ইবনু ‘উমার কোত্থেকে শুনেছে। একদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ক্ববরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ কবরবাসীর পরিবারের লোকজনের কান্নাকাটির কারণে এ ক্ববরের বাসিন্দাকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। অতঃপর ‘আয়িশাহ এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “একের বোঝা অন্যের উপর চাপানো হবে না" ❤️ 😂 😮 😢

(সূরাহ আল-আন’আমঃ ১৬৪, বনী ইসরাঈলঃ ১৫, ফাত্বিরঃ ১৮, যুমারঃ ৩৯ এবং নাজমঃ ৩৮)। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩১২৯ ❤️ 😂 😮 😢

কান্না করা জায়েজ আছে । সবাই নিরবে চোখের পানি বিসর্জন দিচ্ছে । ❤️ 😂 😮 😢

সে সম্পর্কে রাসূল সাঃ বলেছেন, ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

★উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ ❤️ 😂 😮 😢

রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা (যাইনাব (রাঃ)) তাঁর নিকট লোক পাঠালেন। তখন আমি ও সাদ (রাঃ) তাঁর সাথে ছিলাম। সম্ভবত উবাই (রাঃ) আমাদের সাথেই ছিলেন। তিনি বলে পাঠান, আমার একটি শিশু পুত্র বা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) কন্যা মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি তাকে লোক মারফত সালাম পাঠিয়ে বললেনঃ বলো, আল্লাহ যা গ্রহণ করেন এবং যা দান করেন তা সবই তাঁর। তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুর একটা নির্দিষ্ট সময়কাল আছে। তিনি পুনরায় কসম দিয়ে লোক পাঠালেন। তিনি সেখানে গেলেন। বাচ্চাটি রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোলে রাখা হলো। তখন তার প্রাণ ছটফট করছিল। এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। সা’দ (রাঃ) তাঁকে বললেন, এ কি? তিনি বললেনঃ এটাই হলো মায়া। আল্লাহ যাদেরকে চান তাদের অন্তরে এটি স্থাপন করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়াবানদের দয়া করেন। ❤️ 😂 😮 😢

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩১২৫) ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আমরা নানাজ্বীর জন্য যা দোয়া পাঠ করার তার মৃত্যুর আগেই করেছি । অনেকে বলছে কোরআন খতম দেয়ার কথা । কিন্তু কোন হাদীসে আসেনি যে মৃত ব্যক্তির জন্য কোরআন খতম দিতে হবে। একজন এক রকমের কথা বলছে । সত্যি আমরা কোরআন হাদীস সহীহ ভাবে না জানার কারনে প্রতিনিয়ত ভুল আমল করে যাই । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল আর চাচারা নানাজ্বীর দাফনের জন্য সব জিনিস পত্র কিনতে গেল । এদিকে চুলায় বড়ই পাতা দিয়ে গরম পানি বসানো হল । কেননা মৃত ব্যক্তিকে তাড়াতাড়ি গোসল করানো উচিৎ । কারণ মৃত্যু পর মানুষের শরীর নাপাক হয়ে যায় । এজন্য তাকে তাড়াতাড়ি গোসল করিয়ে পবিত্র করা উচিৎ । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

★কেননা মৃত ব্যক্তিদের প্রতি জীবিতদের কিছু দায়িত্ব ও কতর্ব্য রয়েছে। নিম্নে সেগুলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সংক্ষেপে তুলে ধরা হল: ❤️ 😂 😮 😢

🔹 ১) মৃত্যুর সংবাদ শুনে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন” পাঠ করা এবং ধৈর্য ধারণ করা। ❤️ 😂 😮 😢

🔹 ২) মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া, কাফন, জানাযা এবং দাফন সম্পন্ন করা। ❤️ 😂 😮 😢

🔹 ৩) তার জন্য দুয়া করা। ❤️ 😂 😮 😢

🔹 ৪) তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা। ❤️ 😂 😮 😢

🔹 ৫) তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ বা উমরা আদায় করা। ❤️ 😂 😮 😢

🔹 ৬) তার মানতের রোযা বাকি থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তা পালন করা। আর রামাযানের রোযা বাকি থাকলে প্রত্যেক রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করা। ❤️ 😂 😮 😢

