বিয়ে পাগলের গল্প ( বৈধ ভালোবাসা )

বিয়ে পাগলের গল্প, পর্ব ৫১

♣#বিয়ে_পাগলের_গল্প : ❤️ 😂 😮 😢

♠#বৈধ_ভালবাসা ❤️ 😂 😮 😢

♣#পর্ব : ৫১ ❤️ 😂 😮 😢

♠#গল্পকার : #গল্প_বুড়ি_তিলোত্তমা ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

আমি মা আর সাহিল আল্ট্রা করতে আপু হসপিটালে গেলাম । আপু সব চেকাব করে বলল, সব ভাল আছে । মা আবার আপুকে বাচ্চার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলো, কি বাচ্চা ? ❤️ 😂 😮 😢

আপু বলল, একটা বাচ্চা মেয়ে আরেকটা বাচ্চা কি বুঝা যাচ্ছে না । ❤️ 😂 😮 😢

আমি খুশিতে আলহামদুলিল্লাহ বললাম । কারণ আমার মেয়ে বাবু অনেক পছন্দ । আল্লাহ দুটো মেয়ে দিল দিক কোন অসুবিধা নেই । সাহিল আর মা বেশ খুশি । ❤️ 😂 😮 😢

আমরা হসপিটাল থেকে বাসায় চলে আসলাম । মেঝ মা দেখছি আমাদের ঘরে বসে আছে । আমি মেঝ মাকে দেখেই বুঝতে পারছি, ওনি শুনতে এসেছে আমাদের কি বাবু হবে । কারণ মেঝ মা এসব ব্যাপারে আগ্রহের শেষ নেই । মেঝ মা মাকে দেখে জিজ্ঞেস করলো, ❤️ 😂 😮 😢

মেঝ চাচী ঃ কি গো বড় আপা আগামো কি হইবো, নাতি না নাতনি ? ❤️ 😂 😮 😢

মা ঃ ডাক্তার বলল, একটা নাতনি। আরেকটা কি বুঝা যাচ্ছে না । ❤️ 😂 😮 😢

মেঝ চাচী ঃ আরেকটা আবার কি হইবো, মেয়ে হইবো । এ বাড়িতে মাইয়া ছাড়া আর কি হইবো । আমাগো তো তিনবারে তিন মাইয়া । মিষ্টি তো একবারে দুইটা হইবো । ❤️ 😂 😮 😢

মা ঃ আমার নাতিন দুটা হোক আর পাঁচটা। হোক। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ যা দেয় আমি তাতেই খুশি । ❤️ 😂 😮 😢

মেঝ মা ঃ খুশি না হইয়া উপায় আছে । আল্লাহ না দিলে কি করার । সামিহার মার তো মনে হয় মাইয়া হইবো । এজন্য কিছু কয় না। ❤️ 😂 😮 😢

আমি ঃ মেঝ ছেলে কি মেয়ে কি ? এখন মানুষ এসব নিয়ে ভাবে না । এখন সবাই চায় সুস্থ সন্তান । আর কন্যা সন্তান হচ্ছে মা বাবার জন্য রহমত । আল্লাহ তো আমাদের বেশি ভালবাসে । এজন্য আমাদের এক সাথে দুটো মেয়ে দিবে। ❤️ 😂 😮 😢

মেঝ চাচী ঃ যত বল ছেলে মেয়ের ভেদাভেদ নাই । তারপরও ছেলে হল বংশের বাতি । ❤️ 😂 😮 😢

আমি ঃ ঠিক বলছেন মেঝ মা ছেলেরা হচ্ছে এক বংশের বাতি । আর মেয়েরা হচ্ছে দুই বংশের বাতি । ❤️ 😂 😮 😢

আমার কথা শুনে মেঝ মা চলে গেল । নানীমা বাচ্চাদের খবর শুনে খুশি হল । কিন্তু তারা আগের দিনের মানুষ তো প্রথম সন্তান তারা ছেলে আশা করেন। তার মধ্যে সাহিলদের বাসায় ছেলে ঐ একমাত্র । এজন্য এরা বংশ রক্ষা হবে কি না এসব চিন্তা করে । ❤️ 😂 😮 😢