🔹 ৭) সে যদি ঋণ রেখে মারা যায় অথবা কোন সম্পত্তি ওয়াকফ বা ওসিয়ত করে যায় তবে তা প্রাপকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া। ❤️ 😂 😮 😢

🔹 ৮) মহিলার জন্য স্বামী বা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে শোক পালন করা। ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

বাড়িতে মানুষে ভরে গিয়েছে । নানাজ্বী মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলেন তার মৃত্যুর পর যেন মাইকিং করে না জানানো হয় । কারণ এটা করা ইসলামের পরিপন্থী । ❤️ 😂 😮 😢

এজন্য আমাদের বাড়ির কেউ মাইকিং করে নাই । কয়েকটা মসজিদে অবশ্য মাইকিং করছে । কিন্তু তারা নিজে থেকেই করছে । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল ওরা চলে এসেছে । নানাজ্বীকে গোসল করানোর জন্য বাহিরে থেকে মানুষ এসেছিল। কিন্তু নানাজ্বী ওসীয়তে বলছেন তাকে যেন তার তিন ছেলে নাতি আর লাবিব যেন গোসল করান । নানাজ্বীর গোসল ও কাফন সম্পূর্ন করা হল । কাফন পড়ানোর পর আর নানাজ্বীর মুখ খোলা হয়নি । কারণ যার দেখার কাফন পড়ানোর আগেই দেখানো হয়েছে । কারণ কাফন পড়ানোর পর মৃত ব্যক্তির মুখ উন্মোচন ঠিক না । বাড়িতে যে কত রকমের লোক এসেছে। আর এজন্য তাদের যে কত রকমের মন্তব্য তার শেষ নেই । অবশেষে লাবিব রাগ করে সবার উদ্দেশ্যে বলল, বাংলাদেশে মৃত মানুষকে নিয়ে কত রকমের বিদআত যে চলে তা আল্লাহ মালুম । কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী যদি কোন বক্তব্য থাকে তবে বলেন । তা না হলে এসব বাজে কথা বলে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করবেন না । ❤️ 😂 😮 😢

জানাযার নামায পড়ার জন্য নানাজ্বীকে নিয়ে যাওয়া হল । নানাজ্বী নাকি বলে গিয়েছেন বাবা যেন নানাজ্বীর জানাযার নামায পড়েন । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আলহামদুলিল্লাহ সাহিল ওরা সবাই দাফন কাফন সম্পূর্ন করে বাড়িতে চলে এসেছে । নানাজ্বী চেয়েছিল আল্লাহ যেন তার মৃত্যুর পর সব আয়োজন তাড়াতাড়ি করান । আল্লাহ তা ইচ্ছা পূরণ করেছেন । নানাজ্বীর দাফন কাফন সব সুষ্ঠ সুন্দরভাবে তাড়াতাড়ি হয়েছে । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

ভাবতেই অবাক লাগছে কালকে যে বাড়িতে বিয়ের ধুম চলছিল । আজ সে বাড়িতে শোকের ছায়া । হয়তবা এইটুকু আল্লাহ নানাজ্বীর ভাগ্যে রেখেছিলেন । এজন্যই সায়লার বিয়েটা হঠাৎ করে হয়ে গিয়েছে । ❤️ 😂 😮 😢

নানীমা নিস্তব্ধ হয়ে আছেন । আমাদের সবার মাঝে পিনপিন নিরবতা । আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাদের সকলকে যথেষ্ট পরিমান ধৈর্য্য দান করছেন । সাহিল নানীমার পাশে বসতেই নানীমা সাহিলকে জড়িয়ে ধরে নিরবে কেঁদে যাচ্ছেন । সাহিল একদম পাথরের মূর্তির মত হয়ে আছে । আমি ওর চোখে এক ফোঁটাও অশ্রু দেখতে পাইনি । আমি জানি অতি কষ্টে ওর মনটা শক্ত হয়ে আছে । কথায় বলে না, ❤️ 😂 😮 😢