আম্মুকে ফোন করে জানিয়ে দিলাম তার নাতনি হবে । আম্মু তো শুনে বেশ খুশি । আম্মু আমাকে একটা খুশির খবর দিল । মামী নাকি দুবাই থেকে ফোন করছিল,মামী নাকি আবার কনসিভ করছে । আম্মুকে দোয়া করতে বলছে, তার যেন এবার মেয়ে হয় । সত্যি আল্লাহ মানুষকে কত ভাবে পরীক্ষা করেন। কারো কতগুলো ছেলে থাকে মেয়ের জন্য হাহাকার করে । আবার কারো মেয়ে থাকে বলে ছেলের জন্য হাহাকার করে। এর মাঝে আবার অনেকে একটা সন্তানের জন্য হাহাকার করে । আর আল্লাহর যাকে যেমন ইচ্ছা রাখেন। আর যাকে যেমন ইচ্ছা হয় সন্তান দান করেন । ❤️ 😂 😮 😢

ডিসেম্বরের লাস্টের দিকে আমার ডেলিভারি ডেট । সাহিলের ইচ্ছা আমাকে নভেম্বরের ফাস্ট উইকে ঢাকা নিয়ে যাবে । আজ নভেম্বরের ১ তারিখ । সাহিল বলছে নভেম্বরের ৮ তারিখে আমাকে ঢাকা নিয়ে যাবে। হাতে আর একটা সপ্তাহ । মা আর আম্মু যা যা পারছে সব গুছিয়ে দিচ্ছে । আর দুজনে মিলে কত কি যে খাওয়াচ্ছে । খেতে খেতে আমার অরুচি ধরে যাচ্ছে । কিন্তু এরা তৈরী করতে অস্থির হচ্ছে না । ❤️ 😂 😮 😢

মা আমাকে এসে বললো ছোট মার নাকি লেভার পেইন শুরু হইছে । মা নাকি তাকে নিয়ে হসপিটালে যাবে । আমিও মাকে দেরী না করে তাড়াতাড়ি যেতে বললাম । আমি বাড়িতে বসে বসে দোয়া পড়ছি আল্লাহ যেন সব কিছু ভাল ভাবে করেন । মা আমাকে বিকালের দিকে ফোন করে বলল, আল্লাহর রহমতে নরমাল ডেলিভারীতে ছোট মার ছেলে হইছে । আমার ছোট মার খবরটা শুনে এত খুশি লাগলো । কি আর বলবো ? আমি আর ছোট মা আগে থেকেই জানতাম । কিন্তু আমরা আগেই কাউকে কিছুই বলিনি । ❤️ 😂 😮 😢

আমি নানীমাকে গিয়ে খবরটা জানালাম । নানীমা খুশি হয়ে কেঁদে দিলেন । আর বললেন, আজ ওগোরে দাদা বাঁইচা থাকলে কত খুশি হইতো । সত্যি আজ নানাজ্বী বেঁচে থাকলে পুরা বাড়িতে খুশির ধুম পড়তো । ❤️ 😂 😮 😢

আমি সায়লা আর সাহিলকে খুশির খবরটা ফোন করে জানালাম । একটু পর দেখছি আম্মু ফোন করছে । আম্মুকেও খবরটা বললাম । ❤️ 😂 😮 😢

পরের দিন সকালে ছোট মা ওরা হসপিটাল থেকে আসলো । আমাদের বাড়ি ভর্তি লোক হয়েছে বাবু দেখার জন্য । বাবুটা মাশাআল্লাহ সত্যি খুব সুন্দর হইছে । সবাই তো বাবুটাকে দেখে বলছে,নানাজ্বী নাকি আবার ফিরে আসছে । আমি তাদের কথা শুনে হাসছি । কারণ আজকালের দিনের সনাতন ধর্মের লোকেরাও পুনঃজম্ম বিশ্বাস করে না । কিন্তু আমরা মুসলিমরা হাস্য ছলে সেই পুনঃজন্ম বিশ্বাস করছি । অনেকে হয়তবা বলবে, এটা এমনি বলছে । কিন্তু হাস্য ছলে কথা বলাতেও যে আমাদের শিরক হয়, কুফরি হয়, আর কবীরা গুনাহ হয় । তা আমরা একবারও চিন্তা করি না । ❤️ 😂 😮 😢

ছোট মা তার ছেলের নাম রাখার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে, আমি পিচ্চির নাম রাখলাম সিয়াম বিন সাঈদ । সবার নাকি নাম পছন্দ হইছে । ছোট চাচ্চু তো খুশিতে সারা গ্রামে মিষ্টি বিতরণ করছে । তিন মেয়ের পর ছেলে খুশিটা একটু বেশি । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল আজ ঢাকা থেকে আসবে । প্রত্যেক বার সাহিল আসার কথা শুনলে আমার মনে খুশি লাগে । কিন্তু এবার বুকের ভিতর ধুকপুক করছে । কারণ ওর সাথে এবার আমাকে ঢাকা চলে যেতে হবে । ঐ দিকে তো আমার ননদিনীর খুশির যেন সীমা নেই । এই মাসের লাস্টের দিকে আমার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল । কিন্তু এই অবস্থায় আমার বর পরীক্ষা দিতে দিল না । আর আমিও জোরাজোরি করলাম না । কারণ বাচ্চা পেটে আসার পর থেকে যা যা হল । এখন আর নতুন করে কোন বিপদ বাড়াতে চাইনা । ❤️ 😂 😮 😢

আমি ঢাকা চলে যাবো দেখে আম্মু নানু আর তুষার আসছে । এদিকে তুষারের টেস্ট পরীক্ষা শুরু হবে শনিবার থেকে । তারপরও ওরা আসছে । নানু মনে হয় এই বাড়িতে থাকবে । আর মা আমার সাথে এক সপ্তাহের জন্য ঢাকা যাবে । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল বাড়ি আসার পর দেখছি তার খুশির সীমা নাই । তার সাথে আমাকে ঢাকা নিয়ে যাবে সে সেই খুশিতেই গদোগদো । আমি মরছি আমার জ্বালায় । আমি ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসে চুল চিরুনি করছি। সাহিল আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছে । আমি বুঝতে পারছিনা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে কেন ? ❤️ 😂 😮 😢

আমিও জিজ্ঞেস করলাম,, ❤️ 😂 😮 😢

---- এই আমার দিকে তাকিয়ে হাসছো কেন ? ❤️ 😂 😮 😢

------ না এমনি হাসছি । ❤️ 😂 😮 😢

------ মিথ্যা বলছো কেন ? সত্যি কথা বল বলছি । ❤️ 😂 😮 😢

----- না মানে ভাবছি, এই ছোট্ট মানুষটার পেটে দুই দুটো বাবু । ভাবা যায় । ❤️ 😂 😮 😢

------ কেন আমাকে দেখতে মনে হয় আজব মনে হয় ? ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল আমার কাছে এসে গাল টেনে বলছে, ❤️ 😂 😮 😢

----- তোমাকে দেখতে আজব লাগবে কেন ? বাবুর মায়েদের দেখতে কি কখনও আজব লাগে ? বাবুর মা তো কিউট হয় । ❤️ 😂 😮 😢

----- হুম তা বুঝলাম । ঢাকা গেলে আমার সময় কাটবে কি করে ? ❤️ 😂 😮 😢

----- সেজন্য তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে । ❤️ 😂 😮 😢

----- ঠিক আছে সারপ্রাইজের অপেক্ষায় রইলাম। ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল প্রাইভেট কার রিজাভ করছে । ফযরের নামায পড়ে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হব । কারণ রাস্তায় যে পরিনাম যানজট থাকে । এজন্য সকাল সকাল রওনা হওয়া ভাল। আম্মু কাল রাত থেকে কান্না করছে । মা তো, এত দিন তবুও তো কাছাকাছি ছিলাম । আমাকে দেখতে ইচ্ছে হলেই আসতে পারতো । কিন্তু এখন তো তা সহজে সম্ভব না । সবার কাছ থেকে ক্ষমা আর দোয়া নিয়ে রওনা হলাম । কারণ গর্ভবতী মহিলাদের মৃত্যু তার মাথার কাছে থাকে । এজন্য সবার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিলাম । ❤️ 😂 😮 😢