অল্প শোকে কাঁতর ❤️ 😂 😮 😢

আর অধীক শোকে পাথর ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

নানাজ্বী যে সাহিলের জীবনে কি ছিল । তা শুধু সাহিল জানে । ওর বন্ধু ভাই যা ছিল সব নানাজ্বী । কোন দাদা তার নাতিকে এতটা ভালবাসে কিনা তা আমার জানা নেই । ❤️ 😂 😮 😢

এর মাঝে সাহিলদের কিছু আত্মীয় স্বজন এসেছে। তারা তো ভিষণ রাগ । তাদের জন্য কেন নানাজ্বীর লাশ রেখে দেয়া হল না কেন ? মানুষ এটা বুঝেনা তাদের এই একটু দেখার জন্য যে মৃত ব্যক্তিকে রাখা হবে। এতে যে মুত ব্যক্তির কত কষ্ট হবে আমরা তা চিন্তা করিনা । আমরা বাস্তবতার চেয়ে আবেগের গুরুত্ব বেশি দেই । এজন্য কত মৃত ব্যক্তি যে তাদের আত্মীয় স্বজনের আবেগের কাছে বলী হন তা আল্লাহ মালুম । ❤️ 😂 😮 😢

★আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিতঃ ❤️ 😂 😮 😢

তিনি বলেন, তোমরা জানাযা নিয়ে দ্রুতগতিতে চলবে। কেননা, সে যদি পুণ্যবান হয়, তবে এটা উত্তম, যার দিকে তোমরা তাঁকে এগিয়ে দিচ্ছ আর যদি সে অন কিছু হয়, তবে সে একটি আপদ, যাকে তোমরা তোমাদের ঘাড় হতে জলদি নামিয়ে ফেলছ। ❤️ 😂 😮 😢

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৩১৫ ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আজ শুক্রবারের দিন । মসজিদে আযান পড়ছে। জুমার নামাজ পড়তে যেতে হবে । বাবা ওরা সবাই জুমার নামায পড়তে যাচ্ছে । ❤️ 😂 😮 😢

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা অন্যের মৃত্যুর শোক পালন করতে গিয়ে নিজের মৃত্যুর কথা ভুলে যায় । এজন্য তারা নিজের নামায বাদ রেখে শোক পালনে ব্যস্ত থাকে । কিন্তু তারা জানে না নামাযের কত গুরুত্ব । আর জুমার নামাজের গুরুত্ব তো আরও অনেক বেশি । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

★আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ ❤️ 😂 😮 😢

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমু‘আর দিন সর্বোত্তম। এ দিন ‘আদাম (‘আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাঁকে জান্নাতে দাখিল করা হয়েছে এবং এ দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়। (ই.ফা. ১৮৪৬, ই.সে. ১৮৫৩) ❤️ 😂 😮 😢

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৬১ ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল ওরা নামায পড়ে নানাজ্বির কবর দেখতে গিয়েছিল । বাবা বাড়িতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন । সবাই বাবাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন । বাবাকে লাবিব বলছে, বাবা যেন কান্না করা বাদ দিয়ে ❤️ 😂 😮 😢

রাব্বির হাম-হুমা কামা রব্বা ইয়ানী সগীর এই দোয়া পড়েন । সাহিল সেই ভাবেই নিস্তব্ধ হয়ে আছে । আমি মন থেকে চাইছি ও যেন কাঁদে । কিন্তু ও এভাবেই সারাদিন পার করলো । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

এশার নামায পড়ে সাহিল রুমে ঢুকলো । ওর চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখছি ওর চোখ মুখ ফুলে গিয়েছে । আমি খাটে পা নামিয়ে বসে আছি। সাহিল আমার পায়ের কাছে ফ্লোরে বসে আমার কোলে মাথা রাখলো । আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি । হঠাৎ সাহিল ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো । ওর কান্নার শব্দ যেন আমার হৃদয়কে ভেঙ্গে চুড়ে একাকার করে দিল । আমিও নিরবে কাঁদছি । আমি চাইছিলাম ও কান্না করে ওর মনটা যেন হালকা করে । আম্মু আর মা আমাদের রুমে প্রবেশ করলো । তারা দুজন সাহিলের মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত্বনা দিচ্ছে । সাহিল কিছুক্ষণ পর একটু শান্ত হলো । আমি ওর চেহারার দিকে তাকাতেই পারছিনা । আমি বুঝতে পারিনি ও এখন এতটা ভেঙ্গে পড়বে । আমি জোর করে সাহিলকে অল্প একটু খাবার খাইয়ে দিলাম । আমি বুঝতে পারছিনা আমি কি করে ওর কষ্ট কমাবো । এজন্য সাহিলকে বলছি বারবার আল্লাহর কাছে ধৈর্য্য চাও । আর নানাজ্বী আমাদের জানা মতে যে সুন্দরভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে তা কজনের নসীবে হয় । মৃত্য সত্য এজন্য আমাদের সবারও মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

ঐ দিকে দেখছি ওরা সাত বোন কেঁদে কেটে অস্থির । আসলে তিনদিন পর্যন্ত ধৈর্য্য সহজে আসতে চায় না । কিন্তু তিনদিন পর আল্লাহ যেন সবুরের পাথর দিয়ে অন্তরের সব কষ্ট চাপা দিয়ে ধৈর্য্য দিয়ে দেন । সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছি আমার নানুকে দেখে । আল্লাহ যে তার মধ্যে কি পরিমান ধৈর্য্য দিয়েছেন তা আল্লাহ মালুম । সে নিরবে কেঁদে যাচ্ছে । কিন্তু একটুকুও শব্দ করছে না । ভাইবোন কি জিনিষ তা শুধু যার আছে সে বুঝে । নানীমা নানাজ্বীর বড় আদরের বোন ছিল । আজ থেকে তার সেই আদরের ভান্ডার চিরজীবনের জন্য হারিয়ে গেল । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আমি আম্মু আর মামী সবাইকে অনেক বুঝিয়ে খাবার খাওয়ালাম । সায়লার বর আজকে রয়ে গিয়েছে । বেচারা চাচ্ছে তার বউকে শান্তনা দিতে । কিন্তু ওরা ছয় বোন তো সায়লাকে ঘিরেই আছে । বেচারা সাব্বির এজন্য কোন সুযোগ পাচ্ছে না । আমার ভাই তুষার আমার কাছে এসে আমাকে জড়িয়ে কাঁদছে । আম্মু এসে তুষারকে বুঝালো আমার শরীর ভাল না । এজন্য আমার কাছে যেন না কাঁদে । সত্যি আমার ভিরতটা ভেঙ্গে চুড়ে চুরমার হয়ে যাচ্ছে । কারণ আমার বুদ্ধি হওয়ার পর আমি আমার কোন আপনজনের মৃত্যু এত কাছ থেকে দেখিনি । আজ সাব্বিরকে সায়লার রুমেই থাকতে দেয়া হল । সায়লা বারবার কাঁদছিল সে সাব্বিরের সাথে এক রুমে থাকবে না । সাব্বির বেচারা লজ্জায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছে । আমি সাব্বিকে শুনিয়ে সায়লাকে বললাম, তোর বর যথেষ্ট বুঝে, সে এমন কিছু করবে না যাতে তুই কষ্ট পাবি । সাব্বির মাথা নিচু করে বসে ছিল । আসলে সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতি । সাব্বিরকে অন্য জায়গায় ও রাখা ঠিক হবে না । আর আমার বিশ্বাস সাব্বির বাড়ির পরিস্থিতি বুঝবে । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

মা যেন কি খুঁজছেন ? আমি মায়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই মা বললেন তার ফোন নাকি খুঁজে পাচ্ছেন না । এবার সাহিলের মামা বিদেশ থেকে আসার পর মাকে একটা স্মার্টফোন দিয়েছেন । কিন্তু ফোনটা কোথায় নেই । ফোনে রিং দিলে বন্ধ বলছে । তার মানে বুঝা যাচ্ছে কেউ সুযোগ বুঝে নিজের মনে করে নিয়ে গিয়েছে । এমনটা অহরহ হয় । আমার নানু বাড়ির পাশের বাড়িতে মানুষ মারা গিয়েছিল । তারা তো সবাই শোক পালনে ব্যস্ত । আর ঐ দিকে কে যেন তাদের ফোন টাকা আরও কি কি যেন নিয়ে গিয়েছিল । ❤️ 😂 😮 😢