রাস্তায় গাড়ীতে বসে থাকতে অস্থির লাগছে । সাড়ে ৩ ঘন্টা পর ঢাকা গিয়ে পৌঁছালাম । সায়লা তো আমাকে দেখে খুশিতে পাগল হওয়ার অবস্থা । তিন তলায় আমাদের ফ্লাট । এখন আমাকে তিন তলায় সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে। সাহিল অবশ্য কোলে করে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি উঠিনি । কারণ একে তো সবার সামনে লজ্জার ব্যাপার । আর বাইচান্স যদি সিঁড়িতে ওর পা ফোসকে যায়। তবে তো যা হবে তা ভাবতেই গা শিঁউরে উঠে । আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেড়ে তিন তলায় উঠলাম। তিন তলায় উঠার মনে হয় আমার জান বের হয়ে যাবে । এত অস্থির লাগছিল । সাহিল আমাকে একটা চেয়ার টেনে দিল বসার জন্য । ঘরের চারপাশ তাকিয়ে দেখছি। সায়লা খুব সুন্দর করে ওর সংসারটা গুছিয়েছে । ❤️ 😂 😮 😢

সায়লা আমাকে ঠান্ডা পানি আর শরবত দিল খাওয়ার জন্য । ঠান্ডা পানি খাওয়ার পর যেন একটু স্বস্তি লাগছে । সাহিল আমাকে রুমে নিয়ে গেল । আমি রুমে গিয়ে আবায়া খুলে রুমটা দেখছি । আমার বর দেখছি রুমটা খুব সুন্দর করে গুছিয়ে রাখছে । সাহিল আমাকে বলছে, ❤️ 😂 😮 😢

----- কি রুম পছন্দ হয়েছে ?. ❤️ 😂 😮 😢

----- হুম । ❤️ 😂 😮 😢

মনে মনে বলি আমার রুমের চেয়ে সুন্দর না । কি ছোটখাটো রুম, চারদিকে উচু দালান । আকাশ দেখার উপায় নাই । শহরে সব কিছুই কেমন জানি অন্য রকম । আমার কেমন জানি দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমার রুমের বারান্দায় গিয়ে তাকালেই নিচে সবুজ মাঠ আর উপরে নীল আকাশ । এসব দেখলেই যেন মনে প্রশান্তি লাগে । ❤️ 😂 😮 😢

জানি না কতদিন এখানে থাকতে হবে । ❤️ 😂 😮 😢

----- কি ব্যাপার কি ভাবছো ? ❤️ 😂 😮 😢

------ এই তো ভাবছি কতদিন এখানে থাকতে হবে। ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল আমার দিকে তাকিয়ে হেসে দিয়ে বলল, ❤️ 😂 😮 😢

----- এলে তো ১ ঘন্টাই হল না । এখনি যাওয়ার জন্য অস্থির । ❤️ 😂 😮 😢

----- কি করবো বল । সবার কথা যে খুব মনে পড়ছে । ❤️ 😂 😮 😢

------ সবার জন্য মন খারাপ লাগছে । কিন্তু আমার কাছে এসেছো তাতে খুশি লাগছে না । ❤️ 😂 😮 😢

আমি একগাল হেসে আর কিছু বললাম না । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল ওয়াশরুমে ঢুকলো । সায়লা এসে দরজা নক করলো । আমি ওকে ভিতরে আসতে বললাম । সায়লা তো আমার জন্য কি করবে না করবে ভেবে পাচ্ছে না । সায়লাকে সাব্বির ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করতেই বললো, বেচারা সাব্বির ভাইকে নাকি এই সকালবেলা বাজারে পাঠাইছে বাজার করার জন্য । মেয়েটা মনে হয় আমার সাথে সাথে সবাইকে পাগল করে দিবে । সায়লা আমাকে বারবার বলছে, ❤️ 😂 😮 😢

---- বৌমনি আমি তোমার জন্য কি করবো গো ? ❤️ 😂 😮 😢

আমি সায়লাকে আমার পাশে বসিয়ে বললাম, ❤️ 😂 😮 😢

------ আমার জন্য যা করার আমার বাবু হওয়ার পর করবি । আমার বাবু হওয়ার পর যদি আমার কিছু হয় । তুই আমার বাবু দুটোকে আদরযত্ন দিয়ে বড় করিস । এতটুকু আমার জন্য করলে আমি বেশি খুশি হব । ❤️ 😂 😮 😢

----- বৌমনি তুমি এসব কি বল । ইংশাআল্লাহ তোমার কিছু হবে না । ❤️ 😂 😮 😢

------ হুম, কিন্তু কিছু যে হবে না, তার তো কোন নিশ্চয়তা নেই । আর তোর ভাইয়ার জন্য আরেকটা মিষ্টি ভাবী আনবি । ❤️ 😂 😮 😢