হায়রে মানুষ! মৃত বাড়িতে এসে চুরি করে । একবার নিজের মৃত্যুর কথা স্মরন করে না যে, মরার পর আল্লাহর কাছে কি জবাব দিবে । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

পাশের বাড়ি থেকে সেহরি খাওয়ার জন্য খাবার দিয়ে গিয়েছে । গ্রামের মানুষ এ দিক থেকে খুব আন্তরিক । তারা একজনের বিপদের দিনে বুক আগলে দাড়িয়ে থাকে । এখানে নিয়ম মৃত বাড়িতে তিনদিন পর্যন্ত চুলা জ্বালানো যাবে না । কিন্তু এসব তো হাদিস কোরআনের কোন নিয়ম না । তারপরও মানুষ মেনে চলে। আমি আবার সেই আযান শুনতে পেলাম । এ কদিন শুনিনি কারন মা আমাকে একটু দেরী করে ডাক দিয়েছেন । দুদিন আগে সেহরির জন্য উঠেছি । এজন্য দুদিন যাবত আযান শুনতে পেয়েছি । ❤️ 😂 😮 😢

আজ বাবাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম । আযান দেয়ার কারন। ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আমি ঃ বাবা এই আযান কেন দেয়া হয় বললেন না তো । ❤️ 😂 😮 😢

বাবা ঃ এই আযান হচ্ছে রাসূল সাঃ একটা সুন্নত। ❤️ 😂 😮 😢

বাবা আর কিছু বলার আগেই দেখছি লাবিব দরজার কাছে থেকে সালাম দিয়ে বলতে শুরু ❤️ 😂 😮 😢

করলো । আমি আমার মাথার ঘোমটা লম্বা করে টেনে দিলাম । রুমের এক পাশে দাড়িয়ে লাবিবের কথাগুলো শুনছিলাম । ❤️ 😂 😮 😢

লাবিব ঃ আমাদের দেশে দেখা যায়, রমাযান মাসের মধ্যরাত থেকেই মুয়াজ্জিনগণ মাইকে কুরআন তিলাওয়াত, গজল, ইসলামী সঙ্গীত ইত্যাদি গাওয়া শুরু করে অথবা টেপ রেকর্ডার, মোবাইল, ইত্যাদি থেকে বক্তাদের ওয়াজ, গজল ইত্যাদি বাজাতে থাকে। সেই সাথে চলতে থাকে অনবরত ডাকাডাকি: রোযাদার ভায়েরা, মা ও বোনেরা, উঠুন, সেহরীর সময় হয়েছে, রান্নাবান্না করুন, খাওয়া-দাওয়া করুন” ইত্যাদি। অথবা কোথাও বা কিছুক্ষণ পরপর উঁচু আওয়াজে হুইশেল বাজানো হয়! ❤️ 😂 😮 😢

এর থেকে আরো আজব কিছু আচরণ দেখা যায়। যেমন, এলাকার কিছু যুবক রমাযানের শেষ রাতে মাইক নিয়ে সম্মিলিত কণ্ঠে গজল বা কাওয়ালি গেয়ে বা অডিও রেকর্ড বাজিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে চাঁদা আদায় করে অথবা মাইক বাজিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকে! এ ছাড়াও এলাকা ভেদে বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম দেখা যায়। ❤️ 😂 😮 😢

আমাদের জানা উচিত যে, শেষ রাতে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিচের আসমানে নেমে আসেন। এটি দুআ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ সময়। আল্লাহ তাআলার নিকট এ সময় কেউ দুআ করলে তিনি তা কবুল করেন। মুমিন বান্দাগণ এ সময় তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করেন, কুরআন তিলাওয়াত করেন, মহান আল্লাহ তাআলা তায়ালা দরবারে রোনাজারি-কান্নাকাটি করেন। ❤️ 😂 😮 😢