সায়লা আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল । আর বললো,, ❤️ 😂 😮 😢

------ দাদাইয়ের জন্য টাংগাইলে এই একটা মিষ্টি পারফেক্ট । আর কোন মিষ্টি দাদাইয়ের সাথে ম্যাচ হবে না । আর এমন পঁচা কথা আরেকবার বললে দাদাইকে বলে দিব কিন্তু । ❤️ 😂 😮 😢

আমি সায়লাকে জড়িয়ে ধরে আদর করলাম । আর মনে মনে ভাবছি, জানিনা কেন জানি আজকাল আমার মৃত্যুর চিন্তাটা মাথায় বেশি ভর করছে । রাতে বেলায় তো একদম ঘুম হয় না । শুধু বিছানায় এপাশ ওপাশ করি । আমার জন্য বেচারা সাহিলও ঘুমাতে পারে না । আগে সাহিলের বুকে মাথা রাখলেই ঘুম এসে আমাকে আঁকড়ে ধরতো । আর এখন চিন্তা এসে বাসা বাঁধে আমার কিছু হলে ও নিজেকে কি করে সামলাবে? আল্লাহকে বলি শুধু বিপদে ধৈর্য্যধারনের ক্ষমতা দিও সবাইকে। ❤️ 😂 😮 😢

বাবা এসেছে মাকে নেয়ার জন্য । মা সাতদিন থেকেই চলে যাচ্ছে । আজ মনটা আরও বেশি খারাপ লাগছে । আম্মু তো আসতে পারবে না । তুষারের পরীক্ষার জন্য । সব মিলিয়ে টেনশনে আছি । কারণ একজন মুরব্বি পাশে র ❤️ 😂 😮 😢

না থাকলে হয় না । ❤️ 😂 😮 😢

আজ সায়লা আমাকে চেকাব করানোর জন্য সিএমএইচে নিয়ে এসেছে । ডাঃ মেজর হাফসা আমাকে দেখার পর সব নরমাল বলবো। টুইন বেবিতে নরমাল ডেলিভারিতে রিস্ক আছে । এজন্য বললো সিজার করতে হবে । আর আমরা যেন ব্লাড ডোনারের লোক ঠিক করে রাখি । আর ডিসেম্বরের ২৯ তারিখে ভর্তি হতে বলল আর ৩০ তারিখে নাকি সিজার করবে। কারণ এখানে সোমবার আর বুধবার সিজার করা হয় । আর ইমার্জেন্সি রোগীর ব্যাপার আলাদা । ❤️ 😂 😮 😢

সিজারের কথা শুনলেই আমার ভয় করে । আল্লাহর কি লীলা, যারা রাস্তাঘাটে বাচ্চা ফেলে দিচ্ছে তাদের সিজার করতে হচ্ছে না । নরমাল ডেলিভারিতে বেবি হয়ে যাচ্ছে । আর বিবাহিতদের যেন আজকাল সিজার ছাড়া বাচ্চাই হচ্ছে না । আল্লাহ মানুষকে পাপ ঢাকার সুযোগ দিচ্ছে । আর তারা ভাবছে আর মনে হয় এর জবাবদিহিতা দিতে হবেনা । এজন্য অনায়াসে পাপ করেই যাচ্ছে । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল আমার জন্য ইবনে কাসীরের তাফসির কিনে রাখছে । আমি সূরা মরিয়মের তাফসির পড়ছি । হঠাৎ বাবুরা পেটে লাথি মেরে দিল । ব্যাথা আমি কুঁকড়ে গেলাম । কি অসহ্য ব্যাথা করছিল । ❤️ 😂 😮 😢

আমি ভাবছি মরিয়ম আঃ কতটুকু কষ্ট করছে । এজন্য তিনি কষ্টের মাঝে সূরা মরিয়মে ২৩ নাম্বার আয়াতে বলেছিল, ❤️ 😂 😮 😢

হায় আমি যদি কোন রূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম । ❤️ 😂 😮 😢

তার এই আর্তনাত যে কত কষ্ট থেকে করছিল তা এই আয়াতটা পড়েই বুঝা যায় । একটা মেয়েকে মা হতে হলে কত কষ্ট করতে হয় । ৫৭ ইউনিট ব্যাথা সহ্য করে সন্তান জন্ম দিতে হয়। এই ৫৭ ইউনিট ব্যাথা ২০ হাড় ভাঙ্গার সমান ব্যাথা । মায়েরা এতটুকু কষ্ট সহ্য করতে পারেন বলেই । আল্লাহ মেয়েদের মা হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন । আর এজন্য আল্লাহ তায়ালা মায়ের এত মর্যাদা দিয়েছেন । ❤️ 😂 😮 😢

হঠাৎ সাহিল আমার অবস্থা দেখে পাশে বসে জিজ্ঞেস করছে,, ❤️ 😂 😮 😢

----- কি হইছে সোনা ? ❤️ 😂 😮 😢

------ কিছু না , তোমার বাবুরা দুষ্টুমি করছে । আমাকে বারবার লাথি মারছে । ❤️ 😂 😮 😢

------ দাড়াও বাবুগুলোকে পেট থেকে বের হতে দাও । তারপর দুটোকে মজা দেখাবো । ❤️ 😂 😮 😢

------ এই তুমি আমার বাবুদের কি করবে ? ❤️ 😂 😮 😢

------ কি করব মানে মাইর দিব । বাবুর আম্মুকে বাবুর বাবা মারে না। আর বাবুরা বাবুর আম্মুকে মারবে এটা বাবুর আব্বু সহ্য করবেনা । ❤️ 😂 😮 😢

----- কি তুমি আমার বাবুদের মাইর দিবে । যাও তোমার সাথে কোন কথা নাই । ❤️ 😂 😮 😢

----- ওহ্, যার জন্য করি চুরি, সেই বলে চোর । ❤️ 😂 😮 😢

আমি যে বাবুর আম্মুকে খুব ভালবাসি গো । ❤️ 😂 😮 😢

আমি সাহিলের বুকে মাথা রেখে বললাম, ❤️ 😂 😮 😢

------ আমিও বাবু আর বাবুর আব্বুকে খু্ব ভালবাসি গো । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল আমার কথা শুনে বলল, ❤️ 😂 😮 😢

----- ওহ্, বাবুরা দুনিয়াতে আসার আগেই বাবার মাঝখানে চলে আসছে । ❤️ 😂 😮 😢

আমি মৃদু হেসে সাহিলকে কিছু কথা বললাম, সাহিল চুপ করে আমার কথাগুলো শুনছিল । আমি সাহিলকে বললাম,, ❤️ 😂 😮 😢

----- জানিনা আমার অজান্তে আমি তোমার কোন কোন হক নষ্ট করছি । প্লিজ আমাকে ক্ষমা কর । মনের ভিতর কোন কষ্ট পুষে রেখ না । ❤️ 😂 😮 😢

সাহিল আমার মুখ ছাপিয়ে ধরে অঝরে কেঁদে দিল । আজকাল আমার বরটা আমার চেয়ে বেশি ছিঁচকাঁদুনে হইছে । ❤️ 😂 😮 😢

আমি সাহিলকে আবার বললাম, ❤️ 😂 😮 😢

---- যাই করনা কেন ? আমার বাবু হওয়ার পর বাবা হিসেবে তোমার কিছু দায়িত্ব আছে । আমার অবস্থা যেমনি থাক না কেন । তোমাকে সেই দায়িত্বগুলো পালন করতে হবে। বাবু হওয়ার পর পর তাদের কানে কালিমা আর আকামত দিবা। কেননা বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়ার পর বাচ্চার কানে কালিমা আর আকামত দিয়ে নামাযের প্রতি আহ্ববান করতে হয়"!! "! সে ছেলে হোক বা মেয়ে!" কারন নর নারী সবার জন্য সলাত্ব কায়েম করা ফরয""! ❤️ 😂 😮 😢

আর বাবা মা হিসেবে আমাদের কাছে তিনটি হক আছে। সেই তিনটি হক তুমি পূরণ করবা। ❤️ 😂 😮 😢

সন্তান জন্মের পর পিতামাতার কাছে সন্তানের প্রধান তিনটি হক: ❤️ 😂 😮 😢

! ❤️ 😂 😮 😢

১. সুন্দর অর্থ দেখে বাবার সাথে যুক্ত করে নাম রাখা""। কারন হাশরের মাঠে বাবার নামের সাথে যুক্ত করে ডাকা হবে""! ❤️ 😂 😮 😢