সুতরাং এ সময় মাইক বাজিয়ে, গজল গেয়ে বা চাঁদা তুলে এ মূল্যবান সময়ে ইবাদতে বিঘ্নিত করা নিঃসন্দেহে গুনাহর কাজ। এতে রোগী, শিশু বা যাদের উপর রোযা ফরয নয় তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এদের হাঁকডাকে অস্থির হয়ে অনেকে সেহরির শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্ব না করে আগে ভাগে সেহরি শেষ করে দেয়। ❤️ 😂 😮 😢

🔰 তাহলে আমাদেরকে জানতে হবে এ ক্ষেত্রে সুন্নত কি? ❤️ 😂 😮 😢

এ ক্ষেত্রে সুন্নত হচ্ছে, ফজরের আগে সেহরতির জন্য আলাদা একটি আযান দেয়া। এই আযান হল সেহরি খাওয়ার জন্য এবং তারপর ফজর সালাতের জন্য আরেকটি আযান দেয়া। ❤️ 😂 😮 😢

★রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে দুজন মুয়াজ্জিন নিয়োগ করা ছিল। যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ❤️ 😂 😮 😢

« إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ ، فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ » ❤️ 😂 😮 😢

“বেলাল রাতে আযান দেয়। অত:এব তোমরা বেলালের আযান শুনলে পানাহার করতে থাক ইবনে উম্মে মাকতুমের আযান দেয়া পর্যন্ত।” [বুখারী, অনুচ্ছেদ: ফজরের আগে আযান দেয়া। মুসলিম: অনুচ্ছেদ: ফজর উদিত হলে রোযা শুরু হবে……।] ❤️ 😂 😮 😢

★সহীহ মুসলিমের বর্ণনা রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ❤️ 😂 😮 😢

إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ لِيُوقِظَ نَائِمَكُمْ وَلِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ ❤️ 😂 😮 😢

“বিলাল রা. আযান দেয় এজন্য যে, যেন ঘুমন্ত লোক জাগ্রত হয় আর তাহাজ্জুদ আদায়কারী ফিরে আসে অর্থাৎ নামায বাদ দিয়ে সেহরি খায়।” সহিহ মুসলিম,কিতাবুস সওম, হা/ ১০৯৩) ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

সুতরাং এ দুটির বেশি কিছু করতে যাওয়া বিদআত ছাড়া অন্য কিছু নয়। ❤️ 😂 😮 😢

এজন্যই ওলামাগণ বলেছেন: “যেখানে একটি সুন্নত উঠে যায় সেখানে একটি বিদআত স্থান করে নেয়।” আমাদের অবস্থাও হয়েছে তাই। সুন্নত উঠে গিয়ে সেখানে নিজেদের মনগড়া পদ্ধতি স্থান দখল করে নিয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে পুনরায় সুন্নতের দিকে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আমি চুপ করে লাবিবের কথাগুলো শুনছিলাম । আমার মনে আরেকটা প্রশ্ন মাথায় এলো । ❤️ 😂 😮 😢

আমি ঃ আচ্ছা এই আযান দেয়া হলো এতে তো অনেক মানুষ আমার মত বিব্রত অবস্থায় পড়তে পারে । তার জন্য কি করা হবে ? ❤️ 😂 😮 😢

লাবিব আমাকে উত্তরে বলল, ❤️ 😂 😮 😢

লাবিব ঃ আচ্ছা আপনার এই প্রশ্নের উত্তর আমি দিচ্ছি । তার আগে আমি আপনাকে কি মামুনি বলে সম্মোধন করতে পারি । ❤️ 😂 😮 😢

আমি মাথা নাড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিলাম । লাবিব আবার বলতে লাগলো। ❤️ 😂 😮 😢

লাবিব ঃ আসলে এমন কিছু হঠাৎ করে চালু করা যায় না । কারণ এতে ফেৎনা হওয়ার আশঙ্কা থাকে । এজন্য আমি তিন জুমার খুৎবায় এ সম্পর্কে মসজিদে বয়ান দিয়েছি । যাতে মানুষ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পরে । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আমি আজ প্রথম শুনলাম এমন কথা । আমরা সত্যি ইসলাম থেকে কত দূরে আছি । আমরা গুরুত্বপূর্ন সুন্নত বাদ রেখে রমযান এলে তর্কে জড়াই তারাবির নামাজ বিশ রাকাত না আট রাকাত । তারাবিহ সুন্নত নাকি নফল । কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতের আমল করতে একদম ভুলে যাই । আবার নতুন কিছু জানলে বলি, নতুন হাদীস বের করছে । এটা যে কত বড় জাহেলিয়াতি কথা বার্তা । কারণ কেউ যদি রাসূলের নামে মিথ্যা রটায় তার স্থান হচ্ছে জাহান্নামে । তবে কেউ জেনে শুনে নিজেকে জাহান্নামের দিকে নিবে কেন ? আমাদের প্রত্যকের উচিৎ ইলম চর্চা করা । আমরা শুধু হুজুরের ভরসায় থাকি । আমাদের ঘরে কি কোরআন হাদিস নেই । তবে আমরা কেন নিজরা যাচাই বাচাই করি না কেন ? ❤️ 😂 😮 😢

আল্লাহ আমাদের সকলকে যেন সঠিক আমল করার তৌফিক দান করেন । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

সবাই সাহরি খাওয়া শেষ করলাম । সাব্বির বেচারা তো এত লজ্জা পাচ্ছে । কি আর বলবো ? একটু পর আরেকটা আযান পড়লো । ওরা সবাই মসজিদে নামাজ পড়তে চলে গেল । আমরাও সবাই নামায পড়ে নিলাম । সায়লা দেখছি আমার রুমে এসেছে । আমি মনে মনে ভাবছি ও কিছু বলবে । ❤️ 😂 😮 😢

---- কিরে সায়লা কিছু বলবি ? ❤️ 😂 😮 😢

------ হুম ❤️ 😂 😮 😢

---- হুম কি ? বরের নামে নালিশ আছে নাকি ? ❤️ 😂 😮 😢

----- না, বৌমণি ওনি না মানুষটা অত খারাপ না, আমি যতটা ভাবছিলাম । ❤️ 😂 😮 😢

------ ওহ্ তাই । তা বর রাতে কি বলল ? ❤️ 😂 😮 😢

------ ওনি আমাকে রাতে অনেক শান্ত্বনা দিয়েছে, না কান্না করার জন্য । আর সেদিনের জন্য সরি বলছে । আর বলছে আমি যেন তাকে দেখে ভয় না পাই । সে বলে কি, আমি তোমার বর কোন বাঘ ভাল্লুক না যে তোমাকে সামনে পেলে ছিড়ে খাব । আমি মানুষ এজন্য আমিও দুঃখ কষ্ট বুঝি। আর কখন কোন পরিস্থিতিতে কেমন আচারণ করতে হয় তাও জানি । এজন্য আল্লাহর দোহাই আমাকে সবার সামনে লজ্জায় ফেলো না । ❤️ 😂 😮 😢

------ খু্ব ভাল বলছে তো । তা তোর কি এখনো সাব্বির ভাইকে ভয় লাগে ? আর এখনও কি ক্যারেক্টালেস মনে হয় । ❤️ 😂 😮 😢

------ ধ্যাত তুমি যে কি বল না । ❤️ 😂 😮 😢

----- হুম, তা ঠিক দুদিন পর তো সাব্বির তোকে ভয় পাবে । ❤️ 😂 😮 😢

------ বৌমনি দাদা আমাদের ছেড়ে কিভাবে চলে গেল । দেখ আজ দুদিন হতে চললো । সব কিছু কেমন করে এলোমেলো হয়ে গেল । ❤️ 😂 😮 😢