! ❤️ 😂 😮 😢

২. সামর্থ্য থাকলে যথা তাড়াতাড়ি ৭ দিনের মধ্যে আকীকা করে দেয়া"""! ❤️ 😂 😮 😢

! ❤️ 😂 😮 😢

৩. ইসলামী শরীয়ামত তার লালন পালন করা""" ❤️ 😂 😮 😢

কি করবে তো বল ? সাহিল কথা না বলে মাথা নাড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিল । আমি জানি আমার বরটা খুব ইমশোনাল হয়ে গিয়েছে । এজন্য কথা বলছিল না । ❤️ 😂 😮 😢

আমি আবার সাহিলকে ডাঃ সব কথা গুলো বললাম । সাহিল বলল, B+ ব্লাড গ্রুপ নাকি সাব্বির ভাইয়ের ও। আর ওর অফিসে আরও দুটো কলিগ আছে তাদের ও একি ব্লাড গ্রুপ। এজন্য ব্লাড ডোনার নিয়ে কোন প্রবলেম হবে না । ❤️ 😂 😮 😢

এখন ডিসেম্বর মাস চলছে । হালকা শীত পড়তে শুরু করছে । তুষারের রেজাল্ট হয়ে ফর্ম ফিলাপ হয়ে গিয়েছে । এজন্য আম্মু নাকি এই সপ্তাহে আমাকে দেখতে ঢাকা আসবে। এর মাঝে ১৬ ই ডিসেম্বরের বন্ধ আছে । তুষারকে নিয়ে আম্মু আসবে। আমার কি যে খুশি লাগছে আম্মু আসছে বলে । কতদিন হল আম্মু আর তুষারকে দেখিনা । ❤️ 😂 😮 😢

১৫ ডিসেম্বর আম্মু ওরা এসেছে । আমার শরীর কেন জানি বেশি ভাল লাগছে না । আম্মু আমার পাশে বসে মাথায় তেল লাগিয়ে দিচ্ছে । অনেকদিন পর আম্মুর এভাবে মাথায় তেল লাগিয়ে দেয়াতে খুব শান্তি লাগছে । বারবার তন্দ্রা তন্দ্রা ভাব আসছে । ❤️ 😂 😮 😢

আম্মু আমাকে বলল, ডাক্তার কি বলছে ? আমি আম্মুকে সব কথা বললাম । আম্মু বলল, তার মনে হচ্ছে ডেটের আগেই নাকি আমার বাবু হয়ে যাবে। আমি আম্মুর কথা শুনে হেসে দিলাম। ❤️ 😂 😮 😢

আজ রাতে শোয়ার পর কোন মতেই ঘুম আসছে না । বিছানায় আজ শরীর একদম রাখতে পারছিনা । শুধু রুমের ভিতর পায়চারি করছি । সাহিল দেখছি বেঘোরে ঘুমাচ্ছে । আমি আসার পর থেকে ওর ঠিকমত ঘুম হয়না । বিছানায় একজন না ঘুমালে আরেকজনের ঠিকমত ঘুম হয় না । এই হালকা শীতের মাঝেও আমি ফ্যান চালাচ্ছি । তারপরও আমার শরীর ঘেমে যাচ্ছে । পেটে কেমন জানি চিনচিন ব্যাথা করছে । একপর্যায়ে ব্যাথার পরিমাণ বেড়ে গেল । আমি মনে মনে ভাবছি আম্মুর কথা মনে হয় সত্যি । রাত ৩ টার দিকে আমি সাহিলকে ডাক দেই । সাহিল আমার অবস্থা দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে যায় । সাহিল তাড়াতাড়ি আম্মু আর সায়লাকে ডাক দেয় । ওরা এসে দেখছে আমি ব্যাথায় কাতরাচ্ছি । আম্মু আমার অবস্থা দেখে সাহিলকে তাড়াতাড়ি এম্বুলেন্সের জন্য ফোন করতে বললো । সবি আল্লাহর রহমত । কারণ আম্মু আসার পর আমার এমন হল । যদি আম্মু না থাকতো তবে কি করে আমরা কি করতাম । আমরা কিছুই বুঝতাম না । ❤️ 😂 😮 😢

আম্মু কেন জানি কাল আসার পর আমার সব প্রয়োজনীয় সব জিনিস একটা ব্যাগে গুছিয়ে রাখছে । হয়তবা এটাই আল্লাহর ইশারা ছিল । আম্মু আমাকে জমজমের পানির সাথে মরিয়ম ফুল ভিজিয়ে পানি খাইয়ে দিল । ❤️ 😂 😮 😢