----- কি আর করার বল । আল্লাহ আমাদের জন্য যা যা নির্ধারণ করছে । তা তো আমাদের জীবনে ঘটবেই । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আজ রবিবার । আজ থেকে সাহিলের অফিস শুরু। সেহেরি খেয়ে সাহিল আর সাব্বির ঢাকায় চলে যাচ্ছে । কারণ ৮ থেকে ওদের অফিস শুরু । ছোট চাচ্চু ওদের দুজনকে দিতে বাসস্ট্যান্ডে গেল । আজ আমার সাথে সাথে দেখছি সায়লারও চোখ ফোলা । বেচারি মনে হয় বরেব জন্য কাঁদছে । সায়লা আমাকে বলছে, বৌমনি জানো তো ওনি কাঁদলো তাই আমারও কান্না পাইছে । মনে মনে বলি, এটাই হালাল আর #বৈধ_ভালবাসা টান । স্বামীর স্ত্রী ব্যাথিত হয় আর স্ত্রীর জন্য স্বামী। ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আজ ১৯ রমযান । নানাজ্বী মারা যাওয়ার ১৮ দিন । সময় কোন দিক দিয়ে চলে যায় টের পাওয়া যায় না । আম্মুরা আজ উমরাহ করার উদ্দেশ্য রওনা হবেন । আমি বাড়ি যেতে চেয়েও পারিনি । আমার শরীরের যে কন্ডিশন বেশি জার্নি আমার জন্য ঠিক না । আম্মু ওরা আমার সাথে দেখা করে গিয়েছে । তুষার ভিষণ মন খারাপ করছে আমার উপরে আমি যাইনি কেন ? ভাবছি ৩১ শে মে আমার ডাক্তার দেখার ডেট সেদিন একবারে যাব । সায়লাকে আমার সাথে নিয়ে যাব আর বাড়িতে দুদিন থেকে চলে আসবো । নানুকে নিয়ে ভিষণ টেনশন হচ্ছে এমনিতেই বয়স্ক মানুষ । তার উপর এত বড় শোক গেল । এখন কি করে সব সামলাবে আল্লাহ মালুম । ❤️ 😂 😮 😢

আম্মু ওরা পৌছে গিয়েছে। ফোন করে জানিয়েছে । সাহিল নাকি ওদের সাথে এয়ারপোর্টে দেখা করছে । নানাজ্বী মারা যাওয়ার পর সাহিল আর আসতে পারেনি । অফিসে নাকি খুব কাজের প্রেশার চলছে । শুক্র শনি নাকি অফিস করতে হচ্ছে । একবারে নাকি ঈদের ছুটিতে ৩০ তারিখে আসবে। এসে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে । এক চিন্তা যেতে যেতে আরেক চিন্তা বাসা বাঁধে। জানিনা আমার বাচ্চার কি কন্ডিশন । কি হবে এসব ভেবে আমি অস্থির হয়ে যাই । ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

আজ সাহিল এসেছে । কাজের প্রেশার আর নানান চিন্তা ভাবনায় বেচারা কাহিল। আমি সাহিলকে সাব্বিরের কথা জিজ্ঞেস করলাম । সে নাকি সরাসরি বাড়ি চলে গিয়েছে । মনে মনে বলি বেচারার এসেই বা লাভ কি ? তাদের যা হওয়ার সব ঈদের পরেই হবে । যে বউ, বেচারা তো বউ দেখে ভিষণ ভয় পায় । ❤️ 😂 😮 😢

মুনা আপা ফোন করে চেম্বারে ডাকছে । আমি সাহিল আর সায়লা মুনা আপার হসপিটালে যাব । আমার ভয়ের শেষ নেই কি করব ? সাহিলও ভিষণ চিন্তায় আছে । কিন্তু আমাকে টের পেতে দিচ্ছে না । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল জুমার নামায শেষ করে আসার পর আমরা রওনা হলাম । আধা ঘন্টা পর আমরা হসপিটালে পৌঁছালাম । হসপিটালে দেখছি মামী তুষারকে নিয়ে এসেছে । মুনা আপু আমাকে আল্ট্রার রুমে ডাকলো । আমি ভয়ে মনে হয় কুঁকড়ে যাচ্ছি । আমার সাথে আল্ট্রার রুমে সাহিল ঢুকলো । আমাদের তিনজনের মাঝেই দুঃচিন্তার ছাপ । আপু আমার আল্ট্রা করছে আর বারবার দেখছে । এভাবে অনেকক্ষণ দেখার পর কিছু বলছে না । আপুর চোখ দেখছি জ্বলে ভিজে আসছে । আমি আর কিছু ভাবতে পারছিনা । সাহিল আপকেু জিজ্ঞেস করলো আমার কন্ডিশন কি ? আপু উত্তরে বলল, ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

. ❤️ 😂 😮 😢

চলবে...... ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8