একটু পর নিচে গেটের কাছে এম্বুলেন্স এর শব্দ পাওয়া গেল । সাহিল আমাকে কোলে করে এম্বুলেন্স পর্যন্ত নিয়ে গেল । ❤️ 😂 😮 😢

বাসা থেকে সি.এম.এইচ এ যেতে ১০ মিনিট সময় লাগলো । আমাকে তাড়াতাড়ি করে সি.এম.এইচ এর লেবার রুমের দিকে নেয়া হল । আমি শুধু সাহিলের হাতটা শক্ত করে ধরে ছিলাম । কিছুই বলতে পারিনি । আমি নিজে নিজে শুধু দোয়া পড়ে যাচ্ছি । আজ ১৬ ডিসেম্বর বলে বেশির ভাগ ডাক্তার ছুটিতে । আল্লাহর অশেষ রহমতের কারণে আজ ডাঃ মেজর হাফসা ডিউটিতে আছেন । তিনি আমার অবস্থা দেখে বললেন, আমার সিজার করা সম্ভব না । সিজার করলে বাচ্চা কাটা পড়ার সম্ভবনা আছে । সব মিলিয়ে একটা থমথমে পরিবেশ । লেবার রুমে নেয়ার ১৫ মিনিট পর আমার প্রথম মেয়েকে জন্ম দিলাম । তারপর কেন জানি আমার দেহ একদম নিথর হয়ে গেল । শরীরে মনে হয় আর কোন শক্তি অবশিষ্ট নেই । মেয়ের মুখটা আমি আবছা আবছা দেখছিলাম । মেয়ে জন্মের পর ২৫ মিনিট সময় অতিবাহিত হল । আমার আর পুশ করার ক্ষমতা নেই । আর যে সিচুয়েশন সিজার সম্ভব না । সব মিলিয়ে এক বিপদজনক অবস্থা । ডাঃ হাফসা আমার মেয়েকে আমার কাছে এনে বলল, তোমার এই রকম আরেকটা সন্তান আছে । তুমি চেষ্টা কর, তুমি তোমার শরীর ছেড়ে দিলে তাকে আমরা বাঁচাতে পারবো না । তুমি তার কথা একবার ভাবো । ❤️ 😂 😮 😢

প্রায় অজ্ঞানের মত হয়ে তার কথাগুলো শুনছিলাম । আল্লাহর কাছে খুব মনোবল নিয়ে সাহায্য চাইলাম । আর মনে মনে বললাম, আমার জীবনের বিনিময়ে আমার বাচ্চাদের বাঁচিয়ে দাও আল্লাহ । ওদের জন্য তো দীর্ঘ সাড়ে নয় মাস কষ্ট করলাম । এই কষ্টের প্রতিদান কি তুমি আমাকে দিবে না । মনে হল কোথা থেকে জানি আমার শরীরে শক্তি সঞ্চার হল । তার কিছুক্ষন পর আমার দ্বিতীয় সন্তানকে জন্ম দিলাম । আমি জানিনা আমার দ্বিতীয় সন্তান কি হইছে, ছেলে নাকি মেয়ে । ❤️ 😂 😮 😢

আমি এখন জীবন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি। প্রচুর পরিমানে ব্লিডিং হওয়ার ফলে আমার শরীর প্রায় রক্ত শূন্য । শুধু এখন ভাবছি এই মনে হয় জীবনের শেষ সময় । কেন জানি বারবার আম্মু আর সাহিলের মুখটা ভেসে আসছে । আর আব্বু মনে হয় দুহাত বাড়িয়ে এগিয়ে আমাকে ডাকছে, তার কাছে যাওয়ার জন্য । পিছন ফিরে তাকাতেই দেখছি সাহিল আমার হাতটা শক্ত করে ধরে আছে । ❤️ 😂 😮 😢

তারপর আমার সাথে কি হল আমি কিছুই জানিনা । ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

চলবে,,,,,,,,,, ❤️ 😂 😮 😢

🎁🎁🎁 ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

♦ ❤️ 😂 😮 😢

সবার কেমন লাগলো? ❤️ 😂 😮 😢

Advertisement
Ad Space Available
Previous Next
Join the Chapter Discussion
SPEED
18px
1.8